28 C
Kolkata
October 30, 2026
খেলা

সিরিজ জিতেও বড় হার ভারতের, বোলিং ব্যর্থতা স্বীকার শ্রেয়সের

অকল্যান্ড— প্রথম তিনটি ম্যাচ জিতে আগেই টি-টোয়েন্টি সিরিজ নিজেদের দখলে নিয়েছিল ভারত। কিন্তু শুক্রবার চতুর্থ ম্যাচে ৮৭ রানে হারের মুখে পড়ল শ্রেয়স আয়ারের দল। অকল্যান্ডের ইডেন পার্কে নিউ জিল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম তিন ম্যাচের দাপট ধরে রাখতে পারেনি ভারতীয় দল। হারের পর দলের বোলিং ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে নিয়েছেন অধিনায়ক শ্রেয়স। বিশেষ করে পাওয়ার প্লের তৃতীয় ওভার থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হাতছাড়া হয় বলে মনে করছেন তিনি। মাঠের অস্বাভাবিক মাপের সঙ্গে দলের কয়েক জন ক্রিকেটার মানিয়ে নিতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন ভারত অধিনায়ক।

প্রথমে ব্যাট করে গ্লেন ফিলিপসের বিধ্বংসী শতরানের সুবাদে ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ২৫৯ রান তোলে নিউ জিল্যান্ড। মাত্র ৪৯ বলে ১০৭ রানের ইনিংস খেলেন ফিলিপস। তাঁকে যোগ্য সঙ্গ দেন মাইকেল ব্রেসওয়েল। মাত্র ২৫ বলে ৬৫ রান করেন তিনি। দু’জনের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে বড় রানের পাহাড় গড়ে স্বাগতিক দল।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই বিপাকে পড়ে ভারত। প্রথম ওভারেই সাজঘরে ফেরেন সঞ্জু স্যামসন ও ঈশান কিষান। পাওয়ার প্লের মধ্যেই চার উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় দল। শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ১৭২ রানের বেশি করতে পারেনি ভারত। ফলে ৮৭ রানের বড় জয় পায় নিউ জিল্যান্ড।

ম্যাচের পর শ্রেয়স বলেন, দলের বোলিং প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। বিশেষ করে পাওয়ার প্লের তৃতীয় ওভারে নিউ জিল্যান্ড যে গতি পেয়ে যায়, তা আর থামানো সম্ভব হয়নি। কয়েক জন বোলার রান আটকে দেওয়ার চেষ্টা করলেও সফল হননি। ফিলিপসের ব্যাটিংয়েরও ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি। তাঁর মতে, ফিলিপসের কয়েকটি শট ছিল অসাধারণ। গোটা সিরিজেই ভাল খেলেছেন নিউ জিল্যান্ডের এই ব্যাটার। তাঁর কাছ থেকে শেখার মতো অনেক কিছু রয়েছে।

তবে ভারতের ব্যাটিং বিপর্যয় নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি অধিনায়ক। যদিও ২৬০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে প্রথম ওভারেই দুই ওপেনারকে হারানো যে দলের জয়ের সম্ভাবনায় বড় ধাক্কা দিয়েছিল, তা স্পষ্ট।

পরের ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য দ্রুত ভুল শুধরে নেওয়ার উপর জোর দিয়েছেন শ্রেয়স। তাঁর বক্তব্য, দলের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করে কোথায় সমস্যা হয়েছে, তা চিহ্নিত করতে হবে। হাতে সময়ও খুব বেশি নেই। এক দিনের বিরতির পরেই হ্যামিল্টনে পরের ম্যাচ খেলতে নামবে ভারত। তাই দ্রুত নিজেদের পরিকল্পনা ঠিক করে মাঠে তার প্রয়োগ করতে হবে।

অকল্যান্ডের ইডেন পার্কের মাঠের মাপ নিয়েও কথা বলেছেন শ্রেয়স। রাগবি খেলার উপযোগী করে তৈরি হওয়ায় এই মাঠের সীমানার বিন্যাস অন্য অনেক ক্রিকেট মাঠের তুলনায় আলাদা। ভারতীয় দলের কয়েক জন ক্রিকেটার প্রথম বার এই মাঠে খেলেছেন। ফলে মাঠের সঙ্গে মানিয়ে নিতে কিছুটা সময় লেগেছে বলে মনে করেন অধিনায়ক। তবে প্রথম তিনটি ম্যাচে একই ক্রিকেটাররা ভাল খেলেছেন, তাই এই হারকে শিক্ষা হিসেবেই দেখতে চান তিনি।

প্রথম তিন ম্যাচ জিতে পাঁচ ম্যাচের সিরিজ আগেই নিশ্চিত করেছে ভারত। ফলে চতুর্থ ম্যাচের হার সিরিজের ফল বদলাতে পারেনি। তবে পরপর জয়ের পর এমন বড় ব্যবধানে হার দলের বোলিং ও ব্যাটিং—দুই বিভাগকেই নতুন করে পর্যালোচনার জায়গায় দাঁড় করাল। আগামী ১ নভেম্বর হ্যামিল্টনে সিরিজের পঞ্চম ও শেষ টি-টোয়েন্টিতে মুখোমুখি হবে দুই দল। শেষ ম্যাচে জিতে সিরিজ ৪-১ করার লক্ষ্য থাকবে ভারতের।

Related posts

Leave a Comment