28 C
Kolkata
October 30, 2026
দেশ বিদেশ

দেশ বিপদে পড়লে আনন্দ পায় বিরোধীরা, তোপ মোদীর

বনাসকাঁঠা— পশ্চিম এশিয়ার চলতে থাকা সংঘাতের প্রভাব পড়ছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি ও সারের বাজারে। এই পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে ভারতে অশান্তি তৈরির চেষ্টা করছে বিরোধীরা। শুক্রবার গুজরাতের বনাসকাঁঠার ভিলডিতে এক জনসভা থেকে এমনই অভিযোগ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তাঁর দাবি, আন্তর্জাতিক সঙ্কটের ধাক্কা যাতে দেশের সাধারণ মানুষ ও কৃষকদের উপর না পড়ে, তার জন্য একাধিক পদক্ষেপ করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। অথচ বিরোধীরা জ্বালানি ও সারের ঘাটতি নিয়ে ভুয়ো খবর ছড়িয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে।

প্রধানমন্ত্রীর অভিযোগ, দেশের প্রতিকূল পরিস্থিতিকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করতে চাইছে বিরোধী দলগুলি। তাঁর কথায়, দেশের মানুষ যখন ঐক্যবদ্ধ ভাবে আন্তর্জাতিক সঙ্কটের মোকাবিলা করছেন, তখন কয়েকটি রাজনৈতিক দল সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাতে ব্যস্ত। শুধুমাত্র তাঁকে রাজনৈতিক ভাবে হেয় করতেই এই ধরনের প্রচার করা হচ্ছে বলে দাবি করেন মোদী।

জনসভায় মোদী বলেন, ‘দেশের প্রত্যেক নাগরিক ভারতকে উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করার জন্য কাজ করছেন। কিন্তু কিছু মানুষের তা পছন্দ নয়। তাঁরা দেশকে কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে দেখতে চান। দেশ বিপদে পড়লে আনন্দ পান। পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে যখন গোটা দেশ উদ্বিগ্ন, তখন তাঁরাই সার ও গ্যাসের সঙ্কট নিয়ে ভুয়ো খবর ছড়াচ্ছেন।’

কৃষকদের আশ্বস্ত করতেও এ দিন বিশেষ বার্তা দেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, আন্তর্জাতিক বাজারে সারের দাম উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়েছে। কিন্তু সেই বাড়তি খরচের বোঝা ভারতীয় কৃষকদের উপর চাপতে দেয়নি কেন্দ্র। মোদীর দাবি, আন্তর্জাতিক বাজারে এক বস্তা ইউরিয়ার দাম প্রায় ৩ হাজার টাকা হলেও দেশের কৃষকেরা তা ৩০০ টাকার কমে পাচ্ছেন। একই ভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে ৫ হাজার টাকার বেশি দামের এক বস্তা ডিএপি সার ভারতে কৃষকদের জন্য ১,৩৫০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।



এই ভর্তুকির পিছনে সরকারের বিপুল অর্থ ব্যয়ের কথাও উল্লেখ করেন মোদী। তাঁর দাবি, আন্তর্জাতিক বাজারে সারের দাম বৃদ্ধির প্রভাব কৃষকদের উপর পড়তে না দেওয়ার জন্য সরকার প্রায় ১৬ লক্ষ কোটি টাকা খরচ করেছে। পশ্চিম এশিয়ার সঙ্কট না মেটা পর্যন্ত কৃষকদের পাশে থাকার আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি।

প্রসঙ্গত, ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা ও ইজরায়েলের সামরিক অভিযানের পর ইরানকে ঘিরে সংঘাত শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলেও উত্তেজনা ছড়ায়। হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলে বাধা এবং বাণিজ্যিক জাহাজের উপর একাধিক হামলার ঘটনায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি ও সারের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে এই জলপথ দিয়ে সার তৈরির গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামাল ও জ্বালানি পরিবহণ ব্যাহত হওয়ায় বিশ্ববাজারে চাপ বেড়েছে।

এই আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করেই বিরোধীদের বিরুদ্ধে ফের সরব হন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, দেশের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করে সরকারের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তোলাই বিরোধীদের উদ্দেশ্য। তবে একই সঙ্গে তিনি জানান, আন্তর্জাতিক সঙ্কটের মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় সরকার পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে এবং কৃষকদের স্বার্থ সুরক্ষিত রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে।

Related posts

Leave a Comment