নিজস্ব সংবাদদাতা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা— মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে এ বার দিল্লিতে গিয়ে রাজনীতি করার পরামর্শ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলনেত্রীর আর কোনও রাজনৈতিক জমি অবশিষ্ট নেই। পাশাপাশি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও সরাসরি ভোটের লড়াইয়ে নামার চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন তিনি। শুভেন্দুর মন্তব্য ঘিরে পাল্টা আক্রমণ শানিয়েছে তৃণমূল। দলের সাংসদ সৌগত রায় মুখ্যমন্ত্রীকে প্রতিহিংসাপরায়ণ বলে কটাক্ষ করেছেন।
শুক্রবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরের নিউ ইন্ডিয়ান মাঠে জনসভা করেন শুভেন্দু। সেখান থেকেই মমতা ও অভিষেককে নিশানা করেন তিনি। এর আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বয়সের কথা উল্লেখ করে বিশ্রাম নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। শুক্রবার সেই প্রসঙ্গ টেনে শুভেন্দু বলেন, মমতার ক্ষমতা থাকলে আবার ভোটে লড়াইয়ে নামুন, তাঁকে ফের হারানো হবে। একই সঙ্গে দিল্লির রামলীলা ময়দানে ইন্ডিয়া জোটের সমাবেশে যোগ দেওয়ার প্রসঙ্গ তুলে তাঁর কটাক্ষ, পশ্চিমবঙ্গে আর কিছু করার নেই তৃণমূলনেত্রীর।
উল্লেখ্য, আগামী ১ নভেম্বর দিল্লির রামলীলা ময়দানে ভোট সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগ তুলে বিরোধী জোটের সমাবেশ হওয়ার কথা। সেই কর্মসূচিতে মমতা ও অভিষেকের যোগ দেওয়ার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধেও আক্রমণাত্মক সুরে কথা বলেন শুভেন্দু। বৃহস্পতিবার তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিযোগ করেছিলেন, তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা করা হয়েছে এবং কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলিকে ব্যবহার করে তাঁকে চাপে রাখার চেষ্টা চলছে। তাঁর আপ্তসহায়কের বিরুদ্ধেও মিথ্যা মামলা করা হয়েছে বলে দাবি করেছিলেন অভিষেক। সেই বক্তব্যের পাল্টা দিতে গিয়ে শুক্রবার শুভেন্দু প্রশ্ন তোলেন, বড় চোর কবে জেলে যাবে। এর পর অভিষেকের নাম করে তাঁর চ্যালেঞ্জ, ভোটে দাঁড়ালে তাঁকে হারিয়ে দেবেন। অভিষেক অতীতে যত ভোটের ব্যবধানে জিতেছেন, তার চেয়েও বেশি ভোটে হারানোর দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী।

শুভেন্দুর এই মন্তব্যের জবাবে তৃণমূলের তরফে সরব হন সাংসদ সৌগত রায়। তাঁর বক্তব্য, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লিতে যাবেন কি না, তা শুভেন্দু অধিকারীর কথায় ঠিক হবে না। মমতা লড়াইয়ে বিশ্বাস করেন এবং নিজের রাজনৈতিক অবস্থান থেকেই তিনি লড়াই চালিয়ে যাবেন। অভিষেককে নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যের প্রসঙ্গে সৌগত বলেন, শুভেন্দুর মধ্যে প্রতিহিংসা ও প্রতিশোধপরায়ণতার প্রবণতা রয়েছে। তাঁর দাবি, ক্ষমতায় আসার পর বহু তৃণমূল কর্মীকে জেলে পাঠানো হয়েছে। সেই পরিস্থিতির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক লড়াই চালিয়ে যাবে দল।
এ দিনের সভা থেকে শুধু তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বকেই নয়, বামপন্থী ও ককরোচ পার্টির নেতা-কর্মীদেরও কটাক্ষ করেন শুভেন্দু। কয়েক দিন আগে কাকদ্বীপে সভা করার প্রসঙ্গ টেনে তিনি জানান, সেদিনই বারুইপুরে সভা করার ইচ্ছা হয়েছিল। বারুইপুরে আরশোলা ও ছারপোকার উপদ্রব বেড়েছে বলে মন্তব্য করে বামপন্থী শিবিরকে নিশানা করেন তিনি।
এ ছাড়াও ভোট-পরবর্তী হিংসা এবং জমি দখলের অভিযোগ তুলে কয়েক জন স্থানীয় নেতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন মুখ্যমন্ত্রী। ‘পুষ্পা’ জাহাঙ্গির খান থেকে শওকত মোল্লা— একাধিক নাম উল্লেখ করে তাঁর বক্তব্য, অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে।
বারুইপুরের সভা থেকে একদিকে বিরোধী নেতৃত্বকে ভোটের লড়াইয়ে চ্যালেঞ্জ, অন্যদিকে তৃণমূলের পাল্টা আক্রমণ— সব মিলিয়ে রাজ্যের রাজনৈতিক তরজা আরও তীব্র হল।
