26 C
Kolkata
October 26, 2026
রাজ্য

তৃণমূলের নাম-প্রতীক নিয়ে লড়াই, আরও ১০ দিন সময় ঋতব্রত শিবিরকে

সংবাদ কলকাতা: তৃণমূল কংগ্রেসের নাম ও নির্বাচনী প্রতীকের মালিকানা নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের বিরোধ মেটার সম্ভাবনা আপাতত দূরে। নির্বাচন কমিশনের কাছে নিজেদের বক্তব্য পেশ করার জন্য ঋতব্রত শিবিরকে অতিরিক্ত ১০ দিন সময় দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। একই সঙ্গে ঋতব্রত শিবিরের হলফনামা জমা পড়ার পর মমতা শিবিরকেও পালটা বক্তব্য পেশের জন্য আরও ১০ দিন সময় দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে আদালত। ফলে দলের নাম ও নির্বাচনী প্রতীকের চূড়ান্ত মালিকানা নির্ধারণের প্রক্রিয়া আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ বিভাজন নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে। দুই শিবিরই নিজেদের আসল তৃণমূল কংগ্রেস বলে দাবি করে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছে। এই বিরোধের জেরে মূল দলের নাম ও প্রতীক নিয়ে অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হয় কমিশনকে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের নাম রাখা হয়েছে ‘মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’। তাদের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ফুটবল খেলোয়াড়ের ছবি-সহ প্রতীক। অন্যদিকে, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের নাম ‘গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস’ এবং প্রতীক হিসেবে দেওয়া হয়েছে খাম।

গত ২৮ সেপ্টেম্বর প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ দুই পক্ষকে চার সপ্তাহের মধ্যে হলফনামার মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনের কাছে নিজেদের বক্তব্য জানানোর নির্দেশ দিয়েছিল। পাশাপাশি, দুই পক্ষের বক্তব্য ও নথি পাওয়ার পর তিন মাসের মধ্যে দলের নাম ও নির্বাচনী প্রতীকের মালিকানা নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে কমিশনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ছিল হলফনামা জমা দেওয়ার নির্ধারিত সময়সীমা। ওই দিন ঋতব্রত শিবিরের তরফে দাবি করা হয়, তাদের বিধায়ক ও সমর্থকদের বক্তব্য-সহ হলফনামা দিল্লিতে নিয়ে যাওয়ার সময় হরিয়ানা সীমান্তে নথি ছিনতাইয়ের চেষ্টা হয়েছিল। যদিও শেষ পর্যন্ত নথি নিরাপদে পৌঁছেছে বলে ওই শিবিরের দাবি। এই পরিস্থিতির কথা জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের কাছে আরও দুই সপ্তাহ সময় চাওয়া হয়। প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত হলফনামা জমা দেওয়ার সুযোগ দেওয়ার আবেদনও জানানো হয়েছিল।

প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের ডিভিশন বেঞ্চে শুনানির সময় মমতা শিবিরের আইনজীবী তথা সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় অতিরিক্ত সময় দেওয়ার বিরোধিতা করেন। তবে তিনি স্পষ্ট জানান, ঋতব্রত শিবিরকে যদি অতিরিক্ত সময় দেওয়া হয়, তা হলে তাঁদের পক্ষকেও পালটা বক্তব্য পেশের সুযোগ দিতে হবে। দুই পক্ষের সওয়াল-জবাব শোনার পর আদালত ঋতব্রত শিবিরকে দুই সপ্তাহের পরিবর্তে ১০ দিন সময় দেয়। পাশাপাশি, তাদের হলফনামা জমা পড়ার পর মমতা শিবিরের জন্যও ১০ দিন সময় নির্দিষ্ট করা হয়।

এই নির্দেশের ফলে নির্বাচন কমিশনের পরবর্তী পদক্ষেপের সময়সূচি নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। দুই পক্ষের হলফনামা পাওয়ার পর ৩০ অক্টোবর কমিশনের বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু অতিরিক্ত সময় মঞ্জুর হওয়ায় নির্ধারিত সূচিতে পরিবর্তন আসতে পারে। যদিও বৈঠক পিছিয়ে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত নয়, তবে নথি যাচাই ও দুই পক্ষের বক্তব্য বিবেচনার প্রক্রিয়ায় আরও সময় লাগতে পারে।

এখন নির্বাচন কমিশনের সামনে মূল প্রশ্ন, কোন শিবির তৃণমূল কংগ্রেসের নাম ও নির্বাচনী প্রতীকের অধিকার পাবে। দুই পক্ষের দাবি, হলফনামা এবং অন্যান্য নথি খতিয়ে দেখেই এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে কমিশনকে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে উভয় পক্ষের বক্তব্য পেশের সুযোগ নিশ্চিত হলেও বিরোধের নিষ্পত্তি কবে হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ফলে তৃণমূলের নাম ও প্রতীকের মালিকানা নিয়ে রাজনৈতিক ও আইনি টানাপড়েন আপাতত চলবে বলেই মনে করা হচ্ছে।

Related posts

Leave a Comment