সংবাদ কলকাতা: টাকা ও ভয় দেখিয়ে রাজনৈতিক সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করছে বিজেপি। তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা-কর্মীদের উপর পুলিশি চাপ বাড়ানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, দলের সমর্থকদের কাছ থেকে নথি ও হলফনামা সংগ্রহের ক্ষেত্রে এক পক্ষকে প্রশাসনিক সুবিধা দেওয়া হচ্ছে, অথচ তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকদের বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে দেশে গণতন্ত্র ও মানুষের স্বাধীনতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তৃণমূল নেত্রী।
এক সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া বক্তব্যে মমতা অভিযোগ করেন, গত কয়েক দিন ধরে পুলিশি অত্যাচার আরও বেড়েছে। তাঁর দাবি, নির্বাচন কমিশন তাঁদের কাছে প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দিতে বলেছে। অথচ সেই নথি সংগ্রহের প্রক্রিয়ায় প্রশাসনের একাংশের বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ উঠছে। জেলাশাসক, বিডিও, থানার আধিকারিক এবং পুলিশ সুপারদের মাধ্যমে মানুষকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
মমতার অভিযোগ, এক পক্ষকে আইনি কাগজপত্র, স্ট্যাম্প পেপার এবং নোটারি করা হলফনামা তৈরির ক্ষেত্রে প্রশাসনিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে, তৃণমূলের ক্ষেত্রে সেই সুযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এমনকি ব্যক্তিগতভাবে যাঁরা তাঁর সঙ্গে দেখা করতে আসছেন, তাঁদেরও কার্যালয়ে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না বলে দাবি করেন তৃণমূল নেত্রী।

এই পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে মমতা প্রশ্ন করেন, দেশে মানুষ আদৌ স্বাধীন কি না। তাঁর বক্তব্য, স্বাধীনতার জন্য দেশের মহান নেতারা লড়াই করেছেন এবং প্রাণ দিয়েছেন। অথচ আজ রাজনৈতিক স্বার্থে টাকা দিয়ে মানুষকে প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ তাঁর।
তৃণমূলের নেতা, কর্মী, বিধায়ক ও সাংসদদের ভয় দেখানোর অভিযোগও তুলেছেন মমতা। তাঁর দাবি, তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিলে সংশ্লিষ্টদের জেলে পাঠানোর হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এই ধরনের রাজনৈতিক চাপের বিরোধিতা করে তিনি বলেন, রাজনৈতিক লড়াই করার সাহস থাকলে সরাসরি রাজনীতির ময়দানে লড়াই করা উচিত। গণতান্ত্রিক প্রতিদ্বন্দ্বিতায় তাঁর কোনও আপত্তি নেই বলেও জানিয়েছেন তিনি।
দলীয় পরিচয় ও হলফনামা নিয়ে বিবাদ
তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় পরিচয়, প্রতীক ও সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে চলা বিবাদের মধ্যেই মমতার এই অভিযোগ সামনে এসেছে। নির্বাচন কমিশনের কাছে সমর্থকদের হলফনামা ও প্রয়োজনীয় নথি জমা দেওয়ার বিষয়টি এখন এই বিবাদের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। মমতা-ঘনিষ্ঠ শিবিরের অভিযোগ, নথি সংগ্রহের প্রক্রিয়ায় প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার করা হচ্ছে। অন্য পক্ষের বক্তব্য ও অভিযোগের বিষয়ে এই নির্দিষ্ট বক্তব্যে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
তৃণমূল নেত্রীর বক্তব্যে স্পষ্ট, তিনি এই বিষয়টিকে শুধু দলের অভ্যন্তরীণ বিবাদ হিসেবে দেখছেন না; বরং প্রশাসনের নিরপেক্ষতা, রাজনৈতিক স্বাধীনতা এবং গণতান্ত্রিক অধিকার নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন। তবে প্রশাসনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণ করতে স্বাধীন তদন্ত ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলির বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ।
