রাওয়ালপিন্ডি— এক দিনের ক্রিকেটে অবিশ্বাস্য রান তাড়ার সাক্ষী থাকল পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডি। ইংল্যান্ডের করা ৪২৯ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করে ১ বল বাকি থাকতে ৪৩০ রান তুলে ম্যাচ জিতে নিল শ্রীলঙ্কা। এই জয়ের ফলে এক দিনের ক্রিকেটে সফল রান তাড়ার নিরিখে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এল শ্রীলঙ্কা। শুধু তাই নয়, এই ম্যাচে তৈরি হয়েছে বাউন্ডারি থেকে সর্বাধিক রান, চার-ছক্কা মিলিয়ে সর্বাধিক রান এবং দুই দলের মোট রানের মতো একাধিক নজির। ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি ব্রুকের ব্যক্তিগত দ্বিশতরানও শেষ পর্যন্ত দলকে জয় এনে দিতে পারল না।
প্রথমে ব্যাট করে ইংল্যান্ড নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে তোলে ৪২৯ রান। জবাবে দুর্দান্ত ব্যাটিং করে শ্রীলঙ্কা ৪৯.৫ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ৪৩০ রান তুলে নেয়। দুই দলের ইনিংস মিলিয়ে মোট রান দাঁড়ায় ৮৫৯। এক দিনের ক্রিকেটের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রানের ম্যাচগুলির তালিকায় এই লড়াই উঠে এসেছে দ্বিতীয় স্থানে।

এক ম্যাচে বাউন্ডারির বন্যা
ইংল্যান্ড-শ্রীলঙ্কা ম্যাচে চার ও ছক্কার হিসাবও নজির গড়েছে। দুই দল মিলিয়ে মোট ৮৫৯ রানের মধ্যে বাউন্ডারি থেকে এসেছে ৫৫২ রান। ব্যাটারেরা মেরেছেন ৯৩টি চার ও ৩০টি ছক্কা। চার থেকে এসেছে ৩৭২ রান, আর ছক্কা থেকে ১৮০ রান। এক দিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দুই দলের মিলিত চার ও ছক্কার সংখ্যা নতুন রেকর্ড তৈরি করেছে বলে ম্যাচ-পরবর্তী পরিসংখ্যানে উঠে এসেছে।
এর আগে এক দিনের ক্রিকেটে দুই দলের মিলিয়ে সর্বাধিক চার মারার নজির ছিল ২০০৬ সালে জোহানেসবার্গে দক্ষিণ আফ্রিকা-অস্ট্রেলিয়া ম্যাচে। সেই ম্যাচে দুই দলের ব্যাটারেরা ৮৭টি চার মেরেছিলেন। রাওয়ালপিন্ডিতে সেই নজির ছাপিয়ে গেল ইংল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কা।
চার-ছক্কা মিলিয়ে বাউন্ডারি থেকে সর্বাধিক রান ওঠার নজিরও ভেঙেছে এই ম্যাচ। ২০১৯ সালে সেন্ট জর্জে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ইংল্যান্ডের ম্যাচে চার ও ছক্কা থেকে মোট ৫৩২ রান এসেছিল। রাওয়ালপিন্ডিতে সেই সংখ্যাকে ছাপিয়ে বাউন্ডারি থেকে এসেছে ৫৫২ রান।
তাড়ায় দক্ষিণ আফ্রিকার পরেই শ্রীলঙ্কা
এক দিনের ক্রিকেটে সফল রান তাড়ার সর্বোচ্চ নজির এখনও দক্ষিণ আফ্রিকার দখলে। ২০০৬ সালে জোহানেসবার্গে অস্ট্রেলিয়ার করা ৪৩৪ রানের জবাবে ৪৩৮ রান তুলে জিতেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। সেই ম্যাচে লক্ষ্য ছিল ৪৩৫ রান। এ বার ৪৩০ রান তাড়া করে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এল শ্রীলঙ্কা। এর আগে ভারতের বিরুদ্ধে ওয়েস্ট ইন্ডিজের করা ৪০৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করে জিতেছিল ভারত। শ্রীলঙ্কার এই জয় সেই নজিরকেও পিছনে ফেলে দিল।

এক দিনের ক্রিকেটে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান
দুই দলের মোট রানের হিসাবেও রাওয়ালপিন্ডির ম্যাচটি জায়গা করে নিয়েছে ইতিহাসে। ইংল্যান্ডের ৪২৯ এবং শ্রীলঙ্কার ৪৩০— দুই ইনিংস মিলিয়ে উঠেছে ৮৫৯ রান। এক দিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে কোনও ম্যাচে এর চেয়ে বেশি রান উঠেছে মাত্র এক বার। ২০০৬ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা-অস্ট্রেলিয়া ম্যাচে দুই দল মিলিয়ে হয়েছিল ৮৭২ রান। তৃতীয় স্থানে রয়েছে ২০০৯ সালে রাজকোটে ভারত-শ্রীলঙ্কা ম্যাচের ৮২৫ রান।
দ্বিশতরান করেও হার ব্রুকের
ম্যাচে ব্যক্তিগত রেকর্ড গড়েছেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি ব্রুকও। মাত্র ১১৬ বলে ২০২ রান করেন তিনি। তাঁর ইনিংসে ছিল ২১টি চার ও ১০টি ছয়। এক দিনের ক্রিকেটে ইংল্যান্ডের হয়ে প্রথম দ্বিশতরান করলেন ব্রুক। পাশাপাশি ১১৪ বলে ২০০ রান পূর্ণ করে দ্রুততম দ্বিশতরানের নজিরও গড়েন তিনি। এর আগে এই রেকর্ড ছিল ভারতের শুভমন গিলের, যিনি ১১৭ বলে দ্বিশতরান করেছিলেন।
তবে ব্রুকের এই ঐতিহাসিক ইনিংসও ইংল্যান্ডকে হার থেকে বাঁচাতে পারেনি। এক দিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এই প্রথম কোনও ব্যাটারের দ্বিশতরান সত্ত্বেও তাঁর দল পরাজিত হল। এর আগে এক দিনের ক্রিকেটে পরাজিত দলের হয়ে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রানের নজির ছিল জিম্বাবোয়ের চার্লস কভেন্ট্রির। ২০০৯ সালে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অপরাজিত ১৯৪ রান করেও দলকে জেতাতে পারেননি তিনি। ব্রুকের ২০২ রান সেই নজির ছাপিয়ে গেল।
সব মিলিয়ে রাওয়ালপিন্ডির এই ম্যাচ শুধু শ্রীলঙ্কার অবিশ্বাস্য জয়ের জন্যই নয়, এক দিনের ক্রিকেটে একাধিক রেকর্ডের জন্যও দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
