29 C
Kolkata
October 22, 2026
রাজ্য

মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে আজ প্রথম ঝাড়গ্রাম সফর, পুষ্টি বাস্কেট প্রকল্পের সূচনা

বিশেষ সংবাদদাতা, ঝাড়গ্রাম, ২২ অক্টোবর: মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর আজ প্রথম বার ঝাড়গ্রাম সফরে এসে প্রত্যন্ত কালাঝরিয়া শবর পাড়ায় জনকল্যাণমূলক সভা করবেন শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার সকাল ১১টা নাগাদ হেলিকপ্টারে তাঁর সেখানে পৌঁছনোর কথা। এই সফরে লোধা-শবর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি তাঁদের হাতে খাদ্যসামগ্রী ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস তুলে দেবেন মুখ্যমন্ত্রী। কয়েক জন উপভোক্তার হাতে বনভূমির পাট্টা দেওয়ারও কর্মসূচি রয়েছে বলে জেলা প্রশাসন সূত্রে খবর।

কালাঝরিয়া থেকেই বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ জনজাতি গোষ্ঠীর জন্য বিশেষ পুষ্টি বাস্কেট প্রকল্পের (Nutrition Basket Scheme) সূচনা করার কথা মুখ্যমন্ত্রীর। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, এই প্রকল্পে সংশ্লিষ্ট জনজাতি গোষ্ঠীর সদস্যদের প্রতি মাসে অতিরিক্ত পুষ্টিকর খাদ্যসামগ্রী দেওয়া হবে। পরিবারপিছু নয়, মাথাপিছু সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। শুক্রবার কয়েক জন উপভোক্তার হাতে মুখ্যমন্ত্রী নিজে পুষ্টি বাস্কেট তুলে দেবেন বলে জানা গিয়েছে।

এ ছাড়াও, কালাঝরিয়ার লোধা-শবর পরিবারগুলির জন্য খাদ্যসামগ্রী ও দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় জিনিস বিতরণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ঝাড়গ্রামের বিজেপি বিধায়ক লক্ষ্মীকান্ত সাউ জানিয়েছেন, প্যাকেটে চাল, ডাল, তেল, সয়াবিন, সাবান ও মশারি-সহ একাধিক প্রয়োজনীয় সামগ্রী থাকবে। তাঁর বক্তব্য, নির্বাচনী প্রচারে লোধা-শবর সমাজের উন্নয়নের যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তা বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ। এই জনজাতি গোষ্ঠীকে উন্নয়নের মূলস্রোতে যুক্ত করা সরকারের অগ্রাধিকারের মধ্যে রয়েছে বলেও দাবি করেছেন তিনি।

কালাঝরিয়ার সঙ্গে শুভেন্দু অধিকারীর যোগাযোগ অবশ্য নতুন নয়। গত ১৪ জানুয়ারি মকর পরবের দিন তৎকালীন বিরোধী দলনেতা হিসেবে তিনি এই গ্রামে এসেছিলেন। বিজেপির পঞ্চায়েত সদস্য লাবনী ভক্তার বাড়ির দাওয়ায় বসে গ্রামবাসীদের সঙ্গে সময় কাটানোর পাশাপাশি তাঁদের সঙ্গে দুপুরের খাবার খেয়েছিলেন। মেনুতে ছিল ভাত, মুগডাল, আলুপোস্ত ও মাছের ঝোল। স্থানীয় বাসিন্দাদের তৈরি পিঠেও খেয়েছিলেন তিনি। সে দিন ভোটের পরে ফের গ্রামে আসার আশ্বাস দিয়েছিলেন শুভেন্দু।

মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর সেই প্রতিশ্রুতি ঘিরে কালাঝরিয়ায় তাঁর সফরকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। পুষ্টি প্রকল্পের সুবিধা কী ভাবে পৌঁছবে, বনভূমির পাট্টা কত জন পাবেন এবং লোধা-শবর পরিবারগুলির খাদ্য ও অন্যান্য প্রয়োজন মেটাতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের আগ্রহ রয়েছে।

Related posts

Leave a Comment