নিজস্ব সংবাদদাতা, বর্ধমান— ভুল চিকিৎসায় চার বছরের এক শিশুর মৃত্যুর অভিযোগে এক ‘ভুয়ো’ চিকিৎসককে দিল্লি বিমানবন্দর থেকে আটক করল পুলিশ। অভিযুক্ত শেখ সাইদুল হকের বিরুদ্ধে অভিযোগ, বর্ধমানের নবাবহাট এলাকার একটি হাসপাতালে ওই শিশুর অস্ত্রোপচার করেছিলেন তিনি। অস্ত্রোপচারের পরেই শিশুটির মৃত্যু হয় বলে পরিবারের অভিযোগ। ঘটনার পর থেকেই পলাতক ছিলেন সাইদুল।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শিশুমৃত্যুর ঘটনায় পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়। তদন্তে অভিযুক্তের চিকিৎসক হিসেবে যোগ্যতা ও নথিপত্র নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। এরপর তাঁর বিরুদ্ধে লুক আউট নোটিস জারি করা হয়।
অভিযোগ, ঘটনার পর দেশ ছেড়ে দুবাইয়ে চলে গিয়েছিলেন সাইদুল। মঙ্গলবার দুবাই থেকে দিল্লি ফেরার পর বিমানবন্দরেই তাঁকে আটক করে দিল্লি পুলিশ। লুক আউট নোটিসের ভিত্তিতেই তাঁকে আটক করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।

আটকের পর তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে বর্ধমান থানার পুলিশ তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নেয়। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টার বিমানে দিল্লি থেকে তাঁকে কলকাতায় নিয়ে আসে পুলিশ। রাত দেড়টা নাগাদ কলকাতা বিমানবন্দরে পৌঁছন তাঁরা। এরপর সেখান থেকে অভিযুক্তকে বর্ধমান থানায় নিয়ে যাওয়ার কথা।
ঘটনাটি নিয়ে ইতিমধ্যেই চিকিৎসা মহলেও চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। বর্ধমানের নবাবহাটের ওই হাসপাতালে চার বছরের শিশুটির অস্ত্রোপচারের পর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্ত শুরু হয়েছিল। পুলিশ এখন অভিযুক্তের চিকিৎসাগত যোগ্যতা, অস্ত্রোপচারের পরিস্থিতি এবং শিশুটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখছে।

এদিকে অ্যাসোসিয়েশন অফ প্রাইভেট হাসপাতাল অ্যান্ড নার্সিং হোমের তরফে সাইদুলকে আটক করার ঘটনায় পুলিশকে ধন্যবাদ জানানো হয়েছে। সংগঠনের দাবি, এর আগে আরও কয়েক জন ‘ভুয়ো’ চিকিৎসকের বিষয়টি তারা চিহ্নিত করেছিল। তাঁদের বিরুদ্ধেও দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
শিশুমৃত্যুর ঘটনায় অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ কতটা সত্যি, অস্ত্রোপচারে তাঁর ভূমিকা কী ছিল এবং তাঁর চিকিৎসক হিসেবে প্রয়োজনীয় যোগ্যতা বা নথি ছিল কি না— তদন্তের পরই সে বিষয়ে স্পষ্ট ছবি পাওয়া যাবে।
