জনবিন্যাসের ভারসাম্যের কথা তুলে ধরল আরএসএস
দিল্লি: দেশজুড়ে জাতীয় নাগরিক পঞ্জি বা এনআরসি (National Register of Citizens) কার্যকর করার পক্ষে সওয়াল করলেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের (Rashtriya Swayamsevak Sangh) অখিল ভারতীয় প্রচার প্রমুখ সুনীল আম্বেকর (Sunil Ambekar)। দিল্লিতে ‘ধর্মনিরপেক্ষতা ও পরিবর্তিত জনগণনার পরিসংখ্যান’ (Secularism and Changing Population Figures) শীর্ষক বই প্রকাশ অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, দেশের জনবিন্যাসের ভারসাম্য, ঐক্য ও নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনা করে নাগরিকদের পরিচয় নির্ধারণ করা প্রয়োজন।
সুনীল আম্বেকরের বক্তব্য অনুযায়ী, ভোটার তালিকায় ভুলভাবে যাঁদের নাম অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, তাঁদের চিহ্নিত করার পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশ থেকে ধর্মীয় নিপীড়নের কারণে ভারতে আসা এবং নাগরিকত্ব সংশোধন আইনের (Citizenship Amendment Act) আওতায় নাগরিকত্ব পাওয়ার যোগ্য ব্যক্তিদেরও চিহ্নিত করার প্রয়োজন রয়েছে। তাঁর মতে, এই কাজের ক্ষেত্রে এনআরসি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
নাগরিকত্ব নিয়ে কোনও আপত্তি উঠলে তার সমাধান আইনি ব্যবস্থা ও আদালতের মাধ্যমে করা যেতে পারে বলেও জানান আম্বেকর। তাঁর বক্তব্য, রাজনৈতিক কারণে কোনও অ-নাগরিককে নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া উচিত নয়। একই সঙ্গে তিনি জনবিন্যাসের পরিবর্তনকে দেশের নিরাপত্তা ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত করে দেখেন।
অনুষ্ঠানে আম্বেকর স্বাধীনতার পর দেশের জনসংখ্যা নীতি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তাঁর বক্তব্য, দীর্ঘ সময় ধরে দেশে জনসংখ্যা ও জনগণনা নিয়ে একটি সুস্পষ্ট নীতি তৈরি হয়নি। পাশাপাশি বিবাহ আইন, সংখ্যালঘু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত বিভিন্ন আইনের প্রয়োগের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। এই প্রসঙ্গে সব সম্প্রদায়ের জন্য একই ধরনের আইন বা অভিন্ন দেওয়ানি বিধির প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
জনবিন্যাসের পরিবর্তন নিয়ে সঙ্ঘের উদ্বেগ নতুন নয়। গত কয়েক বছর ধরেই আরএসএসের বিভিন্ন নেতা দেশটির জনসংখ্যাগত পরিবর্তন, নাগরিকত্ব এবং অনুপ্রবেশের প্রশ্নে বক্তব্য রেখে আসছেন। তবে বর্তমানে দেশজুড়ে এনআরসি কার্যকর করার বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের কোনও নতুন সরকারি বিজ্ঞপ্তি জারি হয়নি। ২০২১ সালের জনগণনা কোভিড-১৯ পরিস্থিতির কারণে পিছিয়ে যাওয়ার পর পুনরায় জনগণনা প্রক্রিয়া শুরু হলেও দেশজুড়ে এনআরসি কার্যকরের কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনও নেই।
এদিকে, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর (Special Intensive Revision) এবং জনগণনা ঘিরে দেশজুড়ে বিতর্কের মধ্যেই আম্বেকরের এই বক্তব্য সামনে এল। ফলে নাগরিকত্ব যাচাই, ভোটার তালিকা এবং জনবিন্যাসের প্রশ্নে রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্ক আরও সামনে আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
