সংবাদ কলকাতা:— শ্রীরামপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনসভা, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র আক্রমণ শানান শুভেন্দু অধিকারী। রবিবার সাংবাদিক বৈঠকে তিনি দাবি করেন, এসআইআর সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের একার সিদ্ধান্ত ছিল না। শনিবার তিন নির্বাচন কমিশনারের বৈঠকের ছবিকেও নিজের দাবির সমর্থনে তুলে ধরেন তিনি।
শুভেন্দুর বক্তব্যের কেন্দ্রে ছিল শ্রীরামপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শনিবারের সভা। সভায় উপস্থিতির সংখ্যা নিয়ে কটাক্ষ করে তিনি দাবি করেন, সেখানে প্রকৃত সমর্থকের সংখ্যা খুবই কম ছিল এবং পুলিশ ও সংবাদমাধ্যমের কর্মীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য ছিল। বিভিন্ন প্রতিবেদনে তাঁর বক্তব্যের সঙ্গে উপস্থিতির সংখ্যা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন পরিসংখ্যানও উঠে এসেছে। এই দাবির কোনও স্বাধীন যাচাইয়ের কথা শুভেন্দু উল্লেখ করেননি।
এসআইআর নিয়ে সাম্প্রতিক বিতর্কের প্রসঙ্গও তোলেন তিনি। সম্প্রতি প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়া চলাকালীন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের একাধিক সিদ্ধান্ত নিয়ে অন্য দুই নির্বাচন কমিশনার আপত্তি জানিয়েছিলেন। ওই প্রতিবেদনে গত ১০ মাসে ১৪ বার লিখিত আপত্তির কথাও উল্লেখ করা হয়। এর পরেই শনিবার তিন নির্বাচন কমিশনারের বৈঠকের ছবি প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন।
এই পরিস্থিতিতে শুভেন্দুর দাবি, এসআইআর নিয়ে সিদ্ধান্ত কোনও একজনের একক সিদ্ধান্ত ছিল না। তাঁর বক্তব্য, তিন নির্বাচন কমিশনারের একসঙ্গে বৈঠকের ছবি থেকেই বিষয়টি স্পষ্ট। তবে এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য সংক্রান্ত সংবাদ এবং কমিশনের পরবর্তী অবস্থান—দুই দিকই ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।
তৃণমূল ও সিপিএমের সাম্প্রতিক যোগাযোগ নিয়েও সরব হন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, যে রাজনৈতিক লড়াইয়ের সূত্র ধরে তৃণমূলের প্রতিষ্ঠা, সেই সিপিএমের সঙ্গেই এখন এসআইআর ইস্যুতে তৃণমূলের যোগাযোগ তৈরি হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবির যোগাযোগ এবং বিরোধীদের যৌথ আন্দোলনের সম্ভাবনাকে সামনে রেখে তিনি দুই দলের রাজনৈতিক অবস্থানের পরিবর্তন নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
শুভেন্দু একইসঙ্গে কংগ্রেসের সঙ্গে তৃণমূল ও সিপিএমের যোগাযোগের প্রসঙ্গও তোলেন। রাহুল গান্ধীর সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথোপকথনের বিষয়টি সামনে এনে তিনি কটাক্ষ করেন, ভবিষ্যতে কেরলেও এই দলগুলিকে একই সঙ্গে আন্দোলনে দেখা যাবে কি না। এই বক্তব্যের মাধ্যমে এসআইআর বিরোধী আন্দোলনকে ঘিরে বিরোধী দলগুলির সমন্বয়কেই নিশানা করেন তিনি।
শুধু এসআইআর নয়, রাজ্যের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ এবং তৃণমূলের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ নিয়েও আক্রমণাত্মক ছিলেন শুভেন্দু। তবে দুর্নীতি সংক্রান্ত তাঁর অভিযোগগুলিকে রাজনৈতিক অভিযোগ হিসেবেই দেখা হচ্ছে; সংশ্লিষ্ট অভিযোগগুলির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য তদন্ত ও আদালতের প্রক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ।
শ্রীরামপুরের সভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও এসআইআর এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে সরব হয়েছিলেন। তাঁর বক্তব্যে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়া, নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা এবং বিজেপির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক লড়াইয়ের বিষয়টি গুরুত্ব পায়।
ফলে শ্রীরামপুরের সভার পর এসআইআরকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে। একদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন, অন্যদিকে শুভেন্দু অধিকারী কমিশনের সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়া নিয়ে ওঠা অভিযোগ খারিজ করে বিরোধীদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। আগামী দিনে এসআইআর সংক্রান্ত প্রশাসনিক ও আইনি পদক্ষেপের পাশাপাশি এই রাজনৈতিক বিতর্কও আরও জোরদার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
previous post
