34 C
Kolkata
September 21, 2026
রাজ্য

আম্বানি-সাক্ষাতে মুম্বই যাচ্ছেন শুভেন্দু

সংবাদ কলকাতা: রাজ্যে বড় শিল্পবিনিয়োগ টানতে এবার সরাসরি শিল্পপতি মুকেশ আম্বানির সঙ্গে বৈঠকে বসতে মুম্বই পাড়ি দিচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সূত্রের খবর, সোমবারই মুম্বই রওনা দেওয়ার কথা তাঁর। রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান মুকেশ আম্বানির সঙ্গে বৈঠকে বাংলায় সংস্থার বর্তমান ব্যবসা আরও সম্প্রসারণ এবং নতুন বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হতে পারে। এর আগে শুভেন্দু জানিয়েছিলেন, অনন্ত আম্বানির সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে এবং রিলায়েন্স বাংলায় বিনিয়োগে আগ্রহী।

গত সপ্তাহেই মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, গণেশ চতুর্থীর পর মুম্বই গিয়ে মুকেশ আম্বানি ও তাঁর ছেলে অনন্তের সঙ্গে দেখা করবেন তিনি। রিলায়েন্সের তরফে বাংলায় আরও বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করা হয়েছে বলেও জানিয়েছিলেন শুভেন্দু।

ইতিমধ্যেই রাজ্যে রিলায়েন্সের একাধিক ব্যবসা রয়েছে। সেই পরিকাঠামোকে আরও বিস্তৃত করার পাশাপাশি নতুন ক্ষেত্রে বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করাই বৈঠকের অন্যতম লক্ষ্য বলে জানা গিয়েছে। বিশেষ করে প্রযুক্তি, ডেটা সেন্টার এবং সেমিকন্ডাক্টর ক্ষেত্রে বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে আগেই আলোচনা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, রাজ্যে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করতে শিল্পনীতি, শিল্পের জন্য জমি নীতি এবং বিভিন্ন উৎসাহ-প্রণোদনা নিয়ে সরকার কাজ করছে।


আম্বানিদের সঙ্গে বৈঠকে বন্যপ্রাণ সংরক্ষণ নিয়েও আলোচনা হতে পারে বলে সূত্রের খবর। গুজরাতের জামনগরে অনন্ত আম্বানির উদ্যোগে গড়ে উঠেছে ‘বনতারা’—বন্যপ্রাণীদের উদ্ধার, চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য একটি বড় পরিসরের কেন্দ্র। পশ্চিমবঙ্গেও এই ধরনের উদ্যোগ বা তার কোনও শাখা গড়ে তোলার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে জল্পনা তৈরি হয়েছে। ‘বনতারা’র সরকারি তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির মূল লক্ষ্য বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন এবং বিজ্ঞানভিত্তিক পরিচর্যার মাধ্যমে জীববৈচিত্র্য রক্ষা।

রাজ্যের বিস্তীর্ণ বনাঞ্চলকে সামনে রেখে এই প্রস্তাব আলোচনায় উঠতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। উত্তরবঙ্গের তরাই-ডুয়ার্সের পাশাপাশি রাঢ় বাংলার পুরুলিয়া, বাঁকুড়া ও ঝাড়গ্রামেও রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ অরণ্যাঞ্চল। সম্প্রতি পুরুলিয়ায় গিয়ে দক্ষিণবঙ্গে বন্যপ্রাণীদের জন্য অভয়ারণ্য তৈরির পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। ফলে বন্যপ্রাণ সংরক্ষণ এবং শিল্পগোষ্ঠীর সামাজিক উদ্যোগ—দুই ক্ষেত্রকে একসঙ্গে এগিয়ে নেওয়ার সম্ভাবনাও আলোচনায় আসতে পারে।

শুধু রিলায়েন্স নয়, রাজ্যে একাধিক বড় শিল্পগোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াচ্ছে সরকার। রবিবারই আদিত্য বিড়লা গোষ্ঠীর চেয়ারম্যান কুমার মঙ্গলম বিড়লা রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বাংলায় গোষ্ঠীর ব্যবসা আরও সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সোমবার তাঁর মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গেও বৈঠকের কথা রয়েছে।

এর পাশাপাশি ৩৩টি শিল্পপ্রকল্পের জন্য দুর্গাপুজোর আগেই জমি দেওয়ার কথা জানিয়েছে রাজ্য সরকার। নিউ টাউনে আদানি গোষ্ঠীর প্রস্তাবিত ২ হাজার শয্যার হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানও ২৪ সেপ্টেম্বর হওয়ার কথা। অর্থাৎ একের পর এক শিল্পগোষ্ঠীর সঙ্গে বৈঠক এবং নতুন প্রকল্পের মাধ্যমে রাজ্যে বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করছে সরকার।


মুম্বইয়ে মুকেশ আম্বানির সঙ্গে শুভেন্দুর বৈঠকে শেষ পর্যন্ত কী কী প্রকল্পের বিষয়ে আলোচনা হয় এবং তার মধ্যে কতগুলি বাস্তব রূপ নেয়, এখন সেদিকেই নজর শিল্পমহলের।

Related posts

Leave a Comment