মায়ামি— স্বপ্নের ফ্রি-কিকে দুরন্ত গোল করলেন লিওনেল মেসি। তাঁর গোলে এগিয়ে গেল ইন্টার মায়ামি। দ্বিতীয়ার্ধে লুইস সুয়ারেজের গোলে ব্যবধানও ২-১ হয়ে গেল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত জয় এল না। শেষ ১০ মিনিটে আবার গোল হজম করে সান দিয়েগোর সঙ্গে ২-২ ড্র করল মেসির দল।
এই ড্রয়ের ফলে এমএলএস-এর ইস্টার্ন কনফারেন্সে শীর্ষে থাকা ন্যাশভিলের সঙ্গে ব্যবধান কমানোর সুযোগ হাতছাড়া করল মায়ামি। আটটি ম্যাচ বাকি থাকতে ন্যাশভিলের থেকে এখনও ১১ পয়েন্ট পিছিয়ে রয়েছে তারা।
ম্যাচের শুরুতেই অবশ্য ধাক্কা খায় মায়ামি। ১২ মিনিটে জেপ্পে টভার্সকভের দুরন্ত থ্রু বল ধরে মায়ামির গোলরক্ষক ডেন স্ট ক্লেয়ারের মাথার উপর দিয়ে চিপ করে সান দিয়েগোকে এগিয়ে দেন ডেনমার্কের আন্দের্স ড্রেয়ার। ঘরের মাঠে ১-০ পিছিয়ে পড়ে মায়ামি।

তবে সেই ধাক্কা সামলে দ্রুত ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয় মায়ামি। বলের দখল থেকে আক্রমণ—দুই ক্ষেত্রেই এগিয়ে ছিল মেসির দল। ২৪ মিনিটে সেই চাপেরই ফল মেলে। বক্সের ঠিক সামনে থেকে ফ্রি-কিক নেন মেসি।
মেসির বাঁকানো শট সান দিয়েগোর রক্ষণভাগের ভিড়ের মধ্যে দিয়ে আরও বাঁক নিয়ে গোলের দিকে এগিয়ে যায়। পোস্টের ভিতরের দিকে লেগে বল জড়িয়ে যায় জালে। গোলরক্ষকের কিছুই করার ছিল না। মায়ামির হয়ে এটি মেসির ১০১তম গোল। চলতি এমএলএস মরসুমে তাঁর গোলসংখ্যা দাঁড়াল ২০।
সমতা ফেরানোর পর আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে মায়ামি। একের পর এক আক্রমণে সান দিয়েগোর বক্সে চাপ বাড়াতে থাকেন মেসি, সুয়ারেজ এবং রদ্রিগো দে পল। কিন্তু সান দিয়েগোর রক্ষণ এবং গোলরক্ষকের প্রতিরোধে আর গোল আসেনি। ১-১ স্কোরলাইনেই শেষ হয় প্রথমার্ধ।
দ্বিতীয়ার্ধেও একই ছবি। গোলের জন্য মরিয়া মায়ামি বার বার আক্রমণে উঠতে থাকে। অবশেষে ৭৪ মিনিটে আসে কাঙ্ক্ষিত গোল। বক্সের প্রান্ত থেকে দে পলের নিখুঁত পাস পেয়ে বল জালে জড়িয়ে দেন ৩৯ বছরের সুয়ারেজ। ২-১ এগিয়ে যায় মায়ামি। চলতি লিগে এটি সুয়ারেজের ১৩তম গোল।

এর পর মায়ামির জয় প্রায় নিশ্চিত বলেই মনে হচ্ছিল। কিন্তু ম্যাচের শেষ দিকে ফের ঘুরে যায় ছবি। ৮২ মিনিটে আবার টভার্সকভ-ড্রেয়ার জুটি। মাঝমাঠ থেকে টভার্সকভের মাপা পাস ধরে ঠান্ডা মাথায় বল জালে পাঠিয়ে দেন ড্রেয়ার। নিজের দ্বিতীয় গোল করে সান দিয়েগোকে ২-২ সমতায় ফেরান তিনি।
শেষ মুহূর্তে উল্টে ম্যাচ জেতার সুযোগও এসেছিল সান দিয়েগোর সামনে। সংযুক্ত সময়ের শেষ দিকে পাল্টা আক্রমণ থেকে কিরান সার্জেন্টের শট কোনও মতে আটকে দেন মায়ামির গোলরক্ষক স্ট ক্লেয়ার। সেই শট জালে ঢুকে গেলে ঘরের মাঠে আরও বড় ধাক্কা খেতে হত মেসিদের।
শেষ পর্যন্ত ২-২ ড্রতেই সন্তুষ্ট থাকতে হল মায়ামিকে। একাধিক সুযোগ তৈরি করেও জয় না পাওয়ায় ন্যাশভিলের সঙ্গে ব্যবধান কমানো গেল না। মেসির দুরন্ত ১০১তম গোলও শেষ পর্যন্ত দলকে তিন পয়েন্ট এনে দিতে পারল না।
