34 C
Kolkata
September 15, 2026
রাজ্য

রেজিনগরে বিজেপির প্রার্থী শাখারভ সরকার, নন্দীগ্রামে হাসিরানি

নিজস্ব সংবাদদাতা, মুর্শিদাবাদ— দীর্ঘ জল্পনার অবসান। অবশেষে রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করল বিজেপি। দলের পরীক্ষিত সংগঠক এবং রাজ্য সম্পাদক শাখারভ সরকারের উপরই ভরসা রাখল গেরুয়া শিবির। মঙ্গলবার বেলা ১১টা নাগাদ নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর— দুই কেন্দ্রের প্রার্থীর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। প্রত্যাশিতভাবেই নন্দীগ্রামে প্রার্থী করা হয়েছে নিহত চন্দ্রনাথ রথের মা হাসিরানি রথকে।

রেজিনগরে শাখারভ সরকারকে প্রার্থী করার সিদ্ধান্তকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। মুর্শিদাবাদের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরেই বিজেপির পরিচিত মুখ শাখারভ। বাবার হাত ধরে তাঁর রাজনীতিতে প্রবেশ। পরে বিজেপির সঙ্গে যুক্ত হন তিনি। রাজ্য সম্পাদকের দায়িত্ব পাওয়ার আগে দীর্ঘদিন বহরমপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি হিসেবে সংগঠনের দায়িত্ব সামলেছেন। জেলায় বিজেপির সংগঠন মজবুত করার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা রয়েছে বলে দলীয় নেতৃত্বের দাবি।

এবার হুমায়ুন কবীরের ছেড়ে যাওয়া রেজিনগর আসন বিজেপির দখলে আনতে শাখারভকেই বড় দায়িত্ব দিল দল। প্রার্থী ঘোষণার পর থেকেই দলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছে। দলীয় সূত্রে খবর, বুধবারই মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারেন শাখারভ সরকার।

প্রার্থী হিসেবে নাম ঘোষণার পর শাখারভ বলেন, ‘বাবার হাত ধরে রাজনীতিতে এসেছিলাম। যুক্ত হয়েছিলাম বিজেপির সঙ্গে। প্রার্থী হওয়ার জন্য আমি কখনও কারও কাছে দরবার করিনি। দলকে জানিয়েছিলাম, আমাকে যে দায়িত্ব দেওয়া হবে, তা নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করব।’

রেজিনগরের নির্বাচনকে কোনওভাবেই ধর্মীয় বা সাম্প্রদায়িক নির্বাচন হিসেবে দেখতে চান না বিজেপি প্রার্থী। তাঁর কথায়, ‘রেজিনগরে যে উপনির্বাচন হচ্ছে, তা ধর্মীয় বা সাম্প্রদায়িক নির্বাচন নয়। মানুষ এখানে উন্নয়নের জন্য ভোট দেবেন। ওই কেন্দ্রে শুধু ‘আমি’ প্রার্থী নই, সেখানকার প্রতিটি কার্যকর্তাই বিজেপির প্রার্থী।’

রেজিনগরের উন্নয়নকেই প্রচারের মূল হাতিয়ার করার কথা জানিয়েছেন শাখারভ। তাঁর দাবি, এলাকায় ভালো স্কুল ও কলেজের প্রয়োজন রয়েছে। উচ্চশিক্ষার জন্য পড়ুয়াদের বাইরে যেতে হয়। একইসঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য ভাগীরথী নদীর উপর স্থায়ী সেতু নির্মাণ জরুরি। স্বাস্থ্য পরিষেবার উন্নয়নও তাঁর অন্যতম লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন তিনি।

শাখারভ বলেন, ‘রেজিনগরের মানুষের ভালো স্কুল, কলেজ দরকার। ছেলেমেয়েদের উচ্চশিক্ষার জন্য বাইরে যেতে হয়। পাশাপাশি মানুষের যাতায়াতের সুবিধার জন্য ভাগীরথী নদীর ওপর একটি স্থায়ী ব্রিজ নির্মাণ করা অত্যন্ত জরুরি। স্বাস্থ্য পরিষেবার উন্নতিও প্রয়োজন। এই সমস্ত বিষয়ই আমার নির্বাচনী প্রচারের মূল ইস্যু হবে। দলের কার্যকর্তারা ইতিমধ্যেই প্রচারে নেমে পড়েছেন।’


শাখারভকে প্রার্থী করায় উচ্ছ্বসিত বহরমপুর সাংগঠনিক জেলা বিজেপিও। জেলা সভাপতি মলয় মহাজন বলেন, ‘শাঁখারভদা দীর্ঘদিন জেলা সভাপতি হিসেবে সংগঠনকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তাঁকে দল প্রার্থী করায় আমরা সকল কর্মী-সমর্থক খুশি। রেজিনগরে বিজেপি অবশ্যই জিতবে। তাঁকে জেতানোর জন্য আজ থেকেই সমস্ত কর্মীরা জোরকদমে প্রচার শুরু করে দিয়েছি।’

প্রসঙ্গত, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে চমক দিয়েছিলেন হুমায়ুন কবীর। নিজের দল আম জনতা উন্নয়ন পার্টির বাঁশি প্রতীকে নওদা এবং রেজিনগর— দুই কেন্দ্র থেকেই জয়ী হয়েছিলেন তিনি। পরে নিয়ম মেনে রেজিনগর আসন থেকে পদত্যাগ করেন হুমায়ুন। সেই কারণেই আগামী ৬ অক্টোবর রেজিনগরে উপনির্বাচন হতে চলেছে।

এই উপনির্বাচন ঘিরে ইতিমধ্যেই মুর্শিদাবাদের রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়তে শুরু করেছে। কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেসের দুই প্রতিদ্বন্দ্বী শিবির, আম জনতা উন্নয়ন পার্টি, বামফ্রন্টের শরিক আরএসপি এবং সিপিএম ইতিমধ্যেই প্রার্থী ঘোষণা করেছে। সবশেষে মঙ্গলবার প্রার্থী ঘোষণা করল বিজেপি।

নির্বাচনের আগে শাখারভের পুরনো রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়েও চর্চা শুরু হয়েছে। বিধানসভা নির্বাচনের সময় হুমায়ুন কবীর একদিকে বাবরি মসজিদ তৈরির ঘোষণা করেছিলেন বলে রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। তার পালটা শাখারভ সরকার বহরমপুরে রাম মন্দিরের ভূমিপুজো করে কাজ শুরু করেছিলেন। ফলে রেজিনগরের উপনির্বাচনে উন্নয়নের ইস্যুর পাশাপাশি এই রাজনৈতিক সংঘাতের প্রভাবও পড়ে কি না, সেদিকেও নজর থাকবে।

Related posts

Leave a Comment