30 C
Kolkata
September 15, 2026
রাজ্য

২০ দিনেও নিখোঁজ স্ত্রী, আশার খোঁজে মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ শুভ্রাংশু

নিজস্ব সংবাদদাতা, হালিশহর— নেপালে ভয়াবহ হড়পা বান ও হিমবাহ হ্রদ গলে জোড়া বিপর্যয়ের পর কেটে গিয়েছে ২০ দিন। এখনও খোঁজ মেলেনি বীজপুরের প্রাক্তন বিধায়ক শুভ্রাংশু রায়ের স্ত্রী শর্মিষ্ঠা ভৌমিকের। দীর্ঘদিন ধরে স্ত্রী নিখোঁজ থাকায় হালিশহরের বাড়িতে নেমে এসেছে শূন্যতা। একাদশ শ্রেণির মেয়ে কার্যত মায়ের ভূমিকা নিয়ে ছোট ভাইকে আগলে রাখছে। তবে এখনও হাল ছাড়তে নারাজ শুভ্রাংশু। তাঁর দৃঢ় বিশ্বাস, বিপর্যয়ের আগেই স্ত্রী নিরাপদে চিন সীমান্তে পৌঁছে গিয়েছিলেন।

স্ত্রীর সন্ধানে এবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর দ্বারস্থ হতে চলেছেন শুভ্রাংশু রায়। শুধু তিনি নন, নেপালের বিপর্যয়ের পর থেকে নিখোঁজ থাকা পশ্চিমবঙ্গের পরিবারের সদস্যদেরও বুধবার নবান্নে ডেকে পাঠিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। শুভ্রাংশুর আশা, মুখ্যমন্ত্রীর কাছ থেকেই এবার কোনও আশার খবর পাওয়া যেতে পারে।

মঙ্গলবার নিজের বাড়িতে সাংবাদিক বৈঠক করেন শুভ্রাংশু। সেখানেই স্ত্রীকে নিয়ে নিজের আশার কথা জানান তিনি। শুভ্রাংশুর কথায়, ‘আমি নিজের আশার কথা বলেছি মাত্র। শর্মিষ্ঠারা যে চিন সীমান্তের দিকে চলে গিয়েছে, তেমন একটি সূত্র চিনের এক সংস্থার কাছে পাওয়া গিয়েছে। আমার ফেসবুক পোস্টে তা শেয়ার করেছি। তাই আমার ধারণা, ওই চিন সীমান্তেই কিছু লুকিয়ে রয়েছে।’


জানা গিয়েছে, কৈলাস ও মানস সরোবর দর্শনের জন্য একটি টুর সংস্থার সঙ্গে বেরিয়েছিলেন শর্মিষ্ঠা ভৌমিক। বাড়িতে দুই ছেলেমেয়েকে রেখে একাই এই সফরে গিয়েছিলেন তিনি। গত ২৫ আগস্ট রাতে শুভ্রাংশু এবং তাঁর পরিবারের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা হয়েছিল শর্মিষ্ঠার। সেই সময় তিনি জানিয়েছিলেন, ভিসা হাতে পেয়েছেন এবং পরদিনই চিন সীমান্তের দিকে, অর্থাৎ মানস সরোবরের উদ্দেশে রওনা দেওয়ার কথা রয়েছে।

এর পরদিনই, ২৬ আগস্ট, নেপালে ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয় ঘটে। হড়পা বান এবং হিমবাহ হ্রদ গলে বিপুল ক্ষয়ক্ষতি হয়। বহু মানুষের মৃত্যু হয় এবং এখনও অনেকে নিখোঁজ। পশ্চিমবঙ্গ থেকেও একাধিক পর্যটকের কোনও সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। তাঁদের মধ্যে শর্মিষ্ঠা-সহ ৩২ থেকে ৩৭টি পরিবারের সদস্য রয়েছেন বলে জানা যাচ্ছে।

নিখোঁজদের পরিবারের কাছে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, তাঁদের প্রিয়জনেরা আদৌ বেঁচে রয়েছেন কি না। প্রশাসনিক স্তরে তাঁদের সন্ধানের চেষ্টা চলছে। কিন্তু এখনও নিশ্চিত কোনও খবর না আসায় উদ্বেগ বাড়ছে পরিবারগুলির মধ্যে।

এর মধ্যেও স্ত্রীকে নিয়ে আশাবাদী শুভ্রাংশু। বারবার সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করে তিনি জানিয়েছেন, শর্মিষ্ঠা এবং তাঁর সঙ্গে থাকা পর্যটকেরা বিপর্যয়ের আগেই নিরাপদ এলাকায় পৌঁছে গিয়ে থাকতে পারেন। তাঁর যুক্তি, মানস সরোবরের পথে চিন সীমান্তের দিকে যাওয়ার সময় তাঁরা নেপালের বিপর্যয় কবলিত এলাকার বাইরে চলে গিয়ে থাকতে পারেন।

এখন বুধবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের দিকেই তাকিয়ে শুভ্রাংশু-সহ নিখোঁজ পর্যটকদের পরিবারগুলি। দীর্ঘ ২০ দিন ধরে কোনও নিশ্চিত খবর না মেলায় মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে সন্ধান অভিযানে নতুন কোনও তথ্য বা সূত্র মেলে কি না, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

Related posts

Leave a Comment