28 C
Kolkata
September 10, 2026
রাজ্য

রক্ষাকবচ উঠতেই অভিষেকের আপ্তসহায়ক সুমিত রায় গ্রেপ্তার, কাল মেদিনীপুর আদালতে

সংবাদ কলকাতা: সুপ্রিম কোর্টের রক্ষাকবচ উঠতেই বৃহস্পতিবার বেলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়কে গ্রেপ্তার করেছে সিআইডি। শালবনি জমি দুর্নীতি মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। শুক্রবার সুমিতকে মেদিনীপুর আদালতে পেশ করে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানাবেন তদন্তকারী আধিকারিকরা।

সিআইডির দাবি, একাধিক বার তলব করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেও তদন্তের সব প্রশ্নের সন্তোষজনক উত্তর মেলেনি। সেই কারণেই সুমিতকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা। আগাম জামিনের আবেদন খারিজ হওয়ার পর তিনি ফের আত্মগোপন করতে পারেন, এমন আশঙ্কাও ছিল বলে সিআইডি সূত্রে জানা গিয়েছে। ফলে শীর্ষ আদালতের রক্ষাকবচ উঠে যেতেই তাঁকে গ্রেপ্তারে তৎপর হয়ে ওঠে তদন্তকারী সংস্থা।


বৃহস্পতিবার সুমিত রায় কালীঘাটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতেই ছিলেন বলে জানা যায়। রক্ষাকবচ প্রত্যাহারের পরই তাঁর খোঁজে সিআইডি ও এসটিএফের আধিকারিকরা এলাকায় পৌঁছে যান। বাড়ির আশপাশে নজরদারি বাড়ানো হয়। পরে অভিষেকের বাড়ি থেকেই সুমিতকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এর আগে ভবানী ভবনে হাজিরার জন্য সুমিত রায়কে ১১ বার তলব করা হয়েছিল বলে তদন্তকারী সংস্থার তরফে জানানো হয়। তদন্তকারীদের নজর ছিল তাঁর গতিবিধির উপরও। সুমিতের ঠিকানা হিসেবে ১১৯ নম্বর কালীঘাট রোডের কথা জানা গেলেও বৃহস্পতিবার সকালে তিনি ১২১ নম্বর কালীঘাট রোডে অভিষেকের বাড়িতে পৌঁছন। সেখানে যাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সুমিত রায়ের গ্রেপ্তারি নিয়ে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও শুরু হয়েছে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা পুলিশমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী কড়া ভাষায় সুমিতকে আক্রমণ করে বলেন, ‘এই রাজ্যের একজন প্রসিদ্ধ তোলাবাজ সুমিত রায়। সুপ্রিম কোর্ট রক্ষাকবচ তুলে নিয়েছে। তোলাবাজ ভাইপোর একনম্বর কালেক্টর হল এই সুমিত রায়, তাকে আজ সিআইডি গ্রেফতার করেছে।’

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা বালুরঘাটের সাংসদ সুকান্ত মজুমদার বলেন, সুপ্রিম কোর্টে আগাম জামিন খারিজ হওয়ার পর সুমিত রায়ের গ্রেপ্তার হওয়া স্বাভাবিক। তাঁর দাবি, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হয়ে সুমিতই নানা কাজ করতেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। সুকান্তের কথায়, ‘কান টানলে মাথা আসবে।’ এই গ্রেপ্তারির পর তদন্ত আরও এগিয়ে যাবে বলেও ইঙ্গিত করেন তিনি।


বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষও সুমিতের গ্রেপ্তারিকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁর দাবি, সুপ্রিম কোর্টের রক্ষাকবচ উঠে যাওয়ার পরই সিআইডি তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে। একই সঙ্গে আরও বড় কোনও পদক্ষেপের দিকে ইঙ্গিত করে সজল বলেন, সুমিতের পর এবার তদন্ত কোথায় পৌঁছয়, সেদিকেই নজর রয়েছে।

শালবনি জমি দুর্নীতি মামলায় ইতিমধ্যেই চার্জশিট তৈরির প্রক্রিয়া এগিয়েছে। মামলায় মোট চারজনের নাম রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এর আগে পশ্চিম মেদিনীপুরের তৃণমূলের সাংগঠনিক জেলার প্রাক্তন সভাপতি সুজয় হাজরা-সহ আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। এবার সেই মামলাতেই সুমিত রায়কে গ্রেপ্তার করল সিআইডি।

তদন্তকারীদের নজরে রয়েছে জমি সংক্রান্ত লেনদেন এবং মামলার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের ভূমিকা। সুমিতকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে এই মামলায় আরও তথ্য সামনে আসতে পারে বলে মনে করছে সিআইডি। শুক্রবার মেদিনীপুর আদালতে তাঁর পেশ এবং হেফাজতের আবেদনের পর তদন্ত কোন পথে এগোয়, এখন সেদিকেই নজর।

Related posts

Leave a Comment