খার্গ দ্বীপ—: ইরানের অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র খার্গ দ্বীপে ফের হামলার ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। শনিবার ইরানের এই গুরুত্বপূর্ণ তেলকেন্দ্রে মার্কিন সেনা হামলা চালিয়েছে বলে খবর। একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়েছে বলে প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে। হামলার পর খার্গ দ্বীপে একের পর এক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গিয়েছে বলেও খবর।
ইরানের তেল রপ্তানির ক্ষেত্রে খার্গ দ্বীপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পারস্য উপসাগরে অবস্থিত এই দ্বীপ থেকে দীর্ঘদিন ধরেই ইরানের বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল বিদেশে পাঠানো হয়। ফলে এই এলাকায় হামলা হলে শুধু ইরানের তেল পরিকাঠামোই নয়, আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও তার প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকে।
শনিবারের হামলায় ঠিক কী ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। প্রাথমিক খবর অনুযায়ী, একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কার ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সঙ্গে দ্বীপের বিভিন্ন এলাকায় পর পর বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। হামলার পর সেখানে কী পরিমাণ আগুন বা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনও সামনে আসেনি।

খার্গ দ্বীপকে ইরানের ‘জীবনরেখা’ বলা হয় মূলত দেশের তেল রপ্তানিতে এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কারণে। ইরানের অন্যতম প্রধান তেল রপ্তানি টার্মিনাল এই দ্বীপেই রয়েছে। এখান থেকে তেলবাহী জাহাজে করে বিভিন্ন দেশে অপরিশোধিত তেল পাঠানো হয়। তাই খার্গকে লক্ষ্য করে হামলা হলে ইরানের তেল রপ্তানি ব্যবস্থায় বড় ধাক্কা লাগতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
এর আগে পশ্চিম এশিয়ায় ইরানকে ঘিরে সামরিক উত্তেজনা একাধিক বার আন্তর্জাতিক উদ্বেগ তৈরি করেছে। সেই আবহেই ফের খার্গ দ্বীপে হামলার খবর সামনে এল। ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
তবে শনিবারের হামলা সম্পর্কে মার্কিন সেনার তরফে বিস্তারিত কী জানানো হয়েছে, হামলার সঠিক লক্ষ্য কী ছিল এবং কতগুলি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে— সেই বিষয়ে এখনও পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি। একই ভাবে ইরানের তরফেও ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত হিসাব পাওয়া যায়নি।

আন্তর্জাতিক মহলের নজর এখন খার্গ দ্বীপের পরিস্থিতির দিকে। তেল রপ্তানি স্বাভাবিক রয়েছে কি না, ক্ষতিগ্রস্ত ট্যাঙ্কারটির অবস্থা কী এবং দ্বীপের তেল পরিকাঠামোয় কতটা ক্ষতি হয়েছে, সে বিষয়ে পরবর্তী তথ্যের অপেক্ষায় রয়েছে বিভিন্ন মহল।
