September 5, 2026
রাজ্য

দুর্গাপুজোর দখল নিয়ে ডোমজুড়ে তৃণমূল-বিজেপি সংঘর্ষ, ইটবৃষ্টিতে জখম একাধিক; নামল পুলিশ ও র‌্যাফ

নিজস্ব সংবাদদাতা, হাওড়া— দুর্গাপুজো কমিটির পরিচালনার দায়িত্ব কার হাতে থাকবে, তা নিয়ে তৃণমূল ও বিজেপির সংঘর্ষে উত্তপ্ত হাওড়ার ডোমজুড়। রাজাপুর জাগদাপোতা এলাকার পুরনো বারোয়ারি দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে কয়েক দিন ধরেই দুই পক্ষের মধ্যে বিবাদ চলছিল। বৃহস্পতিবার সেই বিবাদ প্রকাশ্যে সংঘর্ষের চেহারা নেয়। হাতাহাতির পাশাপাশি একে অপরের দিকে ইট-পাটকেল ছোড়ার অভিযোগও উঠেছে। ঘটনায় একাধিক ব্যক্তি জখম হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে বিশাল পুলিশবাহিনী এবং র‌্যাফ মোতায়েন করতে হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজাপুর জাগদাপোতা এলাকার ওই বারোয়ারি দুর্গাপুজো দীর্ঘদিনের। পুজোর পরিচালনা কমিটিতে এ বার কারা থাকবেন, তা নিয়েই মূল বিরোধের সূত্রপাত। তৃণমূলের স্থানীয় নেতা-কর্মীদের দাবি, এত দিন তাঁরাই এই পুজোর উদ্যোক্তা ছিলেন। এ বারও পুজোর পরিচালনার দায়িত্ব তাঁদের হাতেই থাকবে। অন্যদিকে বিজেপির স্থানীয় নেতা-কর্মীদের দাবি, এ বার পুজো পরিচালনায় তাঁদেরও ভূমিকা থাকবে এবং এলাকার সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়েই পুজোর আয়োজন করা হবে।

এই বিষয়টি নিয়ে গত কয়েক দিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে চাপানউতোর চলছিল। বৃহস্পতিবার তা হঠাৎ উত্তেজনার চেহারা নেয়। প্রথমে বচসা এবং হাতাহাতি শুরু হয়। পরে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ। দুই পক্ষের লোকজন পরস্পরের দিকে ইট-পাটকেল ছুড়তে শুরু করেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।

গোলমালের খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয়। পরে র‌্যাফকেও নামানো হয়। পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি আপাতত নিয়ন্ত্রণে এলেও এলাকায় উত্তেজনা রয়েছে। নতুন করে যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে জন্য নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।


বিজেপি কর্মী বিক্রম আদকের অভিযোগ, এলাকায় একটি মন্দির রয়েছে। সেখানে খুঁটিপুজো করে দুর্গাপ্রতিমা তৈরির কাজ শুরু হয়েছিল। বিজেপির কর্মীরাই সেই কাজের দেখভাল করছিলেন। তাঁর অভিযোগ, আচমকাই তৃণমূলের লোকজন সেখানে গিয়ে মন্দিরে তালা ঝুলিয়ে দেন। এর প্রতিবাদ করতে গেলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

বিক্রমের দাবি, এত দিন বিরোধী দলের কর্মীদের পুজোর পরিচালনা থেকে দূরে রাখা
হত। এ বার এলাকার সবাইকে নিয়ে পুজো করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু তৃণমূল সেই উদ্যোগে বাধা দিচ্ছে বলে অভিযোগ বিজেপির।

অন্যদিকে, বিজেপির অভিযোগ সরাসরি খারিজ করেছে তৃণমূল। স্থানীয় তৃণমূল নেতা-কর্মীদের দাবি, ওই বারোয়ারি দুর্গাপুজোর উদ্যোক্তা তাঁরাই। বিজেপি পরিকল্পিত ভাবে পুজোর পরিচালনার দায়িত্ব নিজেদের হাতে নেওয়ার চেষ্টা করছে বলে পাল্টা অভিযোগ তৃণমূলের।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবারের সংঘর্ষের পর আপাতত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে দুই পক্ষের মধ্যে পুজো পরিচালনা নিয়ে সমাধান হয়েছে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। এলাকায় যাতে ফের উত্তেজনা ছড়িয়ে না পড়ে, সে জন্য পুলিশি নজরদারি বজায় রাখা হয়েছে।

দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক সংঘর্ষের এই ঘটনা নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে। পুজোর মতো সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আয়োজনের পরিচালনা নিয়ে রাজনৈতিক দলের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। পুজোর আগে পরিস্থিতি কীভাবে স্বাভাবিক রাখা যায়, এখন সেটাই প্রশাসনের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ।

Related posts

Leave a Comment