September 4, 2026
কলকাতা

কলকাতায় ভুয়ো কলসেন্টার থেকে ৬৬ জন গ্রেপ্তার

৫জি টাওয়ার বসানোর টোপে দেশজুড়ে প্রতারণা

সংবাদ কলকাতা: বাড়ি বা জমিতে ৫জি মোবাইল টাওয়ার (5G Mobile Tower) বসিয়ে মোটা টাকা আয়ের প্রস্তাব দিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ফোন করে প্রতারণার অভিযোগ। কলকাতা পুলিশ (Kolkata Police) বুধবার সন্ধ্যায় কসবা (Kasba) থানা এলাকার রাজডাঙা মেন রোডে (Rajdanga Main Road) দু’টি ভুয়ো কলসেন্টারে (Fake Call Centre) অভিযান চালিয়ে মোট ৬৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। লালবাজারের (Lalbazar) বিবৃতি অনুযায়ী, ধৃতদের মধ্যে ৪১ জন মহিলা এবং ২৬ জন পুরুষ রয়েছেন।

লালবাজার সূত্রের খবর, চক্রের সদস্যরা কখনও প্রথম সারির টেলিকম সংস্থার (Telecom Company) কর্মী, আবার কখনও ব্যাঙ্ক (Bank) বা বিমা সংস্থার (Insurance Company) আধিকারিক পরিচয় দিয়ে ফোন করতেন। বাড়ি বা জমিতে ৫জি টাওয়ার বসানোর বিনিময়ে মোটা টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হত। এরপর টাওয়ার বসানোর ‘প্রক্রিয়াগত খরচ’ বা ‘প্রসেসিং ফি’ (Processing Fee) হিসেবে প্রায় এক লক্ষ টাকা চাওয়া হত। নির্দিষ্ট কয়েকটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হত।

পুলিশের অভিযোগ, এই প্রলোভনে পড়ে অনেকেই টাকা পাঠিয়ে প্রতারণার শিকার হয়েছেন। টাওয়ার বসানোর পাশাপাশি নিয়মিত আয় বা মোটা ভাড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সম্ভাব্য ‘শিকার’কে বিশ্বাস করানোর চেষ্টা করা হত। টাকা পাওয়ার পর যোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়া হত বলে অভিযোগ।

অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমে কসবা থানার পুলিশ রাজডাঙা মেন রোডের দু’টি ভুয়ো কলসেন্টারের সন্ধান পায়। সেখানে অভিযান চালিয়ে ৬৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের মধ্যে ৪১ জন মহিলা এবং ২৬ জন পুরুষ রয়েছেন।

তল্লাশিতে ৩৯টি মোবাইল ফোন (Mobile Phones), ন’টি চার্জার (Chargers), ন’টি ডায়েরি (Diaries), দু’টি এটিএম ডেবিট কার্ড (ATM Debit Cards) এবং নগদ ১৬ হাজার টাকা উদ্ধার হয়েছে। উদ্ধার হওয়া সামগ্রী পরীক্ষা করে চক্রটির কার্যকলাপ এবং আর্থিক লেনদেনের তথ্য জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানতে পেরেছে, অভিযুক্তেরা একটি ভুয়ো সংস্থার (Fake Company) কর্মী হিসেবে কাজ করতেন। শুধু ৫জি টাওয়ার বসানোর টোপ নয়, বিমা এবং ঋণের প্রস্তাব দিয়েও একই পদ্ধতিতে প্রতারণা চালানো হত বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, আকর্ষণীয় লাভের বিমা পলিসি (Insurance Policy), স্বাস্থ্যবিমা (Health Insurance) এবং কম সুদে ব্যবসায়িক ও ব্যক্তিগত ঋণ (Business and Personal Loans) দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হত। বিভিন্ন পরিষেবার জন্য অগ্রিম টাকা বা ‘প্রসেসিং ফি’ চেয়ে তা নির্দিষ্ট ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠাতে বলা হত।

নামী সংস্থার পরিচয় ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করাই ছিল প্রতারণাচক্রের অন্যতম কৌশল বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা। উদ্ধার হওয়া মোবাইল ফোন ও ডায়েরি থেকে চক্রটি দেশের কোন কোন এলাকায় ফোন করত, কত জনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল এবং আর্থিক লেনদেনের পরিমাণ কত, তা জানার চেষ্টা চলছে।

তদন্তকারীদের অনুমান, এই চক্রের সঙ্গে আরও ব্যক্তি যুক্ত থাকতে পারেন। সেই কারণে ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে মূল চক্রের মাথাদের সন্ধান এবং ব্যবহৃত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টগুলির বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। কলকাতায় বসে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ফোন করে প্রতারণা চালানোর অভিযোগ সামনে আসায় ঘটনাটিকে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছে পুলিশ।

Related posts

Leave a Comment