সংবাদ কলকাতা: কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলার অ্যাডভাইজরি কমিটিতে বড়সড় রদবদল করা হল। নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর পুরনো কমিটি ভেঙে ২৪ সদস্যের নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। নয়া কমিটিতে রামকৃষ্ণ মিশন, ভারত সেবাশ্রম সংঘ এবং পাবলিশার্স অ্যান্ড বুক সেলার্স গিল্ডের প্রতিনিধিদের রাখা হয়েছে। তবে গিল্ডের বর্তমান সম্পাদক ত্রিদিবকুমার চট্টোপাধ্যায় এবং সভাপতি সুধাংশুশেখর দে নতুন কমিটিতে জায়গা পাননি।
আগের কমিটিতে শিল্পী শুভাপ্রসন্ন, যোগেন চৌধুরীর পাশাপাশি তৎকালীন সরকারের একাধিক মন্ত্রীও ছিলেন। তাঁদের মধ্যে অরূপ বিশ্বাস এবং ফিরহাদ হাকিমের নাম উল্লেখযোগ্য। দীর্ঘদিন ধরে একই ব্যক্তিদের কমিটিতে থাকা এবং বইমেলা পরিচালনায় পাবলিশার্স অ্যান্ড বুক সেলার্স গিল্ডের ভূমিকা নিয়ে প্রকাশকদের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল।

সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রীর বিশেষ উপদেষ্টা সুব্রত গুপ্তের কাছে গিল্ডের কাজ ও ভূমিকা নিয়ে লিখিত অভিযোগও জমা পড়ে বলে সূত্রের খবর। কমিটিতে একই ব্যক্তিদের দীর্ঘদিন ধরে থাকা এবং গিল্ডের একচ্ছত্র প্রভাব নিয়েও অভিযোগ জানানো হয়েছিল। সেই প্রেক্ষাপটেই নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর।
মুখ্যমন্ত্রীর প্রধান উপদেষ্টা সুব্রত গুপ্তের স্বাক্ষরিত নির্দেশিকা অনুযায়ী ২৪ সদস্যের নতুন অ্যাডভাইজরি কমিটি তৈরি হয়েছে। সেখানে রামকৃষ্ণ মিশনের স্বামী আর্যেশানন্দ, ভারত সেবাশ্রম সংঘের স্বামী সারস্বতানন্দ এবং পাবলিশার্স অ্যান্ড বুক সেলার্স গিল্ডের দেবজ্যোতি দত্ত, অনিল আচার্য, মিলিন্দ দে ও রাজকুমার বর্মণ রয়েছেন। এছাড়াও দেবজিৎ সরকার, সপ্তর্ষি চৌধুরি, প্রসেনজিৎ বক্সি, বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়, সুকেশ মণ্ডল, মোহিত রায়, ওসমান গণি এবং আশিস গিরির মতো ব্যক্তিরা কমিটিতে রয়েছেন।
নয়া কমিটিতে বিজেপির কয়েকজন নেতার অন্তর্ভুক্তিও রাজনৈতিক মহলে নজর কেড়েছে। ২০২৭ সালের কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলা পাবলিশার্স অ্যান্ড বুক সেলার্স গিল্ড, ইজেডসিসি এবং ন্যাশনাল বুক ট্রাস্ট যৌথভাবে আয়োজন করবে। রাজ্য সরকারের তৈরি ২৪ সদস্যের কমিটি বইমেলা সংক্রান্ত বিষয়ে পরামর্শ দেবে।

নতুন কমিটির মাধ্যমে বইমেলার পরিচালনায় আরও স্বচ্ছতা এবং নতুন ভাবনা আসবে বলে মনে করা হচ্ছে। সম্প্রতি রাজ্যসভার সাংসদ তথা বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যও কলকাতা বইমেলায় ভারতীয়ত্বের প্রতিফলন থাকা উচিত বলে মন্তব্য করেছিলেন। নতুন কমিটি বইমেলাকে আরও বেশি মানুষের অংশগ্রহণের ক্ষেত্র করে তুলবে কি না, এখন সেদিকেই নজর।
