সংবাদ কলকাতা:— যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরে এবং বাইরে জাতীয়তাবাদ প্রতিষ্ঠা করা হবে বলে কড়া বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ভবানীপুরের নর্দান পার্কে অন্নপূর্ণা যোজনা সংক্রান্ত এক সরকারি অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করতে গিয়ে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক সংঘর্ষ ও বিতর্কের প্রসঙ্গ তোলেন তিনি। জাতীয় পতাকা, ‘বন্দে মাতরম্’ এবং দেশপ্রেমের প্রশ্নে সরকারের অবস্থান থেকে কোনও ভাবেই সরে আসা হবে না বলেও স্পষ্ট করেন মুখ্যমন্ত্রী।
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংগঠনগুলির সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে গত কয়েক দিন ধরেই রাজনৈতিক চাপানউতোর চলছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরে একাধিক ছাত্র সংগঠনের মধ্যে উত্তেজনা, মারামারি এবং ঐতিহাসিক প্রতীক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনা নিয়ে সরব হয়েছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। সেই আবহেই শনিবার মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

শুভেন্দু বলেন, ‘যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে বন্দে মাতরম্ গাইতে দেয় না। জাতীয় পতাকা ওড়ে না সেখানে। শিক্ষা দফতরকে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। সিসি ক্যামেরা লাগাতে দেওয়া হয় না। কিন্তু আমরা যাদবপুরের ভিতরে ও বাইরে জাতীয়তাবাদ প্রতিষ্ঠা করবই।’
যাদবপুরের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে সমাজমাধ্যমে যাঁরা সরকারের সমালোচনা করছেন, তাঁদেরও কড়া বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘যাঁরা যাদবপুর নিয়ে সমাজমাধ্যমে কাঁদছেন, তাঁরা শুনে রাখুন, এ রাজ্যে থাকতে গেলে বন্দে মাতরম্ গাইতে হবে। দেশপ্রেম, জাতীয়তাবাদ এবং রাষ্ট্রবাদের সঙ্গে কোনও আপস হবে না।’
দেশবিরোধী স্লোগান নিয়ে আরও কঠোর অবস্থান প্রকাশ করেন তিনি। ‘কাশ্মীর মাঙ্গে আজ়াদি’ ধরনের স্লোগান তোলার অভিযোগ প্রসঙ্গে শুভেন্দু বলেন, এ ধরনের কার্যকলাপের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর ব্যবস্থা নেবে। তবে তাঁর বক্তব্যের ভাষা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
জাতীয় দিবস পালন নিয়েও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, যাঁরা ২৬ জানুয়ারি বা ১৫ আগস্ট পালন করেন না, তাঁদের পক্ষ নিয়ে সংবাদমাধ্যমের একাংশ সমালোচনা করলেও সরকার নিজেদের অবস্থান থেকে সরবে না। তাঁর বক্তব্যে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের আদর্শ, সনাতন সংস্কৃতি এবং জাতীয়তাবাদের প্রসঙ্গও উঠে আসে।
শুভেন্দু বলেন, ‘রাষ্ট্রবাদ, সনাতন সংস্কৃতি, বন্দে মাতরম্, তেরঙ্গা, রবীন্দ্রনাথ, নেতাজি, বঙ্কিমচন্দ্র কিংবা কালীঘাট, দক্ষিণেশ্বর ও তারকেশ্বর ধামের আস্থার সঙ্গে কোনও সমঝোতা করা হবে না।’

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক সংঘর্ষের পিছনে বামপন্থী ছাত্র রাজনীতির ভূমিকা নিয়েও সরব হন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্যে সিপিএমের সমালোচনাও উঠে আসে। সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই ছাত্র সংগঠনের মধ্যে সংঘর্ষের পর আহত কয়েক জন পড়ুয়াকে দেখতে হাসপাতালে গিয়েছিলেন বিধায়ক শর্বরী মুখোপাধ্যায়। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে বামপন্থী রাজনৈতিক দলগুলির তরফেও রাজ্য সরকারের সমালোচনা করা হয়েছিল।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরে রাজনৈতিক সংঘাতের পাশাপাশি ঐতিহাসিক প্রতীক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনাও বিতর্ককে আরও বাড়িয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যে তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ স্বাভাবিক রাখা এবং শিক্ষাঙ্গনে সংঘর্ষ বন্ধ করার দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।
এই পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে যাদবপুরকে ঘিরে সরকারের বৃহত্তর রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট হয়েছে। জাতীয়তাবাদ, দেশপ্রেম এবং জাতীয় প্রতীকের মর্যাদা রক্ষার প্রশ্নে সরকার কঠোর থাকবে—এই বার্তাই দিয়েছেন শুভেন্দু। একই সঙ্গে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরে বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিগুলির আন্দোলনকেও সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন তিনি।
