August 14, 2026
রাজ্য

আরজি কর মামলায় নির্মল ঘোষকে আদালতে তোলার পথে তীব্র বিক্ষোভ, ডিম ছোড়া থেকে মারধরের অভিযোগ

খড়দহ — আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় গ্রেপ্তার পানিহাটির প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষকে শুক্রবার সকালে খড়দহ থানায় আনা হয়। থানায় কিছুক্ষণ রাখার পর তাঁকে ব্যারাকপুর মহকুমা আদালতে নিয়ে যাওয়ার সময় ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়। বিক্ষোভকারীদের একাংশ নির্মলকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়েন। পরিস্থিতি সামলাতে পুলিশ তাঁকে হেলমেট পরিয়ে বাইরে আনে। কিন্তু থানার দরজা থেকে পুলিশের গাড়ি পর্যন্ত যাওয়ার সময় তাঁকে কিল, চড় ও লাথি মারার অভিযোগ ওঠে।

নির্মলকে ওড়িশা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে নতুন করে অভিযোগ দায়ের হওয়ার পর পুলিশ তাঁকে আটক করে। একই মামলায় প্রাক্তন কাউন্সিলর সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়ও গ্রেপ্তার হয়েছেন। তাঁকেও শুক্রবার আদালতে তোলা হয়। সঞ্জীবকে লক্ষ্য করেও ডিম ছোড়া হয় বলে অভিযোগ।

থানার সামনে বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের একাংশ ‘চোর-চোর’ স্লোগান দিতে থাকেন। বিক্ষোভকারীদের কয়েক জনের হাতে জুতোর মালা দেখা যায়। পাশাপাশি জোরে গান বাজিয়ে বিক্ষোভ দেখানো হয়। পুলিশ দুই অভিযুক্তকে দ্রুত গাড়িতে তোলার চেষ্টা করলেও সেই সময় পরিস্থিতি সামলাতে তাদের যথেষ্ট বেগ পেতে হয়।

এই মামলার সঙ্গে নির্যাতিতার বাবার করা নতুন অভিযোগের যোগ রয়েছে। তাঁর অভিযোগে নির্মল ঘোষ, সঞ্জীব মুখোপাধ্যায় এবং তৃণমূলের পুরপ্রতিনিধি সোমনাথ দের নাম রয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে সঞ্জীবকে গ্রেপ্তার করা হয়। নির্মলকে পরে ওড়িশা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। সোমনাথ এখনও পুলিশের নাগালের বাইরে বলে জানা গিয়েছে। তাঁর সন্ধানে তল্লাশি চলছে।

শুক্রবার খড়দহ থানায় নির্যাতিতার বাবার উপস্থিতিও ছিল তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি সংবাদমাধ্যমের সামনে কোনও কথা বলেননি। তবে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের পরে তাঁর মুখে স্বস্তির ছাপ দেখা যায়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মামলার তদন্তে তাঁর গোপন জবানবন্দি নেওয়া হতে পারে। প্রয়োজনে তাঁর নিরাপত্তাও বাড়ানো হতে পারে।

২০২৪ সালের ৯ আগস্ট আরজি কর হাসপাতালে কর্তব্যরত তরুণী চিকিৎসকের দেহ উদ্ধার হয়। ঘটনার পর ধর্ষণ ও খুনের অভিযোগ সামনে আসে। সেই ঘটনার তদন্তে একাধিক প্রশ্ন উঠেছিল। বিশেষ করে দেহ উদ্ধারের পর কীভাবে এবং কার সিদ্ধান্তে এত দ্রুত সৎকার করা হয়েছিল, তা নিয়ে নির্যাতিতার পরিবার প্রশ্ন তোলে।

সেই সময় পানিহাটির বিধায়ক ছিলেন নির্মল ঘোষ। নির্যাতিতার বাবার নতুন অভিযোগে দেহ দ্রুত সৎকারের সঙ্গে তাঁর ভূমিকা থাকার অভিযোগ তোলা হয়েছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ নতুন করে তদন্ত শুরু করে। তদন্তে আরও কয়েক জনের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এই গ্রেপ্তারির ফলে আরজি কর-কাণ্ডে দেহ উদ্ধার থেকে সৎকার পর্যন্ত পর্বটি ফের তদন্তের কেন্দ্রে এসেছে। নির্মল ও সঞ্জীবকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ কী তথ্য পায়, সেই দিকে নজর রয়েছে। একই সঙ্গে সোমনাথ দে-র সন্ধান পাওয়ার পর তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তদন্তে নতুন কোনও তথ্য উঠে আসে কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

থানার সামনে শুক্রবারের বিক্ষোভে সাধারণ মানুষের ক্ষোভও স্পষ্ট হয়েছে। তবে বিক্ষোভ বা জনরোষের বাইরে তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করাই এখন মূল বিষয়। আদালতে শুনানি এবং তদন্তের পরবর্তী ধাপেই এই মামলায় অভিযুক্তদের ভূমিকা সম্পর্কে স্পষ্ট ছবি পাওয়া যাবে।

Related posts

Leave a Comment