নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্যের জেরে বিজেপি সাংসদ নগেন্দ্র রায় ওরফে অনন্ত মহারাজের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। তাঁর ‘বঙ্গবিভূষণ’ সম্মান প্রত্যাহার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার নবান্ন থেকে বিজ্ঞপ্তি জারি করে এ কথা জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, অনন্ত মহারাজকে দেওয়া বঙ্গবিভূষণ অবিলম্বে প্রত্যাহার করা হল। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তালিকা থেকে তাঁর নাম মুছে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর পর থেকে তিনি নিজেকে বঙ্গবিভূষণ প্রাপক হিসেবে পরিচয় দিতে পারবেন না এবং এই সম্মানের সঙ্গে যুক্ত কোনও সুযোগ-সুবিধাও পাবেন না।

২০২৬ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি অনন্ত মহারাজকে বঙ্গবিভূষণ সম্মান দিয়েছিল তৎকালীন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। রাজ্য ও রাজ্যবাসীর প্রতি তাঁর অবদানের স্বীকৃতি হিসাবেই ওই সম্মান দেওয়া হয়েছিল বলে নবান্নের বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।তবে পরবর্তী সময়ে কিছু বিষয় সরকারের নজরে এসেছে, যা ‘অত্যন্ত গুরুতর’ বলে মনে করা হয়েছে। সেই বিষয়গুলি বিবেচনা করে সরকার মনে করেছে, অনন্তের কাছে বঙ্গবিভূষণ থাকা এই সম্মানের মর্যাদা ও প্রতিপত্তির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। যদিও ঠিক কোন মন্তব্য বা ঘটনার ভিত্তিতে সম্মান প্রত্যাহার করা হল, বিজ্ঞপ্তিতে তা স্পষ্ট করে জানানো হয়নি।
সম্প্রতি নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে নিয়ে অনন্ত মহারাজের মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়। তাঁর দাবি ছিল, ভারতের স্বাধীনতায় নেতাজির কোনও ভূমিকা ছিল না। এমনকি আজাদ হিন্দ ফৌজ নিয়েও নেতাজির বিরুদ্ধে মন্তব্য করেন তিনি। এর পরেই রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।

বুধবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছিলেন, নেতাজিকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য বা পোস্ট কোনও ভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। রাজনীতির রং না দেখে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান তিনি। সমাজমাধ্যমে নেতাজির সম্মানহানি করে করা পোস্ট চিহ্নিত করতে সাইবার সেলকে নির্দেশ দেওয়া হয়।
মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণার পরেই উত্তর দিনাজপুরে নেতাজিকে নিয়ে আপত্তিকর পোস্টের অভিযোগে এক যুবককে গ্রেফতার করে পুলিশ। এর পরেই প্রশ্ন উঠেছিল, বিজেপি সাংসদ অনন্ত মহারাজের ক্ষেত্রেও কি একই নীতি কার্যকর হবে? মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, আইন সকলের জন্য সমান। তার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই অনন্তের বঙ্গবিভূষণ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত সামনে এল।
মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালও অনন্ত মহারাজের মন্তব্যের সমালোচনা করেছেন। তাঁর কথায়, ‘‘নেতাজির অপমান বাঙালির অপমান। আমরা সেটা বরদাস্ত করব না। এটা নিয়ে আমরা কোনও রাজনীতিও করতে দেব না।’’
