38.5 C
Kolkata
June 9, 2026
রাজ্য

নবান্নে শুরু গেরুয়া-সাদা রঙের প্রলেপ, প্রশাসনিক ভবনের নতুন সাজ ঘিরে জোর আলোচনা

হাওড়া — বাংলায় সরকার পরিবর্তনের পর প্রশাসনিক ক্ষেত্রেও একের পর এক বদলের ছবি সামনে আসছে। তারই মধ্যে এবার নবান্নের অন্দরে শুরু হয়েছে নতুন রঙের কাজ। মঙ্গলবার থেকে নবান্ন সভাগৃহে গেরুয়া ও সাদা রঙের প্রলেপ দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে। প্রশাসনিক মহল এবং রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, এটি শুধু ভবনের রঙ বদল নয়, বরং নতুন প্রশাসনিক অধ্যায়েরও প্রতীকী বার্তা বহন করছে।

সূত্রের খবর, আপাতত নবান্ন সভাগৃহে গেরুয়া-সাদা রঙের কাজ শুরু হয়েছে। তবে গোটা নবান্ন ভবন একই রঙে রাঙানো হবে কি না, সে বিষয়ে এখনও কোনও সরকারি ঘোষণা হয়নি। পূর্ত দপ্তরের তরফেও এ বিষয়ে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক দরপত্র প্রকাশ করা হয়নি।

এক সময় রাজ্যের প্রশাসনিক ভবনগুলিতে নির্দিষ্ট রাজনৈতিক ভাবধারার প্রতিফলন খুব একটা দেখা যেত না। তবে ২০১১ সালে তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় আসার পর নীল-সাদা রঙ ধীরে ধীরে রাজ্যের প্রশাসনিক পরিচয়ের অংশ হয়ে ওঠে। সরকারি ভবন, সেতু, রাস্তার ডিভাইডার থেকে শুরু করে নানা পরিকাঠামোয় সেই রঙের ব্যবহার দেখা গিয়েছিল।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নীল-সাদা রঙের ব্যবহার তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-র ব্যক্তিগত পরিচিতির সঙ্গে এক ধরনের সাযুজ্য তৈরি করেছিল। যদিও এর কোনও সরকারি ব্যাখ্যা কখনও সামনে আসেনি।

বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রশাসনিক কাজের গতি বৃদ্ধি, কেন্দ্রের সঙ্গে সমন্বয় এবং বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নে নতুন উদ্যোগের কথা বারবার সামনে এসেছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী-র নেতৃত্বে প্রশাসনের নতুন কর্মপদ্ধতির কথাও বিভিন্ন মহলে আলোচিত হচ্ছে।

তবে নবান্নে গেরুয়া-সাদা রঙের ব্যবহার নিয়েও মতভেদ রয়েছে। একাংশের মতে, এই রঙ প্রশাসনিক ভবনকে নতুন পরিচিতি দিতে পারে। আবার অন্য একটি অংশের মত, কোনও সচিবালয় ভবনের ক্ষেত্রে রাজনৈতিকভাবে চিহ্নিত রঙের পরিবর্তে নিরপেক্ষ ও গাম্ভীর্যপূর্ণ নকশাই বেশি উপযুক্ত।

বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, একটি রাজ্যের প্রধান প্রশাসনিক ভবনের ক্ষেত্রে পেশাদার ও নিরপেক্ষ চেহারাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। রঙের নির্বাচন এমন হওয়া উচিত, যা প্রশাসনিক মর্যাদা ও কার্যকারিতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়।

নবান্নের নতুন রূপ শেষ পর্যন্ত কেমন হয়, তা এখন দেখার অপেক্ষা। তবে গেরুয়া-সাদা রঙের প্রথম প্রলেপ যে নতুন বিতর্ক ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে, তা বলাই যায়।

Related posts

Leave a Comment