নৈহাটি: তোলাবাজি, হুমকি-সহ একাধিক অভিযোগে গ্রেপ্তার নৈহাটির প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সনৎ দে-কে বৃহস্পতিবার তাঁর নিজের এলাকায় নিয়ে গিয়ে ঘটনার পুনর্নির্মাণ করল পুলিশ। ৬ নম্বর বিজয়নগর এলাকায় তাঁকে নিয়ে যেতেই স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ ক্ষোভে ফেটে পড়েন। সনৎকে লক্ষ্য করে ওঠে ‘চোর-চোর’ স্লোগান। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে দ্রুত তাঁকে এলাকা থেকে সরিয়ে নিয়ে যায় পুলিশ।
গত ৮ আগস্ট দত্তপুকুর থেকে সনৎ দে-কে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। আদালতের নির্দেশে বর্তমানে তিনি ছ’দিনের পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন। সেই হেফাজতের মধ্যেই তদন্তের প্রয়োজনেই বৃহস্পতিবার সকালে তাঁকে নৈহাটির ৬ নম্বর বিজয়নগর এলাকায় নিয়ে আসা হয়। পুলিশের দাবি, মামলার সঙ্গে সম্পর্কিত ঘটনাগুলি কী ভাবে ঘটেছিল, তা বুঝতেই ঘটনাস্থলে নিয়ে গিয়ে পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে।

সনৎকে এলাকায় আনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই বিজয়নগরে স্থানীয় বাসিন্দাদের ভিড় জমতে শুরু করে। পুলিশের গাড়ি থেকে তাঁকে নামানোর পরেই কয়েক জন ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এলাকার মানুষের মধ্যে অসন্তোষ ছিল বলে স্থানীয় সূত্রে দাবি। পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশের গাড়ির দিকে এগিয়ে যান উত্তেজিত জনতার একাংশ।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশকর্মীরা দ্রুত সক্রিয় হন। কোনও রকম অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সনৎ দে-কে বেশিক্ষণ এলাকায় রাখা হয়নি। নিরাপত্তার ঘেরাটোপে তাঁকে দ্রুত সেখান থেকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। পুলিশের উপস্থিতিতেই ঘটনার পুনর্নির্মাণের কাজ শেষ করা হয় বলে জানা গিয়েছে।
সনৎ দে-র বিরুদ্ধে তোলাবাজি এবং হুমকি দেওয়ার মতো একাধিক অভিযোগ রয়েছে। সেই অভিযোগগুলির তদন্তেই তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। পুলিশি হেফাজতে থাকাকালীন ঘটনাস্থলে নিয়ে গিয়ে তাঁর বক্তব্য এবং ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন তথ্য মিলিয়ে দেখার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।
সনৎ দে নৈহাটির সাংসদ পার্থ ভৌমিকের ঘনিষ্ঠ বলে রাজনৈতিক মহলে পরিচিত। তাঁকে নিয়ে ওঠা অভিযোগ এবং রাজনৈতিক যোগাযোগ নিয়ে অবশ্য শুরু থেকেই বিতর্ক রয়েছে। পার্থ ভৌমিক সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে সনৎ বলেন, ‘তিনি নাট্যকার, তাঁর জীবনটাই নাটকে ভরা।’

সনৎকে নিয়ে বৃহস্পতিবারের জনরোষ প্রসঙ্গে রাজ্যের মন্ত্রী অর্জুন সিংহও মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, ‘যা অত্যাচার করেছেন সনৎ দে, ওঁর সঙ্গে যা হয়েছে, তা কম হয়েছে।’ তাঁর অভিযোগ, সনৎ মহিলাদের উপর অত্যাচার করেছেন এবং মহিলা মোর্চার কর্মীদের বাড়িতে বোমা মারার মতো কাজ করেছেন।
অন্য দিকে, স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, বিজয়নগর ও আশপাশের এলাকায় সনৎ দে-র বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই তোলাবাজি এবং হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ছিল। সেই কারণে তাঁকে নিজের এলাকায় আনা হয়েছে জানতে পেরেই স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বলে বিজেপির দাবি।
তবে পুলিশের তদন্ত এখনও শেষ হয়নি। সনৎ দে-র বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলির সত্যতা এবং ঘটনার পিছনে ঠিক কী ছিল, তা তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে। আপাতত পুলিশি হেফাজতে থাকা প্রাক্তন বিধায়ককে জিজ্ঞাসাবাদ এবং ঘটনাস্থলে ঘটনার পুনর্নির্মাণ তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলেই মনে করা হচ্ছে।
