August 11, 2026
রাজ্য

ধর্মান্তরণ ও ‘ল্যান্ড জিহাদ’ রুখতে বিল, বাঁকুড়া থেকে বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

ধর্মান্তরণ এবং জমি কেনাবেচায় বিধিনিষেধ আরোপ করতে নতুন আইন আনার কথা ফের জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার বাঁকুড়ায় পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন পর্ষদের বৈঠকের পর তিনি বলেন, অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বা ইউসিসি চালুর পাশাপাশি ধর্মান্তরণ এবং জমি কেনাবেচা নিয়ন্ত্রণে আরও দু’টি বিল আনা হবে।

শুভেন্দু বলেন, “আরও দুটো কাজ বাকি। ধর্মান্তরণ এবং জমি কেনাবেচায় বিধিনিষেধ সম্পর্কিত বিল আনব।” তাঁর দাবি, ইউসিসি-র খসড়া বিল ইতিমধ্যেই তৈরি হয়েছে। অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি রঞ্জনা প্রকাশ দেশাইয়ের নেতৃত্বে ৯ সদস্যের কমিটি সেই খসড়া পর্যালোচনা করছে। তাঁর কথায়, “আমরা কিছু দিনের মধ্যেই ইউসিসি আনতে চলেছি।”

ধর্মান্তরণ প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান তৈরির নামে বিদেশ থেকে অর্থ আসছে এবং সেই অর্থ ব্যবহার করে গরিব মানুষের আর্থিক দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে ধর্মান্তরণের চেষ্টা করা হচ্ছে। তাঁর দাবি, এই প্রবণতা বন্ধ করতে কড়া আইন আনা হবে।

একই সঙ্গে জমি কেনাবেচার ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ আরোপের ইঙ্গিত দিয়েছেন শুভেন্দু। বিজেপির রাজনৈতিক পরিভাষায় ‘ল্যান্ড জিহাদ’ নামে পরিচিত অভিযোগের প্রসঙ্গ টেনে তিনি জানান, জমি কেনাবেচা নিয়ন্ত্রণেও নতুন আইন আনার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “কিছু দিনের মধ্যে ইউসিসি— ‘এক দেশ, এক মুখ্যমন্ত্রী, এক আইন’ আসবে। তার পরে আমাকে আরও দু’টি কাজ করতে হবে।” তাঁর মতে, সেই দু’টি কাজ হল ধর্মান্তরণ ঠেকানো এবং জমি কেনাবেচার ক্ষেত্রে নতুন আইন প্রণয়ন।

উল্লেখ্য, উত্তরপ্রদেশ, গুজরাত, মহারাষ্ট্র এবং উত্তরাখণ্ডের মতো কয়েকটি বিজেপিশাসিত রাজ্যে ধর্মান্তরণ নিয়ন্ত্রণে পৃথক আইন রয়েছে। ওই আইনগুলির কয়েকটি বিধান নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে চ্যালেঞ্জও হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে নতুন আইন এলে তার পরিধি এবং সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে রাজনৈতিক ও আইনি মহলে নতুন করে আলোচনা তৈরি হতে পারে।

পশ্চিমাঞ্চলের উন্নয়নে ১৬০০ কোটি টাকা

এ দিন বাঁকুড়ায় পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন পর্ষদের বৈঠক থেকে উন্নয়নের জন্য বড় অঙ্কের বরাদ্দের কথাও জানান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, আগের সরকারের আমলে পশ্চিমাঞ্চলের জন্য বরাদ্দ যথেষ্ট ছিল না। গত অর্থবর্ষে পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন পর্ষদের জন্য মাত্র ২০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল এবং তার মধ্যে ৬ কোটি টাকা খরচ হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।

বর্তমান সরকার ওই দফতরের জন্য বাজেটে ১,৬১০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে বলে জানান শুভেন্দু। এর মধ্যে ১০ কোটি টাকা কর্মীদের বেতনের জন্য এবং বাকি ১,৬০০ কোটি টাকা উন্নয়নমূলক কাজে খরচ করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

আগামী তিন মাসের জন্য উন্নয়নের রোডম্যাপ তৈরি করা হয়েছে। পিছিয়ে থাকা গ্রামগুলি ইতিমধ্যেই চিহ্নিত করা হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে। প্রতিটি এলাকায় প্রায় ৫০ লক্ষ টাকার কাজের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। ডিপিআর ও টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ করে পুজোর পর থেকেই কাজ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

Related posts

Leave a Comment