কলকাতা— মদের দোকানের লাইসেন্স, তোলাবাজি, কল্যাণমূলক প্রকল্প, রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা এবং বাংলাদেশের পরিস্থিতি— একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে দলের অবস্থান স্পষ্ট করলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। সোমবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি দাবি করেন, রাজ্য সরকার মন্দির বা স্কুলের এক কিলোমিটারের মধ্যে থাকা পুরনো মদের দোকান বন্ধ করার কোনও নির্দেশ দেয়নি। পাশাপাশি দলের ভিতরে তোলাবাজির অভিযোগ নিয়েও কড়া সতর্কবার্তা দেন তিনি|
মদের দোকান সংক্রান্ত বিতর্ক প্রসঙ্গে শমীক বলেন, আবগারি দপ্তরের নিয়ম অনুযায়ী বহু দিন ধরেই মন্দির, স্কুল বা জনবসতির নির্দিষ্ট দূরত্বের মধ্যে নতুন মদের দোকানের লাইসেন্স দেওয়ার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ রয়েছে। তাঁর দাবি, বর্তমান সরকার শুধু নতুন লাইসেন্স প্রদানের ক্ষেত্রে সেই নিয়ম কঠোরভাবে কার্যকর করার কথা বলেছে। কোথাও চালু থাকা দোকান রাতারাতি বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়নি। এই বিষয়টি নিয়ে ভুল ব্যাখ্যা করে অযথা বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

রাজ্য সরকারের বিভিন্ন কল্যাণমূলক প্রকল্প নিয়েও বিরোধীদের সমালোচনার জবাব দেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি। ‘আয়ুষ্মান ভারত’ এবং ‘অন্নপূর্ণা ভান্ডার’ প্রকল্পে সাধারণ মানুষ বঞ্চিত হবেন— এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে তিনি বলেন, সরকারি সুবিধা পেতে নির্ধারিত নিয়ম মেনে আবেদন করলেই কেউ বঞ্চিত হবেন না। দলের কর্মী, আশা কর্মী এবং অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীরা আবেদনপত্র পূরণে সাধারণ মানুষকে সহযোগিতা করছেন বলেও তিনি জানান।
রাজ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে শমীক ভট্টাচার্য তৃণমূল কংগ্রেসের তীব্র সমালোচনা করেন। তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘ দিন ধরে রাজ্যে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, যার সুযোগ নিয়ে সমাজবিরোধী এবং জঙ্গি সংগঠনগুলি সক্রিয় হওয়ার সুযোগ পেয়েছে। তিনি দাবি করেন, রাজ্য থেকে বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের সদস্য গ্রেপ্তার হওয়ার ঘটনা সেই উদ্বেগকেই সামনে এনেছে। তবে এই অভিযোগের বিষয়ে তিনি কোনও নির্দিষ্ট প্রমাণ বা পরিসংখ্যান প্রকাশ করেননি।

দলের অন্দরে তোলাবাজি বা বেআইনি অর্থ আদায়ের অভিযোগ প্রসঙ্গেও কড়া বার্তা দেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি। তিনি বলেন, মানুষ দুর্নীতি ও তোলাবাজির বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছে। ফলে দলের কোনও নেতা বা কর্মী যদি এ ধরনের কাজে যুক্ত থাকেন, তা হলে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে রাজ্য নেতৃত্ব নিয়মিত নজরদারি চালাচ্ছে বলেও তিনি জানান।
বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি এবং লেখিকা তসলিমা নাসরিনের মন্তব্য নিয়েও প্রতিক্রিয়া দেন শমীক। তিনি বলেন, ভারত প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে চায়। তবে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচারের অভিযোগ উদ্বেগজনক। এই বিষয়ে সরব হওয়ার জন্য তসলিমা নাসরিনের ভূমিকাকেও তিনি উল্লেখ করেন।
একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, রাজ্যের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বিজেপি সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে এবং ভবিষ্যতেও দুর্নীতি, তোলাবাজি ও অপরাধের বিরুদ্ধে একই নীতি অনুসরণ করা হবে।
