কলকাতা— রাজ্য বিজেপির ভেতরে তোলাবাজির অভিযোগ নিয়ে কড়া অবস্থানের বার্তা আরও একবার স্পষ্ট করলেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এবং পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষের পর এ বার তিনিও জানিয়ে দিলেন, তোলাবাজির অভিযোগ প্রমাণিত হলে কোনও নেতা বা কর্মীকেই রেয়াত করা হবে না। প্রয়োজন হলে দল থেকেও বহিষ্কার করা হবে। একই সঙ্গে তিনি তৃণমূল সরকারের আমলে দুর্নীতি, সিন্ডিকেট এবং কাটমানির রাজনীতিরও কড়া সমালোচনা করেন।
অগ্নিমিত্রা বলেন, ক্ষমতায় পরিবর্তন এলেই সমাজের সব সমস্যা এক মুহূর্তে দূর হয়ে যায় না। তাঁর কথায়, কিছু মানুষ সরকারে আসার পর ক্ষমতার অপব্যবহার করে বেআইনি ভাবে অর্থ উপার্জনের চেষ্টা করতে পারেন। তবে বিজেপি এ ধরনের কোনও কর্মকাণ্ডকে প্রশ্রয় দেবে না। তিনি জানান, দলের রাজ্য সভাপতি ইতিমধ্যেই স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন, তোলাবাজির সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্ত্রী জানান, বেআইনি টোল আদায়, বেআইনি সিন্ডিকেট, তোলাবাজি এবং বেআইনি মদের ঠেক সংক্রান্ত অভিযোগ জানানোর জন্য চারটি পৃথক হেল্পলাইন চালু করা হয়েছে। সাধারণ মানুষ পরিচয় গোপন রেখেও অভিযোগ জানাতে পারবেন। অভিযোগ পাওয়ার পর তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
তবে একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, ব্যক্তিগত শত্রুতা বা অন্য কোনও উদ্দেশ্যে মিথ্যা অভিযোগ করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযোগকারীর ফোন নম্বর নথিভুক্ত থাকবে এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের পর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে।
অগ্নিমিত্রা আরও বলেন, বিজেপি প্রকাশ্যে দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার পাশাপাশি সংগঠনের ভেতরেও একই নীতি অনুসরণ করছে। তাঁর দাবি, দলের বক্তব্য ও বাস্তব পদক্ষেপের মধ্যে কোনও ফারাক নেই। যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে, তাঁদের মধ্যে কয়েক জনের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন।

এর আগে রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য দলীয় কর্মীদের সতর্ক করে বলেছিলেন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নিজেদের সংশোধন না করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ফের পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষও জানান, তোলাবাজির অভিযোগকে দল অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। তাঁর দাবি, ইতিমধ্যেই ২০০-র বেশি কর্মীকে সাসপেন্ড করা হয়েছে এবং অভিযোগের ভিত্তিতে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।
বিজেপি নেতৃত্বের ধারাবাহিক এই বার্তা থেকে স্পষ্ট, সংগঠনের ভাবমূর্তি রক্ষায় তোলাবাজি ও দুর্নীতির অভিযোগের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান বজায় রাখতে চাইছে দল। পাশাপাশি তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, কাটমানি ও সিন্ডিকেটের অভিযোগ তুলে রাজনৈতিক আক্রমণের ধারাও অব্যাহত রেখেছে বিজেপি।
