কলকাতা— রাজ্যে শনিবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হল জনগণনার কাজ। প্রথম দিনই অনলাইনে ‘স্ব-শুমারি’ সম্পন্ন করে কর্মসূচির সূচনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নবান্ন থেকে মোট ৩৩টি প্রশ্নের উত্তর দিয়ে তিনি নিজের তথ্য নথিভুক্ত করেন। একই সঙ্গে রাজ্যবাসীকে ‘স্ব-শুমারি’র সুবিধা গ্রহণ এবং জনগণনাকর্মীদের সহযোগিতা করার আবেদন জানান।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এবারের জনগণনায় দুটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে। প্রথমত, সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে তথ্য সংগ্রহ করা হবে। দ্বিতীয়ত, দেশের ইতিহাসে এই প্রথম নাগরিকেরা নিজেরাই অনলাইনে তথ্য জমা দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। তাঁর বক্তব্য, এই উদ্যোগের ফলে জনগণনার কাজ আরও দ্রুত, স্বচ্ছ এবং নির্ভুল হবে।তিনি জানান, ১ আগস্ট থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত নাগরিকেরা অনলাইনে পরিবারের সদস্যদে

নাকর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে সেই তথ্য যাচাই করবেন। প্রয়োজনে তথ্য সংশোধনেরও সুযোগ থাকবে।
রাজ্যবাসীর ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা নিয়ে আশ্বস্ত করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, জনগণনার জন্য জমা দেওয়া সমস্ত তথ্য আইন অনুযায়ী সম্পূর্ণ গোপন এবং সুরক্ষিত থাকবে। শুধুমাত্র পরিসংখ্যান, পরিকল্পনা এবং উন্নয়নমূলক কাজে এই তথ্য ব্যবহার করা হবে। কোনও ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ বা অপব্যবহারের সুযোগ নেই বলেও তিনি স্পষ্ট করেন।
এবারের জনগণনায় অনলাইনে মোট ৩৩টি প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। সেখানে ব্যক্তিগত পরিচয়, পরিবারের সদস্য সংখ্যা, শিক্ষাগত যোগ্যতা, পেশা, বাসস্থানের বিবরণ-সহ একাধিক তথ্য চাওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি, এই প্রথম জনগণনায় জাতিভিত্তিক তথ্যও সংগ্রহ করা হবে। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, এর ফলে ভবিষ্যতে সরকারি পরিষেবা ও সুবিধা প্রদানের ক্ষেত্রে আরও নির্ভুল তথ্যভাণ্ডার তৈরি হবে এবং সাধারণ মানুষের প্রশাসনিক সুবিধা বাড়বে।

মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, জনগণনার ডিজিটাল প্রক্রিয়াকে আরও কার্যকর করতে গণনাকারীদের জন্য বিশেষ মোবাইল অ্যাপ চালু করা হয়েছে। সেই অ্যাপের মাধ্যমে সংগৃহীত তথ্য সরাসরি কেন্দ্রীয় সার্ভারে আপলোড হবে। এতে তথ্য সংগ্রহের গতি বাড়বে, ভুলের সম্ভাবনা কমবে এবং কাগজের ব্যবহারও অনেকটাই হ্রাস পাবে।
জনগণনার প্রসঙ্গে তিনি এসআইআর তালিকায় বিবেচনাধীন ব্যক্তিদের বিষয়েও মন্তব্য করেন। তাঁর দাবি, এ বিষয়ে নির্দিষ্ট নির্দেশিকা রয়েছে এবং আইন মেনেই পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে। পাশাপাশি তিনি বলেন, অবৈধ অনুপ্রবেশকারী এবং শরণার্থীর মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে। যাঁরা আইন অনুযায়ী শরণার্থীর মর্যাদা পাওয়ার যোগ্য, তাঁদের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় আইনের বিধান অনুসরণ করা হবে। অন্যদিকে, অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী।
