September 14, 2026
রাজ্য

নন্দীগ্রাম-রেজিনগর উপনির্বাচনে আগাম প্রস্তুতি বিজেপির, দায়িত্বে জ্যোতির্ময় মাহাতো ও প্রবাল রাহা

কলকাতা — নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনের দিনক্ষণ এখনও ঘোষণা হয়নি। তবে তার আগেই নির্বাচনী প্রস্তুতি শুরু করে দিল বিজেপি। দলীয় সূত্রের খবর, দুই কেন্দ্রে সাংগঠনিক প্রস্তুতি, জনসংযোগ, প্রচার এবং ভোট পরিচালনার দায়িত্ব রাজ্য বিজেপির দুই শীর্ষ পদাধিকারীর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। তাঁদের নেতৃত্বে ইতিমধ্যেই বিশেষ টিমও গঠন করা হয়েছে।

বিজেপি নেতৃত্বের ধারণা, দুর্গাপুজোর আগেই, অর্থাৎ অক্টোবরের গোড়ার দিকে নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে উপনির্বাচন হতে পারে। সেই সম্ভাবনাকে সামনে রেখেই এখন থেকেই বুথভিত্তিক সংগঠনকে সক্রিয় করার পাশাপাশি ভোটের প্রস্তুতি শুরু করেছে গেরুয়া শিবির।

দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে রাজ্য বিজেপির সাধারণ সম্পাদক জ্যোতির্ময় সিংহ মাহাতোকে। অন্যদিকে রেজিনগর কেন্দ্রের দায়িত্ব পেয়েছেন রাজ্য বিজেপির সহ-সভাপতি প্রবাল রাহা। দায়িত্ব পাওয়ার পরই দুই নেতা সংশ্লিষ্ট এলাকায় পৌঁছে সাংগঠনিক বৈঠক ও প্রস্তুতি শুরু করবেন। বিজেপি সূত্রের দাবি, জ্যোতির্ময় শনিবার নন্দীগ্রাম সফরে যাচ্ছেন। অন্যদিকে প্রবাল রাহা শুক্রবারই বহরমপুরে পৌঁছে শনিবার থেকে রেজিনগর কেন্দ্রের কাজ শুরু করতে পারেন।

এ বারের বিধানসভা নির্বাচনে শুভেন্দু অধিকারী নন্দীগ্রাম এবং ভবানীপুর— দুই কেন্দ্র থেকেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়ী হন। পরে ভবানীপুর কেন্দ্রের বিধায়ক হিসেবে মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নেওয়ায় নন্দীগ্রাম আসনটি শূন্য হয়ে যায়। অন্যদিকে, আম জনতা উন্নয়ন পার্টির (এজেইউপি) প্রধান হুমায়ুন কবীর রেজিনগর ও নওদা— দুই কেন্দ্রেই জয়ী হওয়ার পর নওদা আসন রেখে রেজিনগর থেকে পদত্যাগ করেন। ইতিমধ্যেই তিনি ঘোষণা করেছেন, রেজিনগরের উপনির্বাচনে তাঁর ছেলে প্রার্থী হবেন।

ন্দীগ্রামকে বিজেপি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আসন হিসেবেই দেখছে। শুভেন্দু অধিকারীর রাজনৈতিক উত্থানের অন্যতম কেন্দ্র এই নন্দীগ্রাম। টানা তিন বার এই আসন থেকে জয় পেয়েছেন তিনি। ফলে উপনির্বাচনেও এই কেন্দ্র ধরে রাখতে কোনও ঝুঁকি নিতে চাইছে না বিজেপি। সেই কারণেই দলের অন্যতম অভিজ্ঞ সাধারণ সম্পাদক জ্যোতির্ময় মাহাতোর হাতে নির্বাচনী দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা।


জ্যোতির্ময় মাহাতো রাজ্য বিজেপির দীর্ঘদিনের সাধারণ সম্পাদক এবং টানা দু’বারের সাংসদ। বিজেপিতে যোগ দেওয়ার আগে তিনি আরএসএসের ছাত্র সংগঠন এবিভিপির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং সর্বভারতীয় স্তরেও সাংগঠনিক দায়িত্ব সামলেছেন। দলীয় মহলের মতে, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং সঙ্ঘ পরিবারের সঙ্গে দীর্ঘ সম্পর্কের কারণেই নন্দীগ্রামের মতো গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রের দায়িত্ব তাঁর উপরই ভরসা করে দিয়েছে বিজেপি।

অন্যদিকে রেজিনগরকে তুলনামূলক কঠিন লড়াইয়ের কেন্দ্র হিসেবে দেখছে বিজেপি। এলাকার জনবিন্যাস এবং রাজনৈতিক সমীকরণের কারণে এই আসনে অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সেই কারণেই প্রবাল রাহার মতো অভিজ্ঞ সাংগঠনিক নেতাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এক সময় ফরওয়ার্ড ব্লকের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকা প্রবাল পরে বিজেপিতে যোগ দেন। গত কয়েক বছরে দলের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক কর্মসূচির দায়িত্ব সফলভাবে সামলানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। বিশেষ করে বুথভিত্তিক সংগঠন শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা উল্লেখযোগ্য বলে বিজেপি নেতৃত্বের দাবি।

দুই কেন্দ্রেই ভোটের দিন ঘোষণা না হলেও আগাম সাংগঠনিক প্রস্তুতি শুরু করে বিজেপি স্পষ্ট বার্তা দিল, নন্দীগ্রাম এবং রেজিনগর— উভয় উপনির্বাচনকেই তারা অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছে। আগামী কয়েক সপ্তাহে বুথস্তরের বৈঠক, কর্মী সমাবেশ এবং জনসংযোগ কর্মসূচি আরও জোরদার হতে পারে বলেই দলীয় সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে।

Related posts

Leave a Comment