July 31, 2026
রাজ্য

টুলু মণ্ডলের বেআইনি সম্পত্তির নেপথ্যে মমতার ‘সমর্থন’ ছিল, বিস্ফোরক দাবি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

কলকাতা — রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে বেআইনি ভাবে বিপুল সম্পত্তি গড়ে তোলার অভিযোগে পাথর ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডলকে ঘিরে তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই রাজনৈতিক চাপানউতোর বাড়ছে। এ বার এই ঘটনায় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও সরাসরি নিশানা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর অভিযোগ, সরকারের মদত ছাড়া এত বড় চক্র দীর্ঘদিন ধরে চলতে পারে না এবং প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর ‘সমর্থন’ ছাড়া এই কর্মকাণ্ড সম্ভব ছিল না।

শুক্রবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, টুলু মণ্ডল এবং তাঁর মতো ব্যবসায়ীদের কারণে রাজ্য সরকার কোটি কোটি টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে। সেই ক্ষতির প্রভাব পড়েছে সাধারণ মানুষের উপরও। সরকারের প্রাপ্য অর্থ না আসায় উন্নয়নমূলক নানা ক্ষেত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

ভেন্দু অধিকারীর কথায়, ‘সরকারের সাপোর্ট ছাড়া হয় না। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাপোর্ট ছাড়া এটা হতে পারে না। এত বড় র‌্যাকেট এত দিন ধরে চলছে, সবাই জড়িত ছিলেন— গোটা রাজ্য সরকার।’

সম্প্রতি বীরভূমে টুলু মণ্ডলের ভগ্নিপতি মিনার মণ্ডলের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ৫০ কোটি টাকার নগদ অর্থ ও সোনা উদ্ধার করেছে পুলিশ। পরে মিনারকে গ্রেফতার করা হয়। আদালতে পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, উদ্ধার হওয়া সোনা দুবাই থেকে এসেছে। সেই সোনা চোরাচালানের মাধ্যমে দেশে আনা হয়েছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এই মামলায় মিনার মণ্ডলকে আট দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে সিউড়ির আদালত। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার সরকারি সম্পত্তি আত্মসাৎ-সংক্রান্ত ৪০৯ ধারা এবং সিন্ডিকেট অপরাধ-সংক্রান্ত ১১১ ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। তদন্তকারীরা অর্থের উৎস, সম্পত্তির হিসাব এবং সম্ভাব্য আর্থিক অনিয়মের দিকগুলি খতিয়ে দেখছেন।

খ্যমন্ত্রী বলেন, বীরভূমের ঘটনায় স্পষ্ট হয়েছে যে সরকারি সম্পদের অপব্যবহার হয়েছে। এই তদন্তে সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার জন্য তিনি বীরভূম পুলিশ এবং রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধনাথ গুপ্তকে ধন্যবাদ জানান। শুভেন্দুর দাবি, সুযোগ পেলে রাজ্য পুলিশও কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার মতো দক্ষতার সঙ্গে কাজ করতে সক্ষম।


দুর্নীতির ফলে রাজ্যের আর্থিক ক্ষতির প্রসঙ্গও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, পূর্বতন সরকারের আমলে পাথর খাদান থেকে বছরে মাত্র ৬০ থেকে ৮০ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হতো। অথচ বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর ১১ মে থেকে ১১ জুন, মাত্র এক মাসে একটি জেলার পাথর খাদান থেকেই ৮৩ কোটি টাকা রাজস্ব এসেছে।

এই পরিসংখ্যান তুলে ধরে শুভেন্দু অধিকারী অভিযোগ করেন, আগে সরকারের কোষাগারে প্রায় ১০০ কোটি টাকা জমা পড়লেও প্রায় ১,১০০ কোটি টাকা বাইরে চলে যেত। সেই অর্থের সুবিধাভোগীরা কারা, তা খুঁজে বার করতে পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। প্রয়োজনে বীরভূম পুলিশ সিআইডি, এসটিএফ বা কেন্দ্রীয় সংস্থার সহায়তা নিতে পারবে বলেও স্পষ্ট করেন মুখ্যমন্ত্রী।

Related posts

Leave a Comment