July 24, 2026
রাজ্য

মালদহে বিএসএফ সদর দপ্তরে গুলিকাণ্ড, অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচলেন হুগলির জওয়ান বিকাশ

নিজস্ব সংবাদদাতা : মালদহের বৈষ্ণবনগরে বিএসএফের সদর দপ্তরে সহকর্মীর এলোপাথাড়ি গুলিতে দুই জওয়ানের মৃত্যু হলেও অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গিয়েছেন হুগলির পোলবা থানার মহানাদ চৌমাথা গ্রামের বাসিন্দা বিকাশ ব্রহ্ম (৪৩)। তাঁর পায়ে গুলি লেগেছে। বর্তমানে মালদহ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসা চলছে। চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে থাকলেও আপাতত তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল বলে পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাত প্রায় আটটা নাগাদ দুর্ঘটনার খবর পৌঁছয় বিকাশের পরিবারের কাছে। প্রথমে কী ঘটেছে তা জানতে তাঁর এক সহকর্মীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন বিকাশের স্ত্রী। পরে আহত জওয়ানের সঙ্গেও তাঁর কথা হয়। বিকাশ পরিবারের সদস্যদের আশ্বস্ত করে জানিয়েছেন, তাঁর পায়ে গুলি লেগেছে ঠিকই, তবে বর্তমানে উদ্বেগের মতো কিছু নেই।

পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, বিকাশ সম্প্রতি ১৫ দিনের ছুটি কাটিয়ে বাড়ি থেকে কর্মস্থলে ফিরেছিলেন। গত ৬ তারিখে তিনি মালদহে যোগ দেন। প্রতিদিনের মতো ঘটনার দিনও পরিবারের সঙ্গে তাঁর ফোনে কথা হয়েছিল। বিকাশের স্ত্রী জানিয়েছেন, দুপুরে কয়েক জন জওয়ান বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। বিকেল চারটে থেকে বিকাশের ডিউটি শুরু হওয়ার কথা ছিল। তার কিছু আগেই হঠাৎ চিৎকার ও গুলির শব্দ শোনা যায়। অভিযোগ, সহকর্মীদের লক্ষ্য করে গুলি চালানোর অভিযোগে অভিযুক্ত জওয়ানকে বাথরুমে নিয়ে যাচ্ছিলেন এক সেন্ট্রি। সেই সময় ওই সেন্ট্রিকে গুলি করে তাঁর অস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে শুরু করেন অভিযুক্ত।

এই ঘটনায় বিহারের অজয় কুমার সিংহ (৫১) এবং মহারাষ্ট্রের আম্বদর সুরেশ দরগুর (৩৭) মৃত্যু হয়েছে। বিকাশ ব্রহ্ম গুলিবিদ্ধ হলেও প্রাণে বেঁচে যান। শুক্রবার তাঁকে দেখতে মালদহে রওনা দিচ্ছেন পরিবারের সদস্যেরা।

প্রসঙ্গত, বৈষ্ণবনগরে বিএসএফের ১১৯ নম্বর এবং ৭১ নম্বর ব্যাটালিয়নের সদর দপ্তর রয়েছে। বৃহস্পতিবার সেখানে সহকর্মীদের লক্ষ্য করে গুলি চালানোর অভিযোগ উঠেছে জওয়ান শিবম মিশ্রের বিরুদ্ধে। বিএসএফ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে এক বছর আগেও একই ধরনের অভিযোগ উঠেছিল। সেই ঘটনায় বিভাগীয় শাস্তিও হয়েছিল তাঁর। কয়েক দিন আগে সেই শাস্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ফের এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটল। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে বিএসএফ।

Related posts

Leave a Comment