সংবাদ কলকাতা— তৃণমূল কংগ্রেস (Trinamool Congress)-এর বিদ্রোহী শিবির থেকে এনসিপিআই (NCPI)-এ যোগ দেওয়া ২০ জন সাংসদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ঘিরে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। সূত্রের খবর, আইনি জটিলতা এড়াতে এই সাংসদদের সরাসরি ভারতীয় জনতা পার্টিতে (Bharatiya Janata Party (BJP)) অন্তর্ভুক্ত করার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে। যদিও এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি।
রাজনৈতিক সূত্রে জানা গিয়েছে, এনডিএ (National Democratic Alliance)-তে এনসিপিআই সাংসদদের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে বিভিন্ন আইনি প্রশ্ন উঠেছে। ইতিমধ্যেই তৃণমূল কংগ্রেস লোকসভার স্পিকারের কাছে চিঠি দিয়ে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় (Sudip Bandyopadhyay) এবং অন্য বিদ্রোহী সাংসদদের সদস্যপদের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। সেই পরিস্থিতিতে ভবিষ্যতের রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে বলে সূত্রের দাবি।
এই আবহে বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) দিল্লি সফর ঘিরেও রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তৈরি হয়েছে। সূত্রের খবর, শুক্রবার তাঁর সঙ্গে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বৈঠক হতে পারে। যদিও এই বৈঠকের বিষয়ে সরকারি ভাবে কোনও পক্ষই এখনও কিছু জানায়নি।
সংসদের বাদল অধিবেশন শুরুর আগে সর্বদলীয় বৈঠকে এনসিপিআই সাংসদদের আমন্ত্রণ জানানো নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। কালীঘাটপন্থী তৃণমূল এবং বিরোধী দলগুলির অভিযোগ ছিল, এনসিপিআই এখনও আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি না পেলেও তাদের বৈঠকে ডাকা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে তারা প্রতীকী কক্ষত্যাগও করে।
এদিকে, বিদ্রোহী সাংসদদের বিজেপিতে অন্তর্ভুক্তির জল্পনা প্রসঙ্গে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya) সরাসরি কোনও মন্তব্য করতে চাননি। তিনি বলেন, ‘ওদের দলের যিনি নেতা আছেন, তিনিই এ বিষয়ে বলতে পারবেন। আমি বিজেপির কথা বলতে পারি। আমি এনডিএ-র নেতা নই। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি একাই লড়েছে এবং জয় পেয়েছে। আমাদের কোনও শরীকের প্রয়োজন হয়নি।’
তবে বিদ্রোহী সাংসদদের বিজেপিতে যোগদানের সম্ভাবনা নিয়ে এখনও পর্যন্ত বিজেপি বা এনসিপিআইয়ের তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি। ফলে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা অব্যাহত রয়েছে।
