July 17, 2026
রাজ্য

ছাত্রী সেজে মাঝরাতে কল্যাণী জেএনএম হাসপাতালে হানা স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী সুমনা সরকারের, একাধিক অনিয়মে ক্ষোভ

নদিয়া: রাতের অন্ধকারে একেবারে সাধারণ ছাত্রীর বেশে, মুখে মাস্ক পরে আচমকাই কল্যাণীর জওহরলাল নেহরু মেমোরিয়াল (জেএনএম) হাসপাতালে পৌঁছে গেলেন রাজ্যের স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী সুমনা সরকার। কোনও নিরাপত্তারক্ষী বা সরকারি প্রোটোকল ছাড়াই বুধবার গভীর রাতে হাসপাতালের জরুরি বিভাগ এবং চিকিৎসকদের হস্টেল ঘুরে দেখেন তিনি। হাসপাতালের পরিষেবা, পরিচ্ছন্নতা এবং চিকিৎসা পরিকাঠামো খতিয়ে দেখে একাধিক বিষয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী।

স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে কল্যাণী জেএনএম হাসপাতাল নিয়ে নানা অভিযোগ জমা পড়ছিল। সেই অভিযোগের বাস্তব চিত্র জানতে হঠাৎ করেই ছদ্মবেশে হাসপাতালে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন সুমনা সরকার। সাধারণ পোশাক পরে একজন মহিলা পুলিশকর্মীকে সঙ্গে নিয়ে তিনি প্রথমে জরুরি বিভাগে যান। সেখানে কর্তব্যরত জুনিয়র চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং চিকিৎসা পরিষেবা সম্পর্কে খোঁজ নেন। পাশাপাশি হাসপাতালে ভর্তি রোগী এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও কথা বলে বিভিন্ন অভিযোগ শোনেন।

এরপর চিকিৎসকদের হস্টেলে গিয়ে দীর্ঘক্ষণ পরিদর্শন করেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী। হাসপাতাল ঘুরে বেরিয়ে তিনি জানান, হাসপাতাল সম্পর্কে যে অভিযোগগুলি তিনি শুনেছিলেন, তার অনেকটাই নিজের চোখে দেখেছেন।

সুমনা সরকার বলেন, ‘ছাত্রী সেজে একজন মহিলা পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে হাসপাতালে এসেছিলাম। জেএনএম হাসপাতাল নিয়ে বহু অভিযোগ ছিল। নিজের চোখে সবটা দেখলাম। এখানে অনেক সময় কোনও সিনিয়র চিকিৎসক উপস্থিত থাকেন না। হাসপাতালের পরিবেশ অত্যন্ত নোংরা। হাসপাতাল চত্বরে বিড়াল ও কুকুর ঘুরে বেড়াচ্ছে। চিকিৎসকদের হস্টেল নিয়েও একাধিক সমস্যা রয়েছে। অনেক বিষয় হাতেনাতে ধরা পড়েছে। সবকিছু এখনই প্রকাশ করছি না। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিস্তারিত জানাব।’

হাসপাতাল পরিদর্শনের সময় কয়েকজন রোগী ও তাঁদের পরিজনেরা তাঁকে চিনে ফেলেন। এরপর তাঁরা সরাসরি স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর কাছে চিকিৎসা পরিষেবা, হাসপাতালের পরিবেশ এবং অন্যান্য সমস্যা নিয়ে অভিযোগ জানান। সুমনা সরকার তাঁদের বক্তব্য মন দিয়ে শোনেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমি সাধারণত বাড়ির পোশাক পরে বাইরে বেরোই না। কিন্তু আজ ইচ্ছাকৃতভাবেই এই পোশাকে এসেছি, যাতে প্রকৃত পরিস্থিতি বুঝতে পারি। যা দেখলাম, তা উদ্বেগজনক। সব বিষয়ই স্বাস্থ্য দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের আকস্মিক পরিদর্শন চালানো হবে।’

উল্লেখ্য, কল্যাণীর জেএনএম হাসপাতালকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই রোগী ও তাঁদের পরিবারের পক্ষ থেকে একাধিক অভিযোগ উঠেছে। হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা, রোগীদের খাবারের মান, সিনিয়র চিকিৎসকদের অনুপস্থিতি, হাসপাতাল চত্বরে আবর্জনা জমে থাকা এবং রোগীর পরিজনদের জন্য তৈরি নাইট শেল্টারের যথাযথ ব্যবহার না হওয়া নিয়ে বারবার প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ সত্ত্বেও পরিস্থিতির তেমন পরিবর্তন হয়নি বলেই দাবি স্থানীয়দের।

তবে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর এই আকস্মিক পরিদর্শনের পর হাসপাতালের পরিষেবার মানোন্নয়ন এবং পরিকাঠামোর উন্নতিতে প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ নেবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন রোগী এবং তাঁদের পরিজনেরা।

Related posts

Leave a Comment