দিল্লি: দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক জল্পনার অবসান ঘটিয়ে রাজ্যসভার সদস্যপদ থেকে ইস্তফা দিলেন টলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী তথা তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ কোয়েল মল্লিক। রথযাত্রার পবিত্র তিথিতে উপরাষ্ট্রপতি তথা রাজ্যসভার চেয়ারম্যান সিপি রাধাকৃষ্ণণের কাছে তিনি নিজের পদত্যাগপত্র জমা দেন। এরপরই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এবং বিজেপির শীর্ষ নেতা ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে তাঁর বৈঠক ঘিরে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন করে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
রাজনৈতিক সূত্রের খবর, গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই কোয়েল মল্লিকের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে জল্পনা চলছিল। অবশেষে সেই জল্পনাতেই কার্যত সিলমোহর পড়ল তাঁর পদত্যাগের মধ্য দিয়ে। মাত্র কয়েক মাস আগে তৃণমূলের টিকিটে রাজ্যসভায় নির্বাচিত হওয়া কোয়েলের এই সিদ্ধান্তকে রাজ্যের রাজনৈতিক মহল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে।
রাজ্যসভায় নির্বাচিত হওয়ার সময় কোয়েল মল্লিকের সঙ্গে রাজীব কুমার এবং মানেকা গুরুস্বামীও মনোনীত হয়েছিলেন। কিন্তু তাঁদের পদে বহাল রেখে শুধুমাত্র কোয়েলের ইস্তফা নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ। তৃণমূলের পক্ষ থেকে তাঁকে রাজ্যসভায় পাঠানোর সময় দলের শীর্ষ নেতৃত্ব প্রকাশ্যে তাঁর প্রশংসা করেছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর থেকেই দলের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব বাড়ছিল বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছিল।
সবচেয়ে বেশি জল্পনার জন্ম দিয়েছে পদত্যাগের পর ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ। দিল্লিতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর বাসভবনে তাঁদের বৈঠকের ছবি প্রকাশ্যে আসতেই বিজেপিতে যোগদানের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা আরও তীব্র হয়েছে। যদিও কোয়েল মল্লিক কিংবা বিজেপির পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি।
রাজনৈতিক মহলের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে তৃণমূল থেকে একাধিক জনপ্রতিনিধির দলত্যাগের আবহে কোয়েল মল্লিকের পদত্যাগ বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। রাজ্যসভায় তৃণমূলের শক্তিও এই পদত্যাগের ফলে আরও কমেছে বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মত।
এদিকে কোয়েল মল্লিকের পরবর্তী রাজনৈতিক পদক্ষেপ কী হবে, তা নিয়েই এখন কৌতূহল তুঙ্গে। তিনি বিজেপিতে যোগ দেবেন কি না, নাকি অন্য কোনও রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেবেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে তাঁর পদত্যাগ যে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিল, সে বিষয়ে রাজনৈতিক মহলের একাংশ একমত।
