28.9 C
Kolkata
July 15, 2026
রাজ্য

কলকাতা থেকে দিল্লি-চেন্নাইয়ে নতুন বাস পরিষেবার উদ্বোধনে শমীক

বেসরকারি বিনিয়োগে পরিবহণে গতি আনবে সরকার

সংবাদ কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের পরিবহণ ব্যবস্থাকে আধুনিক, গতিশীল ও যাত্রীবান্ধব করে তুলতে বেসরকারি উদ্যোগের উপর জোর দেবে রাজ্য সরকার। কলকাতা থেকে দিল্লি, চেন্নাই-সহ একাধিক শহরের উদ্দেশে নতুন দূরপাল্লার বাস পরিষেবার উদ্বোধন করে এমনই বার্তা দিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তাঁর দাবি, সরকার পরিকাঠামো গড়ে তোলা, স্বচ্ছ নীতি প্রণয়ন এবং বেসরকারি বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ তৈরির কাজ করবে, আর সেই পথেই রাজ্যের পরিবহণ ক্ষেত্রে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে।

বুধবার কলকাতার করুণাময়ী বাস টার্মিনাসে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শমীক ভট্টাচার্য অভিযোগ করেন, গত কয়েক বছরে রাজ্যের সরকারি পরিবহণ ব্যবস্থা কার্যত ভেঙে পড়েছে। তাঁর বক্তব্য, পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ নিগম ধীরে ধীরে অস্তিত্বের সংকটে পৌঁছে গিয়েছিল। কলকাতা-সহ রাজ্যের বিভিন্ন রাস্তায় সরকারি বাসের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। উত্তরবঙ্গ-সহ বিভিন্ন ডিপোতে বহু বাস দীর্ঘদিন ধরে অকেজো অবস্থায় পড়ে রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

শমীক ভট্টাচার্য বলেন, শ্রমনির্ভর শিল্প এবং পরিবহণ ক্ষেত্রে যাঁরা বিনিয়োগ করতে চান, তাঁদের সরকার সব ধরনের সহযোগিতা করবে। তাঁর কথায়, সরকার নিজে বাস চালানোর পরিবর্তে পরিকাঠামো উন্নয়ন, নীতি নির্ধারণ এবং বেসরকারি উদ্যোগকে উৎসাহ দেওয়ার দিকেই গুরুত্ব দেবে। তিনি আরও বলেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই পরিবর্তনের কাজ শুরু হয়েছে এবং আগামী এক বছরের মধ্যে রাজ্যের পরিবহণ ব্যবস্থায় আধুনিকতা, গতি ও দক্ষতার ছাপ স্পষ্ট হবে।

এদিনের অনুষ্ঠানে উদ্বোধন করা হয় শ্যামলী পরিবহণের নতুন ভলভো ৯৬০০ এসএলএক্স বি৮আর ইউরো ৬ স্লিপার বাস পরিষেবার। কলকাতা থেকে দিল্লি পর্যন্ত চলাচলকারী এই বাসে রয়েছে জৈব শৌচাগার, বেতার ইন্টারনেট, সরাসরি অবস্থান জানার ব্যবস্থা এবং যাত্রীদের বিনোদনের বিশেষ সুবিধা। করুণাময়ী বাস টার্মিনাস থেকে প্রতিদিন সকাল ৯টায় বাসটি ছাড়বে। পথে বর্ধমান, দুর্গাপুর, আসানসোল, ধানবাদ এবং বারাণসী হয়ে দিল্লিতে পৌঁছবে। ফিরতি বাস দিল্লি থেকে দুপুর ১টায় যাত্রা শুরু করবে।

শমীক ভট্টাচার্য বলেন, পশ্চিমবঙ্গের পরিবহণ পরিষেবা শুধু রাজ্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। রাজ্যের বাস দিল্লি, কর্নাটক, কেরল, উত্তরাখণ্ড, হিমাচল প্রদেশ-সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে চলাচল করবে। একই সঙ্গে রাজ্যের পরিবহণ সংস্থাগুলিকে আন্তঃরাজ্য পরিষেবা সম্প্রসারণে এগিয়ে আসারও আহ্বান জানান তিনি।

স্বাস্থ্য পরিষেবার প্রসঙ্গেও বক্তব্য রাখেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি। তাঁর দাবি, পশ্চিমবঙ্গের বহু মানুষ চিকিৎসার জন্য চেন্নাই-সহ দক্ষিণ ভারতের বিভিন্ন শহরে যেতে বাধ্য হন। সেই কারণেই কলকাতা-চেন্নাই রুটের বাসভাড়াও তুলনামূলকভাবে কম রাখা হয়েছে। ভবিষ্যতে রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিকাঠামো আরও শক্তিশালী করে পশ্চিমবঙ্গকে চিকিৎসা পরিষেবার অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে বলেও জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত পরিবহণ ও শ্রমমন্ত্রী অর্জুন সিং বলেন, কলকাতা থেকে দিল্লি, চেন্নাই, বেঙ্গালুরু এবং পুরীর নতুন বাস পরিষেবা আন্তঃরাজ্য যোগাযোগকে আরও শক্তিশালী করবে। তিনি জানান, সিকিমগামী বাস পরিষেবার দীর্ঘদিনের সমস্যাও ইতিমধ্যে মিটিয়ে ফেলা হয়েছে।

মন্ত্রী আরও ঘোষণা করেন, আগামী দিনে রাজ্যের বাস ডিপো এবং টার্মিনাসগুলিকে আধুনিক যাত্রী পরিষেবা কেন্দ্রে রূপান্তর করা হবে। আগামী ছয় মাসের মধ্যে পরিবহণ সংক্রান্ত অধিকাংশ সরকারি পরিষেবা অনলাইনে নিয়ে আসার পরিকল্পনাও রয়েছে। এর ফলে দালালচক্রের দৌরাত্ম্য কমবে এবং পরিষেবায় স্বচ্ছতা বাড়বে বলে তাঁর দাবি।

অর্জুন সিং আরও জানান, অনুমতি ছাড়া বাস চালানোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরিষেবা বন্ধ করার পরিবর্তে বড় অঙ্কের আর্থিক জরিমানা আরোপ করে আইন মানতে বাধ্য করা হবে, যাতে পরিবহণ ব্যবস্থায় আরও শৃঙ্খলা এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করা যায়।

Related posts

Leave a Comment