কলকাতা — রাজ্যে পরিবেশ রক্ষা এবং বনভূমি সম্প্রসারণে বড় উদ্যোগের কথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার সল্টলেকের বনবিতানে ‘অরণ্য সপ্তাহ ২০২৬’-এর সূচনা করে তিনি পূর্বতন তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে বনভূমি ধ্বংসের অভিযোগ তোলেন। নাম না করে প্রাক্তন সরকারকে কটাক্ষ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সব তো ধ্বংস করে দিয়েছেন, গাছটাকেও ছাড়েননি।’
বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে শুভেন্দু জানান, আকাশপথে ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া কিংবা তরাই-ডুয়ার্সের বিস্তীর্ণ এলাকা দেখলেই বনভূমির সংকোচন স্পষ্ট বোঝা যায়। তাঁর দাবি, এক সময় যে অঞ্চল ঘন জঙ্গলে আচ্ছাদিত ছিল, এখন সেখানে অরণ্যের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
এই পরিস্থিতি বদলাতে চলতি বছরে রাজ্যে ১০ কোটি গাছ লাগানোর লক্ষ্য ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, উত্তরপ্রদেশে যেমন কোটি কোটি গাছ লাগানোর কর্মসূচি নেওয়া হয়, পশ্চিমবঙ্গও সেই পথে এগোবে। পাশাপাশি সরকারি ও বেসরকারি সংস্থাগুলিকে বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি অন্তত দুই থেকে তিন বছর গাছের রক্ষণাবেক্ষণের ওপরও জোর দেওয়ার আহ্বান জানান।
শুভেন্দুর অভিযোগ, পূর্বতন সরকারের আমলে বিভিন্ন সংস্থা প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী খোলা জায়গায় বৃক্ষরোপণ করেনি। ফলে রাজ্যের বহু এলাকা ‘কংক্রিটের জঙ্গলে’ পরিণত হয়েছে। তিনি বলেন, শুধু গাছ লাগালেই হবে না, সেগুলিকে বাঁচিয়ে রাখার দায়িত্বও নিতে হবে।
সাম্প্রতিক সময়ে বজ্রপাতের ঘটনা বৃদ্ধির প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদকে বেশি করে নারকেল গাছ লাগানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাঁর মতে, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রভাব কমাতেও বৃহৎ আকারে বনসৃজন অত্যন্ত জরুরি।
previous post
