29 C
Kolkata
August 28, 2026
রাজ্য

রাজ্যসভার মনোনয়ন জমা বিজেপির তিন প্রার্থী সুখেন্দু-সুস্মিতা-প্রকাশ

সোমবার বিধানসভায় বিজেপির রাজ্যসভার প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দিচ্ছেন সুখেন্দু শেখর রায়, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশ চিক বরাইক।
নিজস্ব গ্রাফিক্স চিত্র

শুভেন্দু-শমীকের উপস্থিতিতে গেলেন বিধানসভায়

সংবাদ কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যসভার তিনটি শূন্য আসনের উপনির্বাচনকে সামনে রেখে সোমবার মনোনয়নপত্র জমা দিলেন বিজেপির তিন প্রার্থী সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশ চিক বরাইক। বিধানসভায় গিয়ে তাঁরা আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়ন জমা দেন। এ সময় তাঁদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। রাজ্য বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের উপস্থিতি এই তিন প্রার্থীর প্রতি দলের পূর্ণ আস্থার বার্তাই স্পষ্ট করেছে।

উল্লেখ্য, সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশ চিক বরাইক কয়েক দিন আগেও তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ ছিলেন। দলের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার মধ্যে একে একে তাঁরা সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দেন এবং তৃণমূলও ত্যাগ করেন। এরপর গত বৃহস্পতিবার সল্টলেকে বিজেপির রাজ্য দপ্তরে শমীক ভট্টাচার্যের হাত ধরে আনুষ্ঠানিকভাবে পদ্ম শিবিরে যোগ দেন তিন নেতা। যোগদানের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব তাঁদের রাজ্যসভার উপনির্বাচনের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করে।

রাজনৈতিক মহলে এই সিদ্ধান্ত ঘিরে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। কারণ, রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠনের পর শমীক ভট্টাচার্য স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, তৃণমূল থেকে দলবদল করে আসা নেতাদের জন্য বিজেপির দরজা কার্যত বন্ধ থাকবে। তবে সুখেন্দুশেখর, সুস্মিতা এবং প্রকাশ চিক বরাইকের ক্ষেত্রে সেই নীতির ‘ব্যতিক্রম’ করা হয়েছে বলে ব্যাখ্যা দেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, এই তিন নেতা দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার অধিকারী এবং তাঁদের বিরুদ্ধে কোনও গুরুতর দুর্নীতি বা অপরাধমূলক অভিযোগ নেই।

বর্তমান বিধানসভার অঙ্কও বিজেপির পক্ষেই রয়েছে। সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি ২০৮টি আসনে জয় পেয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ভবানীপুর কেন্দ্র ধরে রেখে নন্দীগ্রাম আসন ছেড়ে দেওয়ায় বর্তমানে বিজেপির বিধায়ক সংখ্যা ২০৭। অন্যদিকে, তৃণমূলের আসনসংখ্যা ৮০। কংগ্রেস ও আজাদ জনতা উন্নয়ন পার্টির দুটি করে এবং সিপিএম ও আইএসএফের একটি করে আসন রয়েছে। ফলে বর্তমান সংখ্যার বিচারে রাজ্যসভার তিনটি আসনেই বিজেপির জয় প্রায় নিশ্চিত বলেই রাজনৈতিক মহলের ধারণা।

রাজ্যসভার এই তিনটি আসন শূন্য হয়েছিল তৃণমূলের তিন প্রাক্তন সাংসদের ইস্তফার পর। সুখেন্দুশেখর রায় ৮ জুন প্রথম সাংসদ পদ ছাড়েন। এরপর ১০ জুন সুস্মিতা দেব এবং ১১ জুন প্রকাশ চিক বরাইকও ইস্তফা দেন। সেই শূন্য পদগুলিতেই আগামী ২৪ জুলাই উপনির্বাচন হবে।

নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, মনোনয়ন জমার শেষ দিন ১৪ জুলাই। ১৫ জুলাই মনোনয়নপত্র পরীক্ষা করা হবে। ১৭ জুলাই পর্যন্ত মনোনয়ন প্রত্যাহারের সুযোগ থাকবে। ২৪ জুলাই সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টে পর্যন্ত ভোটগ্রহণ হবে। বর্তমান বিধানসভার সংখ্যাতত্ত্ব অনুযায়ী, এই তিনটি আসনেই বিজেপির প্রার্থীদের জয় সময়ের অপেক্ষা বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

Related posts

Leave a Comment