July 13, 2026
রাজ্য

আইনজীবী হেনস্থা মামলায় কুণাল ঘোষ-সহ অভিযুক্তদের জরিমানা, কড়া বার্তা কলকাতা হাইকোর্টের

প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র

সংবাদ কলকাতা: আদালত চত্বরে আইনজীবীদের চেম্বার ঘেরাও এবং হেনস্থার ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুতর বলে মনে করে কড়া পদক্ষেপ করল কলকাতা হাইকোর্ট। আদালতের মর্যাদা, আইনজীবীদের নিরাপত্তা এবং বিচারব্যবস্থার স্বাধীনতা রক্ষার স্বার্থে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা গ্রহণের পর এবার কুণাল ঘোষ-সহ অভিযুক্তদের প্রত্যেককে দুই হাজার টাকা করে জরিমানা করার নির্দেশ দিল তিন বিচারপতির বিশেষ বেঞ্চ।

বিচারপতি অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়, বিচারপতি সব্যসাচী ভট্টাচার্য এবং বিচারপতি রাজর্ষি ভরদ্বাজের সমন্বয়ে গঠিত বিশেষ বেঞ্চ এই নির্দেশ দেয়। আদালত জানিয়ে দিয়েছে, বিচারপ্রক্রিয়া চলাকালীন আইনজীবীদের ভয় দেখানো, ঘেরাও করা বা হেনস্থা করার মতো ঘটনা কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।

ঘটনার সূত্রপাত এসএসসির শারীরশিক্ষা ও কর্মশিক্ষা বিভাগে অতিরিক্ত শূন্যপদ সৃষ্টি করে নিয়োগের অভিযোগ সংক্রান্ত একটি মামলাকে ঘিরে। ওই মামলায় আইনজীবী ফিরদৌস শামিম আবেদন করেছিলেন। শুনানির সময় প্রবীণ আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য আদালতে চাকরিপ্রার্থীদের একাংশের বিরুদ্ধে সওয়াল করেন।

শুনানির সময় বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু পর্যবেক্ষণে বলেন, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী তদন্তের বিষয় থাকলেও অতিরিক্ত শূন্যপদ কার নির্দেশে তৈরি করা হয়েছিল, সেই বিষয়ে রাজ্যকে লিখিতভাবে ব্যাখ্যা দিতে হবে।

এই পর্যবেক্ষণের পর ক্ষুব্ধ হয়ে উচ্চ প্রাথমিকের চাকরিপ্রার্থীদের একাংশ বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের চেম্বারের সামনে বিক্ষোভ দেখান। অভিযোগ, শুধু বিক্ষোভেই থেমে থাকেননি তাঁরা, প্রবীণ আইনজীবী এবং মামলার সঙ্গে যুক্ত অন্য আইনজীবীদেরও হেনস্থা করা হয়। এমনকি বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসুর সঙ্গে বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের যোগসাজশ রয়েছে বলেও অভিযোগ তোলা হয়েছিল।

ঘটনার পর আইনজীবীদের একাংশ তীব্র প্রতিবাদে সরব হন। বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য ও ফিরদৌস শামিমের নেতৃত্বে কলকাতা হাইকোর্ট চত্বরে প্রতিবাদ মিছিলও অনুষ্ঠিত হয়। আইনজীবীদের দাবি ছিল, আদালত প্রাঙ্গণে এই ধরনের ঘটনা বিচারব্যবস্থার ওপর সরাসরি আঘাত এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

সেই প্রেক্ষিতেই কলকাতা হাইকোর্ট স্বতঃপ্রণোদিত মামলা গ্রহণ করে। মামলার গুরুত্ব বিবেচনায় তিন বিচারপতির বিশেষ বেঞ্চ গঠন করা হয়। শুনানি শেষে বেঞ্চ কুণাল ঘোষ-সহ ঘটনায় জড়িত শিক্ষক-চাকরিপ্রার্থীদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে দুই হাজার টাকা করে আর্থিক জরিমানা ধার্য করেছে। আদালতের পর্যবেক্ষণ, বিচারব্যবস্থার স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখতে আদালত চত্বরে কোনও ধরনের ভয়ভীতি বা হেনস্থা বরদাস্ত করা হবে না।

Related posts

Leave a Comment