কলকাতা — রাজ্যের বিভিন্ন পুরসভা এলাকায় নাগরিক পরিষেবা নিয়ে সাধারণ মানুষের অভিযোগ সরাসরি শুনতে নতুন উদ্যোগ নিল পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তর। মঙ্গলবার থেকে শুরু হল পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের জনসংযোগ কর্মসূচি ‘মুখোমুখি’। প্রথম দিনেই কলকাতা-সহ বিভিন্ন জেলার পুরসভা এলাকা থেকে জল, আবর্জনা, জমা জল, সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের বকেয়া এবং জমি সংক্রান্ত একাধিক অভিযোগ জমা পড়ে।
দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, কর্মসূচির প্রথম দিন কলকাতা পুরসভা এলাকা থেকেই পাঁচটি ফোন আসে। এছাড়াও রাজ্যের বিভিন্ন পুরসভা এলাকার বাসিন্দারাও ফোন করে তাঁদের সমস্যার কথা জানান। কলকাতা পুরসভার ৭০ নম্বর ওয়ার্ডে ঠিকা জমি সংক্রান্ত জটিলতা এবং ১০৮ নম্বর ওয়ার্ডে দীর্ঘদিন ধরে যত্রতত্র আবর্জনা জমে থাকার অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
শুধু কলকাতাই নয়, একাধিক জেলা থেকেও ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ এবং বিধবা ভাতার টাকা না পাওয়ার অভিযোগ ওঠে। এই বিষয়ে অভিযোগকারীদের সংশ্লিষ্ট ব্লক উন্নয়ন আধিকারিক (বিডিও)-এর সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন পুরমন্ত্রী। একই সঙ্গে দপ্তরের পক্ষ থেকেও বিষয়গুলি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের আশ্বাস দেওয়া হয়।
প্রথম দিনের এই কর্মসূচিতে পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন কলকাতা পুরসভার কমিশনার স্মিতা পাণ্ডে, পুরসচিব খলিল আহমেদ-সহ দপ্তরের শীর্ষ আধিকারিকরা। নাগরিকদের কাছ থেকে অভিযোগ পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের দ্রুত সমস্যা সমাধানের নির্দেশ দেন মন্ত্রী।
তবে কর্মসূচির শুরুতেই প্রযুক্তিগত সমস্যার মুখে পড়তে হয় দপ্তরকে। নির্ধারিত ফোন নম্বরে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ায় কিছু সময়ের জন্য অভিযোগ গ্রহণে বিঘ্ন ঘটে। পরে পুর দপ্তরের সরকারি হেল্পলাইন নম্বরের মাধ্যমে ফোন গ্রহণের ব্যবস্থা চালু করা হয় এবং অভিযোগ শোনার কাজ ফের শুরু হয়।
দপ্তর জানিয়েছে, আগামী বৃহস্পতিবার থেকে এই কর্মসূচির জন্য একটি নতুন ফোন নম্বর চালু করা হবে। সেদিন মূলত আসানসোল পুরনিগম এলাকার নাগরিকদের অভিযোগ শুনবেন পুরমন্ত্রী। সপ্তাহের প্রতি মঙ্গলবার, বৃহস্পতিবার এবং শনিবার নিয়মিতভাবে ‘মুখোমুখি’ কর্মসূচির আয়োজন করা হবে।
জল, আলো, রাস্তা, নিকাশি, পার্ক, আবর্জনা অপসারণ-সহ পুর পরিষেবা সংক্রান্ত যে কোনও সমস্যা নিয়ে সাধারণ মানুষ সরাসরি ফোনে তাঁদের অভিযোগ জানাতে পারবেন। কর্মসূচি সম্পর্কে পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, ‘নাগরিকদের অভাব-অভিযোগ সরাসরি জানতে এবং দ্রুত তার স্থায়ী সমাধান করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফোনে কেউ অভিযোগ জানালেই বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
