খড়্গপুর — প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিজের দলের এক কর্মীকে চড় মারার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক তরজা আরও তীব্র হল। রবিবার সকালে খড়্গপুরে ‘চা চক্র’ কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ দাবি করেন, রাজনৈতিক হতাশার কারণেই মমতা ওই আচরণ করেছেন। তাঁর অভিযোগ, কালীঘাট তৃণমূলে সমর্থন কমে যাওয়ায় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানসিকভাবে চাপে রয়েছেন।
দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘কালীঘাট আগেই ফাঁকা হয়ে গিয়েছে। তাতেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এত হতাশ, নিরাশ হয়ে পড়েছেন। সে দিন নিজের দলের কর্মীকেই চড় মারছেন। এটা চরম হতাশার নিদর্শন। ক্ষমতা চলে গেলে মানুষের কী হয়, সেটা ওঁকে দেখলেই বোঝা যায়।’
গত ৮ জুলাই প্রতিবাদ কর্মসূচির সময় নিজের দলের এক কর্মীকে চড় মারার অভিযোগ ওঠে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, বালিগঞ্জ ফাঁড়ি থেকে হাজরা মোড় পর্যন্ত মিছিলের পর আহত কর্মীদের হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করতে গিয়ে তিনি উত্তেজিত হয়ে পড়েন। সেই সময় এক কর্মীকে সপাটে চড় মারেন এবং ভিড় সামলাতে গিয়ে আরও কয়েক জনকে ধাক্কা ও আঘাত করেন বলে অভিযোগ।
এই ঘটনাকে ঘিরেই রবিবার প্রতিক্রিয়া দেন দিলীপ ঘোষ। তাঁর দাবি, কালীঘাট তৃণমূল ছেড়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে একের পর এক নেতা-কর্মী যোগ দেওয়ায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হতাশ হয়ে এমন আচরণ করেছেন।
পূর্বতন তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধেও দুর্নীতির অভিযোগ তোলেন দিলীপ ঘোষ। যদিও সেই অভিযোগের পক্ষে তিনি এদিন কোনও নির্দিষ্ট তথ্য বা প্রমাণ তুলে ধরেননি।
শনিবার বীরভূমের তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডল ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে যোগ দেওয়ার প্রসঙ্গও ওঠে সাংবাদিকদের প্রশ্নে। জবাবে দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘তৃণমূলে কে কার সঙ্গে যাচ্ছে, আজ এক দিকে, কাল আর এক দিকে—ওটা ওদের দলের অভ্যন্তরীণ বিষয়।’
বিধানসভায় কোন গোষ্ঠী বিরোধী দলের দায়িত্ব পালন করবে, সেই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘কোন শিবির ঠিক, সেটা আমাদের ভাবনার বিষয় নয়। বিষয়টি স্পিকারের নজরে রয়েছে। আদালতেও গিয়েছে। তহবিল, কার্যালয় কিংবা কোন সাংসদ বা বিধায়ক কোন গোষ্ঠীতে যাবেন, তা তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়। বিধানসভায় যে গোষ্ঠী সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করবে, তারাই বিরোধী দলের দায়িত্ব পালন করবে—আমরা সেটাই চাই।’
