বারুইপুর— বারুইপুরের সূর্যপুরে নির্যাতিতা নাবালিকার পরিবারের নিরাপত্তার দাবিতে দ্রুত পদক্ষেপ করল রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর আশ্বাসের মাত্র চার দিনের মধ্যেই তৈরি হয়ে গেল নতুন পুলিশ ফাঁড়ি। শনিবার নিজেই সূর্যপুরে গিয়ে এই পুলিশ ফাঁড়ির উদ্বোধন করবেন মুখ্যমন্ত্রী।
গত মঙ্গলবার বারুইপুরে গিয়ে নির্যাতিতা নাবালিকার পরিবারের সঙ্গে দেখা করেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। সেই সময় পরিবারের সদস্যরা এলাকায় স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি তৈরির দাবি জানান। মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের আশ্বস্ত করে বলেন, নিরাপত্তা জোরদার করতে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি রাজ্য পুলিশের ডিজি এবং স্বরাষ্ট্রসচিবকে বিষয়টি জানিয়ে প্রয়োজনে ভাড়াবাড়িতেও পুলিশ ফাঁড়ি চালুর নির্দেশ দেন। এরপরই প্রশাসন দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে ফাঁড়ি তৈরির কাজ সম্পূর্ণ করে।
সূত্রের খবর, শনিবার সকাল সাড়ে ১১টা নাগাদ সূর্যপুরে পৌঁছবেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রায় ৪৫ মিনিটের কর্মসূচিতে প্রথমে তিনি নির্যাতিতা নাবালিকার পরিবারের সঙ্গে দেখা করবেন। এরপর গণপিটুনিতে নিহত ইন্দ্রজিৎ মণ্ডলের বাড়িতেও যাবেন। পরে নতুন পুলিশ ফাঁড়ির উদ্বোধন করে কলকাতায় ফিরবেন।
বর্তমানে সূর্যপুরে একটি অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প থাকলেও সেখানে অভিযোগ দায়েরের সুযোগ ছিল না। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ জানাতে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে বারুইপুর থানায় যেতে হত। নতুন পুলিশ ফাঁড়ি চালু হলে এলাকার মানুষ সরাসরি সেখানেই অভিযোগ জমা দিতে পারবেন। প্রাথমিক তদন্ত, পুলিশি নথিভুক্তকরণ এবং জরুরি পরিষেবাও স্থানীয় স্তরেই পাওয়া যাবে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নতুন ফাঁড়িতে বর্তমান ক্যাম্পের তুলনায় বেশি সংখ্যক পুলিশ আধিকারিক ও কর্মী মোতায়েন করা হবে। এর ফলে এলাকায় নিয়মিত টহলদারি, অপরাধ দমন এবং দ্রুত পুলিশি পরিষেবা আরও কার্যকর হবে বলে প্রশাসনের আশা।
এদিকে, নাবালিকার ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় তদন্তও দ্রুত এগোচ্ছে। এই মামলায় ধৃত মূল অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডল পুলিশের এনকাউন্টারে নিহত হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। পুলিশের দাবি, ঘটনার পুনর্নির্মাণের সময় সে পুলিশের অস্ত্র ছিনিয়ে পালানোর চেষ্টা করে এবং গুলি চালায়। আত্মরক্ষার্থে পুলিশের পাল্টা গুলিতে তার মৃত্যু হয়। মামলার বাকি অভিযুক্তরা বর্তমানে পুলিশি হেফাজতে রয়েছে।
এনকাউন্টারের ঘটনার তদন্তভার ইতিমধ্যেই রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ সিআইডির হাতে দেওয়া হয়েছে। ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের নিয়ে তদন্তকারী দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রমাণ সংগ্রহের কাজও শুরু করেছে। প্রশাসনের দাবি, নির্যাতিতা এবং গণপিটুনি—দুটি ঘটনারই নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
