দিল্লি, ৬ জুলাই— ভারতকেশরী ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে কলকাতার মিলন মেলা প্রাঙ্গণে আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যোগ দিয়ে তাঁকে শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। অন্য সরকারি কর্মসূচিতে ব্যস্ত থাকার কারণে অনুষ্ঠানে সশরীরে উপস্থিত থাকতে না পারায় তিনি দুঃখপ্রকাশ করেন। ভিডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রী জানান, প্রযুক্তির মাধ্যমে এই অনুষ্ঠানের অংশ হতে পেরে তিনি আনন্দিত।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের গর্ব এবং বাংলার কৃতী সন্তান ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে আজ গোটা দেশ শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছে। তাঁর কথায়, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের চিন্তাধারা, আদর্শ এবং দেশগঠনের ভাবনা আজও নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করছে। দেশের ঐক্য, উন্নয়ন এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষার ক্ষেত্রে তাঁর আদর্শ এখনও সমান প্রাসঙ্গিক বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
নরেন্দ্র মোদী বলেন, দৃঢ় ইচ্ছাশক্তি, স্পষ্ট লক্ষ্য এবং অটল সংকল্প থাকলেই সাফল্য অর্জন সম্ভব। তাঁর মতে, ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের সমগ্র জীবন সেই আদর্শেরই উজ্জ্বল উদাহরণ। দেশের প্রতি দায়বদ্ধতা এবং জাতীয় স্বার্থকে সর্বাগ্রে রাখার মানসিকতাই তাঁকে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছিল বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।
ভিডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘রাষ্ট্রবাদী সরকার হলে রাষ্ট্রনায়কদের যথাযথ সম্মান দেওয়া হয় এবং তাঁদের আদর্শ অনুসরণ করেই দেশ পরিচালিত হয়।’ তিনি জানান, গত দুই বছর ধরে সারা দেশে ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হচ্ছে।
ভারতীয় জন সঙ্ঘের প্রতিষ্ঠাতা ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জীবন ও কর্ম নিয়ে একটি মতামতমূলক নিবন্ধ লিখেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেই নিবন্ধে তিনি শিক্ষাবিদ, রাজনীতিক, মন্ত্রী এবং সমাজচিন্তক হিসেবে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের বহুমুখী অবদানের কথা তুলে ধরেছেন। একই সঙ্গে দেশের ঐক্য ও অখণ্ডতা রক্ষায় তাঁর ভূমিকার প্রশংসা করেছেন প্রধানমন্ত্রী।
সমাজমাধ্যমে করা এক বার্তায় প্রধানমন্ত্রী জানান, তাঁর নিবন্ধে ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসামান্য অবদান তুলে ধরা হয়েছে। বিশেষ করে দেশের ঐক্য সুদৃঢ় করতে তাঁর নিরলস প্রচেষ্টার কথাও উল্লেখ করেছেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০১৯ সালে জম্মু ও কাশ্মীর থেকে ৩৭০ এবং ৩৫(এ) ধারা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের আদর্শ ও লক্ষ্যের প্রতি যথার্থ শ্রদ্ধার্ঘ্য। তাঁর মতে, এই সিদ্ধান্ত দেশের সাংবিধানিক ঐক্যকে আরও শক্তিশালী করেছে।
ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় স্বাধীনতার পর দেশের রাজনীতি, শিক্ষা ও জনজীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বকনিষ্ঠ উপাচার্যদের অন্যতম ছিলেন। স্বাধীন ভারতের প্রথম কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভাতেও দায়িত্ব পালন করেন। পরে ভারতীয় জন সঙ্ঘ প্রতিষ্ঠা করে দেশের রাজনৈতিক পরিসরে নতুন দিশা দেখান।
প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলেও নতুন করে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের আদর্শ ও অবদান নিয়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ২০ জুন পশ্চিমবঙ্গ দিবস পালন এবং ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে এই বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এই উদ্যোগ বাংলার গৌরবময় ইতিহাস ও কৃতী ব্যক্তিত্বদের স্মরণ করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
