রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিকাঠামোয় বড় বিনিয়োগের ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, আদানি গোষ্ঠী নিউ টাউনে ২০০০ শয্যার একটি অত্যাধুনিক হাসপাতাল তৈরি করবে। এর মধ্যে ১০০০টি শয্যা দরিদ্র মানুষের জন্য সংরক্ষিত থাকবে, আর বাকি ১০০০টি শয্যা বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করা হবে। নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর এটিকে স্বাস্থ্যক্ষেত্রে অন্যতম বড় বেসরকারি বিনিয়োগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
শনিবার ভবানীপুরে নিজের বিধানসভা কেন্দ্রের নাগরিক সমাজের সঙ্গে এক আলোচনাচক্রে যোগ দেন মুখ্যমন্ত্রী। আলিপুর নাগরিক সমিতি আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে শিল্পপতি ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতেই তিনি এই ঘোষণা করেন। গত দু’মাসে রাজ্য সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরতে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, আদানি গোষ্ঠী ইতিমধ্যেই লিখিতভাবে নিউ টাউনে ২০০০ শয্যার হাসপাতাল তৈরির প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
এর আগে পূর্বতন সরকারের আমলে তাজপুরে গভীর সমুদ্র বন্দর প্রকল্পে বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছিল আদানি গোষ্ঠী। তবে সেই প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়নি। এবার স্বাস্থ্যক্ষেত্রে বিনিয়োগের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গে নতুন করে নিজেদের উপস্থিতি গড়তে চলেছে সংস্থাটি বলে মনে করা হচ্ছে।
সিঙ্গুর থেকে টাটা গোষ্ঠীর সরে যাওয়ার পর গত দেড় দশকে রাজ্যে বড় শিল্প বিনিয়োগের অভাব ছিল। সেই পরিস্থিতি বদলাতেই শুরু থেকেই উদ্যোগী হয়েছে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন সরকার। মুখ্যমন্ত্রী জানান, শিল্প ও বিনিয়োগ বাড়াতে সরকার ইতিমধ্যেই একাধিক নীতিগত পরিবর্তন করেছে এবং আগামী দিনে আরও সুবিধা দেওয়া হবে।
শিল্পপতিদের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, পশ্চিমবঙ্গে বিনিয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো ও সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। তিনি বিনিয়োগকারীদের নির্দিষ্ট প্রকল্প নিয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান এবং জমি, অনুমোদন কিংবা প্রশাসনিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে সরকার পাশে থাকবে বলে আশ্বাস দেন। পাশাপাশি শিল্পোন্নয়ন নিগম ও শিল্প দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করারও পরামর্শ দেন।
আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির বিষয়েও জোর দেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, বিনিয়োগের জন্য সবচেয়ে জরুরি বিষয় হল নিরাপদ পরিবেশ। পূর্ববর্তী সরকারের আমলে সিন্ডিকেটরাজ ও গুন্ডা ট্যাক্সের কারণে শিল্পের ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ করে তিনি জানান, বর্তমান সরকার শিল্পের পথে কোনও বাধা বরদাস্ত করবে না এবং বিনিয়োগকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।
এদিন বিশ্ব বাংলা বাণিজ্য সম্মেলন নিয়েও প্রশ্ন তোলেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, বিপুল অর্থ ব্যয় করে বিনিয়োগের যে প্রতিশ্রুতি দেখানো হয়েছিল, বাস্তবে তার সামান্য অংশই কার্যকর হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি রাজ্যের ঋণের বোঝার কথাও উল্লেখ করেন। তবে সেই পরিস্থিতির মধ্যেও শিল্পবান্ধব নীতি, সিঙ্গল উইন্ডো ব্যবস্থা, জমি সংক্রান্ত সুবিধা এবং ১০০ কোটির বেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য দ্রুত লাইসেন্স প্রক্রিয়ার মতো একাধিক পদক্ষেপ বাজেটে রাখা হয়েছে বলে জানান। আগামী বাজেটে শিল্প ও বিনিয়োগ আকর্ষণে আরও বড় উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেন মুখ্যমন্ত্রী।
