34.7 C
Kolkata
July 4, 2026
রাজ্য

তৃণমূলের সব পদ ছাড়লেন চন্দ্রিমা, বললেন ‘বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে’

মেট্রোপলিটন ভবন বিতর্কের পরেই ইস্তফা
মেট্রোপলিটন ভবনের দলীয় কার্যালয় দখলকে কেন্দ্র করে তৃণমূলের দুই শিবিরের টানাপোড়েনের আবহে দলের সব পদ থেকে ইস্তফা দিলেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে লেখা চিঠিতে তিনি জানিয়েছেন, দলের রাজ্য সভানেত্রী-সহ সমস্ত সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন। একইসঙ্গে তৃণমূল ও তার শাখা সংগঠনগুলির ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সিগনেটরি এবং নির্বাচন কমিশনে দলের প্রতিনিধির দায়িত্বও ছেড়ে দিয়েছেন তিনি।

চন্দ্রিমা জানিয়েছেন, কারও বিরুদ্ধে তাঁর কোনও অভিযোগ নেই। তবে তাঁর বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় ওই পদে থাকা তাঁর পক্ষে আর সম্ভব নয়। সূত্রের খবর, শুক্রবার মেট্রোপলিটন ভবনকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া বিতর্কে চন্দ্রিমার ভূমিকা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এরপরই তিনি ইস্তফার সিদ্ধান্ত নেন।

বিধানসভায় ঋতব্রতর ঘরে গেলেও জল্পনা উড়িয়ে দিলেন

ইস্তফার পর চন্দ্রিমাকে বিধানসভায় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘরে দেখা যায়। যদিও তিনি স্পষ্ট জানান, ঋতব্রতদের শিবিরে যোগ দিচ্ছেন না। তাঁর দাবি, অবসরভাতা সংক্রান্ত বিষয়ে খোঁজ নিতেই সেখানে গিয়েছিলেন।

চন্দ্রিমা জানান, শুক্রবার মেট্রোপলিটন ভবনের ঘটনার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে ফোন করে অভিযোগ করেন যে তিনি নাকি ঋতব্রতপন্থীদের হাতে ভবন তুলে দিয়েছেন। এই অভিযোগের মাধ্যমেই তাঁর আনুগত্য ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে বলে মনে করছেন তিনি।

রাজনৈতিক চাপানউতোর

ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় কটাক্ষ করে বলেন, ‘প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানির’ সংস্কৃতির কারণে অনেকেই আর সেখানে থাকতে চাইছেন না। অন্যদিকে কুণাল ঘোষ বলেন, দলের সভানেত্রী হিসেবে চন্দ্রিমার আরও কিছুক্ষণ পার্টি অফিসে থাকা উচিত ছিল। তিনি অভিযোগ করেন, অন্য নেতারা অনুরোধ করলেও চন্দ্রিমা সেখান থেকে বেরিয়ে যান, যা তাঁর পদমর্যাদার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ ছিল না।

চন্দ্রিমা অবশ্য বারবারই জানিয়েছেন, তিনি কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ করছেন না। তাঁর কথায়, ‘আমি হয়তো কোথাও ব্যর্থ হয়েছি।’ তিনি দল ছাড়ছেন কি না, সেই প্রশ্নেরও সরাসরি উত্তর দেননি। শুধু বলেছেন, বিষয়টি এখনও বিচারাধীন।

Related posts

Leave a Comment