জোধপুর— প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী শনিবার জোধপুর বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনাল ভবনের উদ্বোধন করেন। একই সঙ্গে তিনি সংশোধিত উড়ান প্রকল্পেরও সূচনা করেন। রাজস্থায় প্রায় ১.০৬ লক্ষ কোটি টাকার বিভিন্ন পরিকাঠামো প্রকল্পের উদ্বোধন, শিলান্যাস ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের কর্মসূচির সূচনা হল এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে। পরে তাঁর গুজরাতে গিয়ে সেমিকন্ডাক্টর প্রকল্পের উদ্বোধনেরও কর্মসূচি রয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী ভজনলাল শর্মা। নতুন টার্মিনাল ভবনটি প্রায় ৪৮০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয়েছে। প্রায় ২৩ হাজার বর্গমিটার আয়তনের এই টার্মিনাল বছরে প্রায় ২০ লক্ষ যাত্রীকে পরিষেবা দিতে সক্ষম হবে বলে জানিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর।
নতুন টার্মিনালের নকশায় রাজস্থানের ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্যশৈলীর ছাপ রাখা হয়েছে। ঝরোখা, খিলান এবং স্থানীয় শিল্পরীতির সঙ্গে আধুনিক বিমানবন্দর পরিষেবার সমন্বয় ঘটানো হয়েছে। পাশাপাশি শক্তি সাশ্রয়, জল সংরক্ষণ এবং পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে ভবনটিকে উচ্চমানের সবুজ পরিকাঠামো হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে। সরকারের আশা, এই বিমানবন্দর রাজস্থায় পর্যটন, বাণিজ্য এবং কর্মসংস্থানের প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।
এদিন প্রধানমন্ত্রী সংশোধিত উড়ান প্রকল্পও চালু করেন। আগামী ১০ বছরে এই প্রকল্পে প্রায় ২৮ হাজার ৮৪০ কোটি টাকা বিনিয়োগের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। দেশের ছোট শহর ও প্রত্যন্ত এলাকার সঙ্গে বিমান যোগাযোগ আরও শক্তিশালী করা এবং সাধারণ মানুষের কাছে বিমানযাত্রা সহজলভ্য করাই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।
দিনের দ্বিতীয় পর্বে বালোত্রায় প্রায় ১.০৬ লক্ষ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস করবেন প্রধানমন্ত্রী। এর মধ্যে অন্যতম জয়পুর মেট্রোর দ্বিতীয় পর্যায়ের প্রকল্প। প্রায় ১৩ হাজার ৩৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ৪১ কিলোমিটার দীর্ঘ উত্তর-দক্ষিণ করিডর নির্মাণ করা হবে। এই করিডরে মোট ৩৬টি স্টেশন থাকবে এবং জয়পুর বিমানবন্দর, রেলস্টেশন, শিল্পাঞ্চল, হাসপাতাল-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ এলাকার যোগাযোগ আরও উন্নত হবে।
রাজস্থান সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী গুজরাতের সানন্দে যাবেন। সেখানে ভারত সেমিকন্ডাক্টর মিশনের আওতায় ৭ হাজার ৫০০ কোটিরও বেশি টাকা বিনিয়োগে গড়ে ওঠা সিজি সেমির আউটসোর্সড সেমিকন্ডাক্টর অ্যাসেম্বলি ও টেস্টিং কেন্দ্রের উদ্বোধন করবেন। এই কেন্দ্রে সেমিকন্ডাক্টর সংযোজন, পরীক্ষা, প্যাকেজ নকশা, ত্রুটি বিশ্লেষণ এবং অন্যান্য প্রযুক্তিগত পরিষেবা দেওয়া হবে।
