July 3, 2026
রাজ্য

জমির খতিয়ান ও দাগের তথ্য এবার সম্পূর্ণ বিনামূল্যে, বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর

কলকাতা — রাজ্যের সাধারণ মানুষ, কৃষক এবং জমির মালিকদের জন্য বড় স্বস্তির ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এবার থেকে অনলাইনে জমির খতিয়ান বা ‘রেকর্ড অব রাইটস’ এবং দাগের তথ্য ডাউনলোড করতে কোনও ধরনের আবেদন ফি বা অনুসন্ধান ফি দিতে হবে না। পূর্ববর্তী ব্যবস্থায় এই পরিষেবার জন্য যে অর্থ নেওয়া হত, তা সম্পূর্ণ মকুব করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার।

সামাজিক মাধ্যমে সরকারি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, সরকারি পরিষেবাকে আরও স্বচ্ছ, সহজ এবং সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, ‘আপনার জমি, আপনার অধিকার, আপনার তথ্য এখন থেকে মাত্র এক ক্লিকের আওতায়।’

সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ১৯৫৫ সালের ‘পশ্চিমবঙ্গ ভূমি সংস্কার আইন’-এর ৫৭ নম্বর ধারার আওতায় ‘বেঙ্গল রেকর্ডস ম্যানুয়াল, ১৯৪৩’-এর ৩২০-এইচ এবং ৩২০-আই বিধিতে সংশোধনের অনুমোদন দিয়েছেন রাজ্যপাল। অর্থ দপ্তরের সম্মতির পর নতুন নিয়ম অবিলম্বে কার্যকর হয়েছে।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এখন থেকে যে কোনও নাগরিক অনলাইনে জমির খতিয়ান বা ব্যক্তিগত ‘রেকর্ড অব রাইটস’ এবং দাগের তথ্যের ডিজিটালি স্বাক্ষরিত সফট কপি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ডাউনলোড করতে পারবেন। নথির পাতার সংখ্যা যতই হোক না কেন, অনলাইন আবেদন বা ডিজিটাল নথি পাওয়ার জন্য কোনও আবেদন ফি বা প্রমাণীকরণ ফি দিতে হবে না।

সরকারের মতে, এই সিদ্ধান্তে সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবেন রাজ্যের কৃষক এবং গ্রামীণ এলাকার জমির মালিকরা। জমির নথি সংগ্রহে আর অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হবে না। একই সঙ্গে দালালচক্রের দৌরাত্ম্য কমবে এবং সরকারি পরিষেবা আরও দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে মানুষের কাছে পৌঁছাবে।

তবে নবান্নের বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে, বিনামূল্যের এই সুবিধা শুধুমাত্র অনলাইনে ডাউনলোড করা ডিজিটাল নথির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। জমি রেজিস্ট্রি বা অন্য সরকারি প্রয়োজনে যদি কোনও ব্যক্তি প্রত্যয়িত হার্ড কপি সংগ্রহ করতে চান, তাহলে সেই ক্ষেত্রে প্রচলিত সরকারি ফি আগের মতোই বহাল থাকবে।

ভূমি পরিষেবাকে আরও আধুনিক ও কার্যকর করতে রাজ্যের সমস্ত পুরসভা এলাকা, নোটিফায়েড অঞ্চল, উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এবং তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র সংলগ্ন টাউনশিপকে ‘জোন এ’ এবং অন্যান্য গ্রামীণ ও মফস্বল এলাকাকে ‘জোন বি’ হিসেবে চিহ্নিত করে ডিজিটাল পরিকাঠামো আরও শক্তিশালী করার কাজও চলছে।

রাজ্য সরকারের দাবি, এই উদ্যোগের ফলে ভূমি সংক্রান্ত পরিষেবা আরও সহজলভ্য হবে, সাধারণ মানুষের আর্থিক সাশ্রয় হবে এবং ভূমি দপ্তরের কাজের স্বচ্ছতা ও গতি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।

Related posts

Leave a Comment