July 3, 2026
দেশ

কৃষকদের আরও বেশি সরকারি প্রকল্পের আওতায় আনার নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদবের

ভোপাল — কৃষকদের আয় বৃদ্ধি, চাষের খরচ কমানো এবং কৃষিকে আরও লাভজনক করে তুলতে সরকারি প্রকল্পগুলির সুবিধা সর্বাধিক সংখ্যক কৃষকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দিলেন মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব। শুক্রবার মন্ত্রালয়ে ‘কৃষক কল্যাণ বর্ষ–২০২৬’ কর্মসূচির অগ্রগতি পর্যালোচনা বৈঠকে তিনি আধিকারিকদের এই নির্দেশ দেন।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সরকারের কৃষি ও কৃষক কল্যাণমূলক প্রকল্পগুলির সাফল্য নির্ভর করবে কত দ্রুত এবং কত বেশি যোগ্য কৃষকের কাছে সেই সুবিধা পৌঁছে দেওয়া যায় তার উপর। তাই প্রতিটি প্রকল্পকে ‘মিশন মোড’-এ কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি স্পষ্ট করে জানান, সরাসরি কৃষকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাঁদের সরকারি প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে, যাতে কৃষি আরও লাভজনক পেশায় পরিণত হয়।

মোহন যাদব জল সংরক্ষণের উপরও বিশেষ জোর দেন। তিনি বলেন, কম জল লাগে এমন ফসলের চাষকে উৎসাহিত করতে হবে। পাশাপাশি প্রাকৃতিক ও জৈব চাষের প্রসার ঘটিয়ে পরিবেশবান্ধব কৃষি ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে যাওয়ার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন তিনি। কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদি টেকসই কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে আধিকারিকদের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশও দেন মুখ্যমন্ত্রী।

পশুপালন ও দুগ্ধশিল্পের উন্নয়ন নিয়েও বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, দুধ উৎপাদন বাড়াতে উন্নত প্রজাতির গরু কৃষকদের হাতে তুলে দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে বেসরকারি সংস্থার সহযোগিতা নেওয়ারও পরামর্শ দেন তিনি। পাশাপাশি গ্রামীণ এলাকায় আরও বেশি দুগ্ধ সংগ্রহ কেন্দ্র গড়ে তোলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে কৃষকদের অতিরিক্ত আয়ের সুযোগ তৈরি হয়।

সমবায় ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক করতে সমবায় সমিতিগুলির সমস্ত পরিষেবা দ্রুত ডিজিটাল করার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। একই সঙ্গে অনলাইন কৃষক ঋণ কার্ড পোর্টাল এবং ই-পাসবই পরিষেবা দ্রুত চালুর প্রস্তুতি সম্পন্ন করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে |

বৈঠকে ইন্দোরে অনুষ্ঠিত হতে চলা সবজি উৎসব এবং জলজ চাষ বিপণন বিষয়ক সিম্পোজিয়ামের প্রস্তুতিও পর্যালোচনা করা হয়। এই দুই কর্মসূচি সফলভাবে আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের নির্দেশ দেন মোহন যাদব |

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের কৃষিমন্ত্রী ঐদাল সিং কংশানা এবং বিভিন্ন দপ্তরের শীর্ষ আধিকারিকরা। তাঁরা ‘কৃষক কল্যাণ বর্ষ–২০২৬’ কর্মসূচির আওতায় প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি, বাজারের সঙ্গে কৃষকদের সংযোগ জোরদার এবং সরকারি প্রকল্পের কার্যকর বাস্তবায়ন নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে বিস্তারিত রিপোর্ট দেন।

Related posts

Leave a Comment