কলকাতা — পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার উদ্যোগে আয়োজিত বিধায়কদের দু’দিনের ওরিয়েন্টেশন শিবিরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বের প্রশংসা করলেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা। একই মঞ্চ থেকে শুভেন্দুও বামফ্রন্ট এবং তৃণমূলের শাসনকালের সমালোচনা করে নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির বার্তা দেন। তাঁর বক্তব্য, গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে সব দলের প্রতিনিধিদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
নিউটাউনের বিশ্ববাংলা কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত এই প্রশিক্ষণ শিবিরে উপস্থিত ছিলেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বসু, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের বিধায়করা। নবনির্বাচিত বিধায়কদের সংসদীয় কার্যপ্রণালি, আইন প্রণয়ন এবং গণতান্ত্রিক রীতিনীতি সম্পর্কে ধারণা দেওয়াই এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ওম বিড়লা বলেন, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর দূরদৃষ্টি এবং ইতিবাচক উদ্যোগের ফলেই এই ধরনের প্রশিক্ষণ শিবির আয়োজন সম্ভব হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে বিধায়কদের দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে এবং বিধানসভার কার্যক্রম আরও ফলপ্রসূ হবে। গণতন্ত্রে সুস্থ বিতর্ক ও গঠনমূলক আলোচনার গুরুত্বের উপরেও জোর দেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বক্তব্যের শুরুতে এই কর্মসূচি সফলভাবে আয়োজনের জন্য লোকসভার সচিবালয়, বিধানসভার কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানান। পরে তিনি বামফ্রন্ট এবং তৃণমূলের শাসনকালকে আক্রমণ করে বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে দলীয় কার্যালয় থেকেই প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সংস্কৃতি তৈরি হয়েছিল। তবে বর্তমান সরকার সেই ধারা থেকে বেরিয়ে গণতান্ত্রিক ও স্বচ্ছ প্রশাসনিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়।
বিরোধী বিধায়ক ও সাংসদদের প্রতি অতীতে যে আচরণ করা হয়েছে, তারও সমালোচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, আগের সরকারগুলির আমলে বিরোধী জনপ্রতিনিধিদের সরকারি কর্মসূচিতে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হতো না। এমনকি গুরুত্বপূর্ণ অধিবেশনের আগে বিরোধী দলনেতাকে একাধিকবার সাসপেন্ড করার ঘটনাও ঘটেছে বলে তিনি দাবি করেন।
সকল রাজনৈতিক দলের বিধায়কদের উদ্দেশে শুভেন্দুর বার্তা, মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করতে দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, প্রথমবার নির্বাচিত বিধায়কদের শেখার সুযোগ রয়েছে এবং এই প্রশিক্ষণ শিবির সেই অভিজ্ঞতা অর্জনের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। রাজ্যের উন্নয়নই সকলের একমাত্র লক্ষ্য হওয়া উচিত বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
প্রশিক্ষণ শিবিরে বিধানসভার কার্যপ্রণালি, আইন প্রণয়নের নিয়ম, কমিটির ভূমিকা এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের কার্যকারিতা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের বিভিন্ন অধিবেশনও অনুষ্ঠিত হয়। আগামী দিনেও এই ধরনের উদ্যোগ বিধানসভার কাজকে আরও কার্যকর করবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন উপস্থিত অতিথিরা।
