কলকাতা — হুগলির রিষড়ায় ২০২৩ সালের রামনবমী হিংসার ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া তৃণমূল কাউন্সিলর শাকির আলিকে দু’দিনের হেফাজতে চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)। বুধবার কলকাতার বিশেষ আদালতে এনআইএ দাবি করেছে, রামনবমীর অশান্তির ঘটনায় শাকির ছিলেন ‘মূল চক্রান্তকারী’। যদিও বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হলেও জেলে গিয়ে তাঁকে জেরা করতে কোনও আপত্তি নেই বলেও আদালতকে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।
২০২৩ সালের ২ এপ্রিল রিষড়ায় রামনবমীর শোভাযাত্রাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক অশান্তি ছড়িয়ে পড়েছিল। সেই ঘটনার তদন্তভার পরে এনআইএর হাতে যায়। দীর্ঘ তদন্তের পর মঙ্গলবার সকালে চার ভ্যান সিআরপিএফ নিয়ে রিষড়ার ৪ নম্বর ওয়ার্ডে শাকির আলির বাড়িতে তল্লাশি চালায় এনআইএ। এরপর তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। শাকির আলি তৃণমূলের প্রাক্তন সাংসদ অপরূপা পোদ্দারের স্বামী এবং রিষড়া পুরসভার কাউন্সিলর।
আদালতে এনআইএর আইনজীবী দাবি করেন, শাকির আলি এলাকায় প্রভাবশালী ব্যক্তি ছিলেন এবং রামনবমীর অশান্তিতে উস্কানি দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর সক্রিয় ভূমিকা ছিল। তদন্তকারী সংস্থা আদালতকে জানায়, শাকিরের বাড়ি থেকে ৩৬টি আগ্নেয়াস্ত্রের কার্তুজ উদ্ধার হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, ওই কার্তুজগুলি একাধিক ধরনের আগ্নেয়াস্ত্রের জন্য ব্যবহৃত হতে পারে। সেগুলি ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে।
শুনানির সময় বিচারক জানতে চান, তিন বছর পুরনো মামলায় এই মুহূর্তে কেন হেফাজতের প্রয়োজন। জবাবে এনআইএর আইনজীবী বলেন, এতদিন শাকিরকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি এবং তিনি তদন্তে সহযোগিতা করেননি। বর্তমান প্রশাসনের সহযোগিতায় তদন্ত এগোচ্ছে বলেও আদালতে দাবি করে এনআইএ।
মামলার তদন্তকারী আধিকারিক আদালতে জানান, তদন্তে সংগ্রহ করা সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গিয়েছে, অশান্তির সময় অধিকাংশ গাড়িতে হামলা হলেও একটি সাদা রঙের গাড়িতে কোনও হামলা হয়নি। তদন্তকারীদের দাবি, ওই গাড়িটি শাকির আলি ব্যবহার করতেন। পাশাপাশি অন্য সিসিটিভি ফুটেজে তাঁকে অশান্তিতে নেতৃত্ব দিতে দেখা গিয়েছে বলেও আদালতে জানানো হয়।
এনআইএ আরও দাবি করেছে, মামলায় কয়েক জন অভিযুক্তের ১৬৪ ধারায় আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে। তদন্তকারীদের বক্তব্য, রামনবমীর আগে একটি কমিউনিটি হলে ভোজসভার নামে বৈঠক করা হয়েছিল। সেখানে ইট, বোমা-সহ হামলার সরঞ্জাম মজুত করার পরিকল্পনা হয়। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, শাহরুখ নামে এক ব্যক্তিকে বোমা জোগাড়ের দায়িত্ব দিয়েছিলেন শাকির আলি।
অন্যদিকে শাকির আলির আইনজীবী এনআইএর সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, তিন বছর পর হঠাৎ গ্রেপ্তারের কোনও যৌক্তিকতা নেই। আদালতে তিনি বলেন, শাকির আলি অশান্তি থামাতে গিয়েছিলেন, কোনও হামলায় তাঁর প্রত্যক্ষ ভূমিকার প্রমাণ নেই। উদ্ধার হওয়া কার্তুজ বৈধভাবে কেনা হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি। পাশাপাশি শাকির গুরুতর অসুস্থ এবং নিয়মিত চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তাঁর আইনজীবী। তিনি জামিনের আবেদন জানিয়ে বলেন, তদন্তে সহযোগিতা করতে শাকির সবসময় প্রস্তুত।
মামলার শুনানি শেষে আদালত এনআইএর আবেদন এবং অভিযুক্তের বক্তব্য নথিভুক্ত করেছে। পরবর্তী নির্দেশের দিকে নজর রয়েছে তদন্তকারী সংস্থা এবং দুই পক্ষের আইনজীবীদের।
সেক্টরভিত্তিক তথ্য
- ঘটনাস্থল: রিষড়া, হুগলি
- মামলা: ২০২৩ সালের রামনবমী হিংসা
- অভিযুক্ত: তৃণমূল কাউন্সিলর শাকির আলি
- তদন্তকারী সংস্থা: জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)
- এনআইএর দাবি: শাকির ‘মূল চক্রান্তকারী’
- উদ্ধার: ৩৬টি আগ্নেয়াস্ত্রের কার্তুজ
- আদালতে আবেদন: দু’দিনের হেফাজত
- অভিযুক্তের দাবি: শান্তি ফেরাতেই ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন
