দিল্লি — রাজধানী দিল্লিতে শীতকালে বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে আরও কঠোর পদক্ষেপ করল রেখা গুপ্তার নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার। নতুন ‘উইন্টার পলিউশন মাস্টার প্ল্যান’ প্রকাশ করে একাধিক স্থায়ী বিধিনিষেধের ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী ১ নভেম্বর থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রতি বছর এই পরিকল্পনা কার্যকর থাকবে। একই সঙ্গে দূষণ কমাতে দূষণ নিয়ন্ত্রণ শংসাপত্রহীন যানবাহনের বিরুদ্ধে সারা বছরই কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তর সূত্রে জানানো হয়েছে, শীতকালে দূষণের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে নির্মাণ ও ভাঙার কাজের উপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করা হবে। আগামী ১ নভেম্বর থেকে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত দিল্লিজুড়ে সব ধরনের ভাঙা ও অসামরিক নির্মাণকাজ বন্ধ থাকবে। পাশাপাশি সরকারি ও বেসরকারি দপ্তরে ৫০ শতাংশ কর্মীকে বাড়ি থেকে কাজ করার ব্যবস্থা চালু করা হবে। একই সময়ে শহরে দ্বিগুণ পার্কিং ফি কার্যকর হবে, যাতে ব্যক্তিগত যানবাহনের ব্যবহার কমে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হিসেবে সরকার জানিয়েছে, বৈধ দূষণ নিয়ন্ত্রণ শংসাপত্র না থাকলে কোনও যানবাহনকে জ্বালানি দেওয়া হবে না। এই নিয়ম শুধু শীতকালেই নয়, সারা বছর কার্যকর থাকবে। সরকারের আশা, এই পদক্ষেপে দূষণ ছড়ানো যানবাহনের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য ভাবে কমবে।
মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা বলেন, দিল্লিকে দূষণমুক্ত ও সুস্থ শহর হিসেবে গড়ে তুলতে সরকারের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণও প্রয়োজন। পরিবেশ রক্ষার স্বার্থে প্রত্যেক নাগরিককে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করার আহ্বান জানান তিনি।
এর আগে চলতি সপ্তাহেই দিল্লি সরকার ‘দিল্লি বৈদ্যুতিক যান নীতি ২০২৬’ কার্যকর করেছে। ১ জুলাই থেকে চালু হওয়া এই নীতি ২০৩০ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। এই প্রকল্পে আগামী চার বছরে প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকা পরিকাঠামো উন্নয়নে বিনিয়োগ করবে সরকার। পাশাপাশি বৈদ্যুতিক যান ব্যবহারকারীদের জন্য প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকার করছাড় ও আর্থিক সুবিধার ঘোষণাও করা হয়েছে।
নতুন নীতি অনুযায়ী, ৩০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত মূল্যের বৈদ্যুতিক গাড়ির ক্ষেত্রে রোড ট্যাক্স ও নথিভুক্তিকরণ ফি সম্পূর্ণ মকুব করা হবে। ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে শুধুমাত্র বৈদ্যুতিক অটোরিকশারই নতুন নথিভুক্তিকরণ হবে। এছাড়া ২০২৮ সালের ১ এপ্রিল থেকে পেট্রল ও সিএনজি চালিত দু’চাকার যান ধাপে ধাপে বন্ধ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
সরকার জানিয়েছে, বৈদ্যুতিক দু’চাকার যান কেনার ক্ষেত্রে প্রথম বছরে ৩০ হাজার টাকা, দ্বিতীয় বছরে ২০ হাজার টাকা এবং তৃতীয় বছরে ১০ হাজার টাকা ভর্তুকি দেওয়া হবে। পাশাপাশি শহরজুড়ে প্রায় ৩২ হাজার বৈদ্যুতিক চার্জিং পয়েন্ট গড়ে তোলা হবে। বৈদ্যুতিক যান সংক্রান্ত সব ধরনের ভর্তুকির আবেদন গ্রহণের জন্য একটি পৃথক অনলাইন পোর্টালও চালু করা হবে।
দিল্লি সরকারের দাবি, দূষণ নিয়ন্ত্রণ, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং পরিবেশবান্ধব পরিবহণ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতেই এই ধারাবাহিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
সেক্টরভিত্তিক তথ্য
- রাজ্য: দিল্লি
- মূল ঘোষণা: ‘উইন্টার পলিউশন মাস্টার প্ল্যান’ কার্যকর
- কার্যকর সময়: প্রতি বছর ১ নভেম্বর থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি
- বড় সিদ্ধান্ত: বৈধ দূষণ নিয়ন্ত্রণ শংসাপত্র ছাড়া যানবাহনে জ্বালানি নয়
- নির্মাণকাজ: ১ নভেম্বর থেকে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত বন্ধ
- অতিরিক্ত ব্যবস্থা: ৫০ শতাংশ কর্মীর বাড়ি থেকে কাজ, দ্বিগুণ পার্কিং ফি
- বৈদ্যুতিক যান নীতি: ১ জুলাই ২০২৬ থেকে ৩১ মার্চ ২০৩০ পর্যন্ত কার্যকর
